কোন মাস্ক কখন ও কীভাবে ব্যবহার করবেন, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

হাঁচি-কাশির সময় বা কথা বলার সময় আমাদের মুখ থেকে বেরোনো ড্রপলেট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আর এইভাবেই সংক্রমণ ছড়ায়। মাস্ক ব্যবহার করলে টিবি, করোনা হোক বা সাধারণ হাঁচি-কাশি-সর্দি, সব কিছু থেকেই সুরক্ষা পাওয়া যাবে। এছাড়াও পরিবেশের দূষণ থেকে রক্ষা মেলে। পোলেন অ্যালার্জি, ডাস্ট অ্যালার্জি, পরোক্ষ ধূমপান জনিত ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর জানিয়েছে, ঘরে তৈরি করা থ্রি লেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে বিপদের আশঙ্কা অনেক কমে যায়।

করোনা আসার পর থেকেই দুটি নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে সবসময়, বারবার হাত ধোয়া ও ৬ ফুটের দূরত্ব বজায় রাখা। এর মধ্যে মাস্ক ব্যবহার করা হয়ে উঠেছে অত্যাবশ্যক। এই নিয়ম গুলি মেনে চললে সংক্রমণের ভয় ৭০-৮০% কমে যায়।

কোন মাস্ক ব্যবহার করবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনু্যায়ী, ভিড় এলাকাতে ঘরের তৈরি কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার না করে ত্রিস্তরীয় মাস্ক স্যার্জিকাল ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে বয়স্কোদের জন্য মাস্ক ব্যবহার করা খুবই জরুরি। যেই সকল মাস্কের বাইরের স্তরে পলিয়েস্টার জাতীয় উপাদান, মাঝের স্তরে বুননহীন পলিপ্রপিলিন জাতীয় উপাদান এবং ভিতরের স্তরে সুতি থাকে, সেই সকল মাস্ক সব থেকে বেশি কার্যকর।

আরও পড়ুন : কোন বয়সের বাচ্চাদের মাস্ক পরতে হবে? নতুন গাইডলাইন দিল WHO

এই মাস্ক গুলি ভাইরাস থেকে ৯০% সুরক্ষা দিতে পারে। তবে মাস্ক ব্যবহার করলে বাড়ি ফেরার পর তা অবশ্যই ভালো করে সাবান জল দিয়ে ধুয়ে ফেলে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে এবং চার দিন অন্তর অন্তর করে তা ব্যবহার করতে হবে।

বাজারে বিক্রি হওয়া মাস্ক গুলির মধ্যে ভালব বিহীন N-95 মাস্ক সমান ভাবে কার্যকর। এই মাস্ক গুলি ভাইরাস থেকে প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তবে সাধারণ মানুষের এই মাস্ক ব্যবহার না করলেও চলবে। ফ্রন্ট লাইনে ভাইরাসের সাথে লড়াই করে চলা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এই মাস্কটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : দীর্ঘক্ষন মাস্ক ব্যাবহারের ফলে হচ্ছে চর্মরোগ, জানুন প্রতিকারের উপায়

কিন্তু এই মাস্কটি বেশিক্ষণ পরা যায় না। অনেকেই ভাবেন, দামী মাস্ক ব্যবহার করলে বেশি সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে ভুল। ভালব যুক্ত N-95 মাস্ক ব্যবহার করলে সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মাস্ক কখন ব্যবহার করবেন?

বাড়ির বাইরে বেরোলে অবশ্যই পড়তে হবে মাস্ক, বাজার হোক কি অফিস। বাড়িতে কেউ আসলেও মাস্ক পড়তে হবে। তবে ফাঁকা রাস্তায় একা থাকলে মাস্ক পড়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সঙ্গে রাখতে হবে কেউ কথা বললে পড়ে নিতে হবে। তবে অফিসে আলাদা রুমে থাকলে সব সময় মাস্ক পড়তে হবে না।

আরও পড়ুন : মাস্ক ব্যবহারের সময় এই ১০টি ভুল হিতে বিপরীত হতে পারে

এক্সারসাইজ করার সময় মাস্ক পড়বেন না। কারণ এতে শরীরে অক্সিজেনের অভাব ঘটতে পারে। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ, পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি, হাঁপানি বা আইএলডির মতো ক্রনিক ফুসফুসের অসুখ থাকলে মাস্ক সব সময় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তাই চেষ্টা করবেন মাস্ক সব সময় না থাকার।

আরও পড়ুন : ফেস শিল্ড পরলে মাস্ক পরতে হবে? কোনটি বেশী সুরক্ষিত?

যদি কোনো শিশুর হাঁপানি বা জন্মগত হার্টের অসুখ আছে তাদের মাস্ক পরানোর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় N-95 মাস্ক না পড়াই ভালো। অনেক সময় এই মাস্ক পড়লে চশমার কাচ ঝাপসা যায় ফলে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। তাই ফাঁকা রাস্তায় সাইকেল বা বাইক চালালে মাস্ক না পড়লেও হবে তাছাড়া কিন্তু ব্যবহার করতে হবে।

মাস্ক কীভাবে পড়বেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনু্যায়ী মাস্ক ব্যবহার করার সময়েও মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। মাস্ক পোড়ার আগে এবং খোলার পর হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। হালকা করে কোনমতে মাস্ক পড়লে হবে না, টাইট করে পড়তে হবে। তবে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হলে একটু হালকা করে পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন : মাস্কের উত্‍পত্তি কীভাবে হয়েছিল? জেনে নিন এক অজানা ইতিহাস

মাস্ক পড়ার পর মাস্কের সামনের ও ভিতরের অংশে হাত দেবেন না। কথা বলার সময়ও মাস্ক পড়ে থাকতে হবে। ডিসপোজেবল মাস্ক হলে তা এক বারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। মাস্ক খোলার সময়ে মাস্কের ফিতে ধরে খুলবেন। এবং বাড়িতে এসে মাস্ক অবশ্যই ভালো করে সাবান জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।