পরিচারিকা থেকে দেশের প্রথম সুপারস্টার, বাঙালি এই অভিনেত্রী ছিলেন গোটা ভারতের গর্ব

পরিচারিকা থেকে দেশের প্রথম মহিলা সুপারস্টার হন এই বাঙালি নায়িকা, চেনেন তাকে?

All You Need To Know About Kanan Devi`s Life History : ষাটের দশকে টলিউড (Tollywood) মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছিল যাদের কাঁধের উপর ভর দিয়ে, তেমনই একজন অভিনেত্রী ছিলেন কানন দেবী (Kanan Devi)। তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী ছিলেন না। তার গানের গলাও ছিল অপূর্ব। একাধিক গুণের সমাবেশ হয়েছিল তার মধ্যে। কেবল পশ্চিমবঙ্গের নয়, তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা সুপারস্টার (India`s First Female Superstar)

কানন দেবীর ছোটবেলা

কানন দেবীর জন্ম হয়েছিল ১৯১৪-১৯১৬ সালের মধ্যে। তিনি তার পিতৃ পরিচয় জানতেন না। তার আত্মজীবনী ‘সবারে আমি নমি’ এবং মেখলা সেনগুপ্তের লেখা ‘কানন দেবী ‍: দা ফার্স্ট সুপারস্টার অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা’ বই দুটি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে রতনচন্দ্র দাস এবং রাজবালা দেবীকেই তিনি নিজের মা এবং বাবা বলে জানতেন। ছোট্ট বয়স থেকেই নিদারুণ অর্থকষ্টের মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি।

KANAN DEVI

সাংসারিক টানাপোড়েনের কারণে খুব ছোট বয়সে তাকে লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে যেতে হত। খিদের জ্বালা সইতে না পেরে তিনি এক আত্মীয়র বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছিলেন‌। কিন্তু সেখানেও অনেক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু এত কষ্টের মধ্যেও বই পড়তে এবং গান শুনতে খুব ভালবাসতেন কানন। মুখে পাউডার লাগিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি গানের তালে তালে নাচতেন।

কীভাবে অভিনয়ে এলেন কানন দেবী

তার অসাধারণ গানের গলা এবং রূপের কারণে ১৯২৬ সালে তিনি ম্যাডান থিয়েটারে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। ধীরে ধীরে ছবি দুনিয়া এবং গানের জগতে তার নাম হতে শুরু করে। পরে তিনি ওস্তাদ আলারাখা, পঙ্কজ মল্লিক, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, আখতারী বাই, ধীরেন্দ্র চন্দ্র মিত্র, দিলীপ রায়, নজরুল ইসলামের মত শিল্পীদের কাছে গান শেখার সুযোগ পান। তার গানের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল দিকবিদিকে।

KANAN DEVI

ওই সময় কানন দেবীর গান নিয়ে এত চর্চা হত যে তার নামডাক পৌঁছে দিয়েছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছেও। কবিগুরু নিজে শান্তিনিকেতনে এসে তাকে গান শোনানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ কানন দেবী রাখতে পারেননি। এই আক্ষেপ তিনি শেষ জীবন পর্যন্ত বয়ে নিয়ে বেরিয়েছিলেন।

KANAN DEVI

কানন দেবীর গান

কানন দেবী টলিউড ছবিতে অভিনয় করার পাশাপাশি বলিউডেও একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৪২ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জবাব’ নামের একটি ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি গানও গেয়েছিলেন। তার অভিনয় দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শকরা তেমনই তার গাওয়া গান ‘এ দুনিয়া হে তুফান মেল’ও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এর জন্য তিনি পেয়েছিলেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার।

KANAN DEBI

আরো পড়ুন : কেন অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন? আসল রহস্য ফাঁস করেন মেয়ে মুনমুন

১৯৪৩ সালের ছবি ‘শেষ উত্তর’-এ তার গাওয়া ‘আমি বনফুল গো’ (Ami Bonoful Go) তো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। টলিউডে উত্তম কুমার, ছবি বিশ্বাসের মত বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বলিউডেও পৃথ্বীরাজ কাপুর, অশোক কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তাকে ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা সুপারস্টার বলে গণ্য করা হয়।

আরো পড়ুন : মৃত্যুর আগে সুচিত্রাকে এই শেষকথা বলতে চেয়েছিলেন উত্তমকুমার, না শুনে আফসোস করতেন মহানায়িকা