আম্বানির থেকেও ধনী ছিলেন, এখন ভিখারির হাল! এই ভারতীয় ধনকুবেরের কাহিনী আপনাকে কাঁদিয়ে ছাড়বে

একটা ভুলে সব হারাতে হয়, এখন পস্তাচ্ছেন এই ভারতীয় ধনকুবের

রেডিমেড পোশাকের জগতে, বিশেষ করে পুরুষদের ফ্যাশন জগতে রেমন্ড একটি সুপরিচিত নাম। সংস্থার নামটির সঙ্গে আপনি সুপরিচিত হলেও এই সংস্থার মালিক কে আপনি কি জানেন? এই সংস্থাটিকে যিনি নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন তিনি হলেন বিজয়পত সিংহানিয়া। জানলে অবাক হয়ে যাবেন, এক সময় মুকেশ আম্বানির থেকেও বেশি সম্পত্তির মালিক বিজয়পত আজ থাকেন একটি ভাড়া বাড়িতে। কোন ভুল সিদ্ধান্তের ফলে আজ এই অবস্থা হল তার?

অর্থ প্রতিপত্তির লোভ এতটাই ভয়ানক যে এই লোভের বশবর্তী হয়ে আপনার খুব কাছের মানুষও কিন্তু আপনাকে ছেড়ে যেতে পারে। সন্তানকে নিজের জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার পর সম্পত্তির জন্য সেই সন্তানরাই যখন বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, তার থেকে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। মা-বাবার প্রতি সন্তানদের এই ব্যবহার আমরা দেখেছি সবরকম স্তরের মানুষের মধ্যেই। তেমনি একজন হতভাগ্য পিতা হলেন রেমন্ড কোম্পানির মালিক বিজয়পত সিংহানিয়া, যিনি একসময় কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হলেও শুধুমাত্র নিজের ভুলে আজ হয়েছেন পথের ভিখারী।

RAYMOND GROUP

সবই জানবো তবে তার আগে জেনে নিই কিভাবে তৈরি হয়েছিল রেমন্ড।আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ১৯০০ সালে, মহারাষ্ট্রের থানেতে একটি উলের মিল ছিল যেখানে তৈরি করা হতো কম্বল। ১৯২৫ সালে মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ী ওই মিলটি কিনে নেন কিন্তু পরবর্তীকালে ১৯৪০ সালে কৈলাসপত সিংহানিয়া মিলটি কিনে নিয়ে তার নাম দেন ওয়াদিয়া মিল। রাজস্থান থেকে কানপুরে আসা সিংহানিয়া পরিবার পরবর্তীকালে এই মিলের নাম রাখেন রেমন্ড মিল।

কৈলাস সিংহানিয়া ১৯৫৮ সালে মুম্বাইতে প্রথম রেমন্ড শোরুম খোলেন। ১৯৬০ সালে বিদেশী মেশিন আমদানি করে কাপড় তৈরি করতে শুরু করেন তিনি। ১৯৮০ সালে রেমন্ডের কম্যান্ড তুলে দেওয়া হয় বিজয়পতের হাতে। বিজয়পতের পরিচালনায় ব্যবসা আরও বেশি সাফল্য অর্জন করে। ১৯৮৬ সালে বিজয়পত এই ব্যবসার পাশাপাশি একটি পারফিউম ব্র্যান্ড চালু করেছিলেন, যার নাম দিয়েছিলেন পার্ক অ্যাভিনিউ। ১৯৯০ সালে ভারতের বাইরে প্রথম রেমন্ড শোরুম খুলেছিলেন তিনি। এরপরই তিনি নেন সেই সিদ্ধান্ত, যার ভুলের মাশুল তাকে দিতে হল আজীবন।

Vijaypat Singhania Life

আরও পড়ুন : কত টাকা বেতন পায় মুকেশ আম্বানি ও নীতা আম্বানি? শুনলে বিশ্বাস হবে না আপনার

২০১৫ সালে একমাত্র পুত্র গৌতম সিংহানিয়ার কাছে রেমন্ডের সমস্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করে দেন বিজয়পত। সমস্ত শেয়ার ছেলের নামে লিখে দেন তিনি। শেয়ারগুলির সেই সময় বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। অন্য পিতা মাতার মতই বিজয়পত ভেবেছিলেন কোম্পানির দায়ভার ছেলের হাতে তুলে দেওয়ার পর তিনি বার্ধক্য জীবন অবসরে কাটাবেন কিন্তু পরিস্থিতি হয়ে যায় উল্টো।

আরও পড়ুন : ৫০০০ কোটির ব্যবসা সন্তানদের দিয়ে অবসর নিচ্ছে মুকেশ আম্বানি, কে কত সম্পত্তি পেল?

Vijaypat Singhania Life

আরও পড়ুন : Mukesh Ambani সারাদিনে কি কি খান? দেখে নিন মুকেশ আম্বানির ডায়েট চার্ট

কোম্পানির সমস্ত দায়িত্ব লিখে নেওয়ার সাথে সাথে গৌতম বাবার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। মুম্বাইয়ের জেকে হাউস থেকে বিতাড়িত হয়ে আজ বিজয়পত দক্ষিণ মুম্বাইয়ের গ্র্যান্ড পারাদি সোসাইটির একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তিল তিল করে গড়ে তোলা সাম্রাজ্যের দায়িত্ব একমাত্র ছেলেকে লিখে দেওয়াই তার জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল, এ কথা বারবার স্বীকার করেন তিনি। জীবিত অবস্থায় যেন কেউ এমন ভুল না করে, সকলের কাছে এমনও আবেদন করেছেন ছেলে পরিতক্ত এই ৮০ বছরের বৃদ্ধ।

আরও পড়ুন : ড্রাইভার-রাঁধুনীদের কত বেতন দেন মুকেশ আম্বানি? জানলে প্রধানমন্ত্রীও লজ্জা পাবে