করোনার পর চিনে এল নতুন ভাইরাস, হান্টাভাইরাস কি, কীভাবে ছড়ায়

ইতিমধ্যেই চিনের ইউহান প্রদেশ ঠেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া কোরোনা ভাইরাস প্যান্ডামিক এর আকার ধারণ করেছে। একের পর এক দেশের শিল্প, সমাজ থেকে অর্থনীতি সবকিছুকে রীতিমত ভেঙে দিয়েছে এই ভাইরাস সংক্রমণ। হাজারে হাজারে মানুষের প্রাণ নিয়েছে এই ভাইরাস থেকে হওয়া অসুখ কোভিড ১৯। এই ভাইরাস আক্রমণের কোনো প্রতিষেধক এখনও তৈরি করতে পারেনি কোনো দেশ, চলছে সংগ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে আরো এক আসন্ন বিপদের সংকেত শুনতে পাচ্ছে পৃথিবীবাসী। উৎপত্তিস্থল, সেই চায়না। এবার চায়নার ইউনান প্রদেশ।

এখানেই হানা দিল আরও বিপদজনক এক ভাইরাস। নাম হান্টাভাইরাস বা অর্থোহান্টাভাইরাস (orthohantavirus ) । এখানেই এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যাক্তির। মৃত্যুর আগে তিনি বাসে করে যাচ্ছিলেন উনান থেকে শানডঙ প্রদেশে। বাসে তার সহযাত্রী ছিলেন ৩২ জন। তাদের শরীরেও মিলেছে এই ভাইরাসের খোঁজ! তবে কি একটা ঝড় সামলে ওঠার আগেই আরও এক অশনি সঙ্কেত চোখ রাঙাচ্ছে?! প্রশ্ন বিশ্ববাসীর। জেনে নিন এই ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত।

হান্টাভাইরাস কি?

অর্থোহান্টাভাইরাস বা হান্টাভাইরাসও সার্স-কভ-২ এর মতো সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড, নেগেটিভ-সেন্স আরএনএ ভাইরাস (RNA Virus)। এই ভাইরাস যে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত তার নাম হান্টাভিরিডি। এই ভাইরাস সাধারণত দেখা যায় ইদুর বা কাঠবিড়ালি জাতীয় প্রাণীর দেহে। তবে এই ভাইরাস তাদের দেহে থাকলে তাতে তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। মানুষের শরীরে কোনোভাবে সংক্রমিত হলে তখন প্রাণঘাতী রূপ নেয় এই ভাইরাস। এই ভাইরাসে মানুষের মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮%।

কোথা থেকে এই নামের উৎপত্তি?

এই নামের উৎপত্তি হান্টান নদী থেকে।তবে এই ভাইরাস নতুন নয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনেকদিন আগে এই ভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করেছিল। সেই সময় বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন খাদ্যাভাস থেকেই সেই সময় দক্ষিণ কোরিয়া তে ছড়িয়েছিল এই সংক্রমণ। এবার সেই ভাইরাসই হানা দিয়েছে চিনে।

কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে করোনাভাইরাসের থেকে এই ভাইরাসের গোষ্ঠী আরও বড়। এই ভাইরাস নেগেটিভ-সেন্স আরএনএ ভাইরাস। এই ভাইরাস কোরোনা ভাইরাসের থেকেও প্রাণঘাতী যাতে মৃত্যুর হার ৩৮ %। কোরোনা জিনের গঠন পল্টেছিল তেমনই এই ভাইরাস যদি তবে জিনের গঠন বদলে ফেলে তাহলে মহামারী আকার ধারণ করবে এই ভাইরাস।

তবে এর সংক্রমণ ধর্মিতা বেশী নয়। ড্রপলটের মাধ্যমে নয় বরংচ ইদুরের মাংস খেলে অথবা ইদুরের মল মূত্রের সংস্পর্শে আসে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় তাও কেবলমাত্র সেই ইদুর গুলোর কথাই এখানে বলা হয়েছে যাদের মধ্যে এই ভাইরাস আগে থেকে আছে

আশঙ্কা কতটা?

এই ভাইরাসেরও আয়তন ১২০-১৬০ ন্যানোমিটার, অনেকটা বর্তমান কোরোনা ভাইরাসের মতন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই হান্টাভাইরাসের বিবর্তন দেখা যায় ২০০৮ সালে।তবে এই ভাইরাসের মূল বিষয় প্রয়োজন অনুসারে রূপ বদল করতে পারে এই ভাইরাস।এবং তেমন ভাবে কোনো ভ্যাকসিন নেই এই ভাইরাসের।একটি ভ্যাকসিন এর ট্রায়ান চলেছিল ১৯৯০ সাল থেকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত থার্ড ট্রায়ালের পর এই ভ্যাকসিন এর বিষয় আর বিশেষ জানা যায়নি। কেউ তেমন আমল দেয়নি কারন ততদিনে এই ভাইরাস সংক্রমণের কমে যায়। যদিও এইচএফআরএসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি একই থাকে, এটি নিম্ন রক্তচাপ, তীব্র শক, ভাস্কুলার ফুটো এবং কিডনির সমস্যা দেখা যায়৷ তবে একটা ভালো খবর এইচপিএস এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায় না৷ পাশাপাশি মানুষের মধ্যে এইচএফআরএস সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল বলেও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন৷

কি কি রোগ ছড়াতে পারে এবং তার উপসর্গ কি?

১. হেমোরেজিক ফিভার ফইথ রেনাল সিন্ড্রোম (HFRS)— যা এই ভাইরাস থেকে হয়। কিন্তু এর সংক্রমন আরও প্রাণঘাতী। মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।এই ভাইরাসের উপসর্গ অনেকটা কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণের মতনই। এর থেকে হওয়া জ্বর কে কোরিয়ান হেমারেজিক ফিভারও বলা হয়। উপসর্গ হিসেবে গা হাত পায়ে মারাত্বক ব্যাথা সাথে জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। অবশেষে মাল্টিপল অর্গান ফেলিওর এর ফলে মৃত্যু হয় মানুষদের। এই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার দুই সপ্তাহের পর উপসর্গ দেখা যায়।

আরও পড়ুন :- করোনা ভাইরাস কতক্ষণ বাঁচে? করোনা জ্বর হয়েছে কীভাবে বুঝবেন

২. হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিন্ড্রোম (Hantavirus Pulmonary Syndrome) এটিও এ ভাইরাস থেকে ছড়ায় এবং এর উপসর্গ গুলির মধ্যে আছে উচ্চতাপমাত্রা, মাথা যন্ত্রণা, শ্বাসের সমস্যা, সর্দি-কাশি এবং সারা শরীরে ব্যথা। এই সিন্ড্রোম তুলনামূলক অনেক কম প্রাণঘাতী তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এতে মানুষের মৃত্যু হয়।