“ভ্যালেন্টাইন ডে” কি এবং কীভাবে শুরু হল, জেনে নিন সেই কাহিনী

ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি দিন ভালোবাসার দিন। এক মা তার সন্তানকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসতে পারে।যাকে আমরা ভালোবাসি তার সকল কাজকেই যে আমাদের ভালোবাসতে হবে তা কিন্তু নয়।ভালোবাসা একটা প্রতিশ্রুতি।সুখে দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার।আপদে ,বিপদে পাশে থাকার ভরসা জোগানো।যে তোমাকে ভালোবাসে সে তোমাকে সবসময় ভালো রাখার চেষ্টা করবে।আর তুমি যাকে ভালোবাসবে তাকে কখনোই তুমি হৃদয়ে আঘাত দিতে পারবে না।টিনেজ প্রেম অনেক বেশি আবেগপ্রবন।আর সংসারী মানুষের প্রেম অনেক বেশি বোঝাপড়া। তবুও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী আজকের এই দিনটি আমাদের কাছে একটু বিশেষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আজকের দিনের ঐতিহাসিক গল্পটি এবার বলি

এই গল্প বা কাহিনী অনেক পুরাতন। এই গল্প রোম দেশের গল্প।সময়টা যীশুর জন্মের পর ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের কথা। তখন রোমের  সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। তিনি ছিলেন এক বদমেজাজি রাজা। তিনি তার দেশে নারী-পুরুষের প্রেম করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তার ধারণা ছিল, প্রেম করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে যুদ্ধের প্রতি পুরুষদের অনীহা সৃষ্টি হবে। তার ফলে তার সৈনরা ঠিকভাবে যুদ্ধে মন দিতে পারবে না।ফলে তার শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয় হতে পারে।সে সময় রোমের খ্রিষ্টান গির্জার এক ধর্ম যাজক ছিলেন  ‘ভ্যালেন্টাইন’ নামে। তিনি ছিলেন মানবতাপ্রেমী এক মানুষ।তিনি সকল মানুষকেই যীশুর প্রতি প্রেম নিদর্শন করতে উৎসাহ দান করতেন। তিনি সকলকে প্রেমের বাণী শোনাতেন। রাজার নির্দেশ অগ্রাহ্য করে  তিনি গোপনে নারী-পুরুষের বিবাহ বন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতেন।

একদিন এ ঘটনা রাজা দ্বিতীয় ক্লডিয়াস  জানতে পারলেন।তখন  তাকে রাজার কাছে ধরে নিয়ে আসা হয়। ভ্যালেন্টাইন রাজাকে জানালেন, খিষ্টধর্মে বিশ্বাসের কারণে তিনি কাউকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বারণ করতে পারেন না। রাজা তখন তাকে কারাগারে বন্দী করলেন। কারাগারে থাকা অবস্খায় রাজা তাকে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করতে বলেন।তাকে রাজা প্রাচীন রোমান পৌত্তলিক ধর্মে ফিরে আসার প্রস্তাব দিলেন। তার বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা বলেন।

উল্লেখ্য, রাজা দ্বিতীয় ক্লডিয়াস প্রাচীন রোমান পৌত্তলিক ধর্মে বিশ্বাস করতেন । সেই সময় রোমান সাম্রাজ্যে এ ধর্মের প্রাধান্য ছিল। যাই হোক, ভ্যালেন্টাইন রাজার প্রস্তাব মানতে রাজি হলেন না। তিনি বলেন তিনি যীশু খ্রিষ্ট প্রবর্তিত ধর্মের প্রতি আজীবন অনুগত থাকবেন । তখন রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। তখন রাজার নির্দেশে ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিষ্ট ধর্মের প্রাধান্য সৃষ্টি হয়।তখন গির্জা ভ্যালেন্টাইনকে `Saint’ হিসেবে ঘোষণা করে।

৩৫০ সালে রোমের যে স্খানে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল সেখানে তার স্মরণে একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। অবশেষে ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু পোপ গ্লসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে `Saint Valentine Day’ হিসেবে ঘোষণা করেন। অনেকেই মনে করেন ভ্যালেন্টাইন কারারক্ষীর যুবতী মেয়েকে ভালোবাসতেন। আর এই কারণে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু পোপ গ্লসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ ঘোষণা করেন।  কিন্তু তা লোক মুখে প্রচলিত হয়েছিল তা সত্য নয়।।

আরও পড়ুন :- প্রেম ও ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য কি ?

কারণ, খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্ম যাজকদের  বিয়ে করা বৈধ ছিল না। তাই পুরোহিত হয়ে মেয়ের প্রেমে আসক্তি খ্রিষ্ট ধর্ম মতে যদিও অনৈতিক কাজ।কিন্তু তার নিজের ভালোবাসার কারণে ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে যেতে হয়নি। কারণ, তিনি কারারক্ষীর মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন কারাগারে যাওয়ার পর। সুতরাং, ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে নিক্ষেপ ও মৃত্যু দণ্ড দানের সাথে ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাই ভ্যালেন্টাইনের কথিত ভালোবাসা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’র মূল বিষয় ছিল না। বরং ধর্মের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তার মৃত্যুদণ্ডের কারণ ছিল।যাই হোক, প্রচলিত এই কাহিনী কতটুকু সঠিক, সেটা আমি জানি না।

আরও পড়ুন :- প্রেম হয় ৭ রকমের, আপনারটা ঠিক কী রকম ?

সবাইকে ‘ ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস’-এর শুভেচ্ছা। প্রত্যেকের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভালোবাসায় পরিপূর্ণ থাকুক, এই কামনা করি। আর ভালোবাসা যে শুধু কোনো নারীর প্রতিই হবে তা কিন্তু নয়। প্রেম প্রকৃতিকেও করা যায়। প্রেম নিজের কাজের প্রতিও হয়। প্রেম প্রাকৃতিক। বিপরীত লিঙ্গে কোনো বয়স মেপে হবে তা নয়। প্রেম সম্পূর্ন দুজনের মনের ব্যাপার। নতুন নতুন সম্পর্ক তৈরি করা কিন্তু প্রেম নয়। একটা সম্পর্ক  ভুল ,ঠিক নিয়ে সারা জীবন টিকিয়ে নিয়ে যাওয়াই প্রেম।