বাবরি মসজিদের তলায় ঠিক কি রয়েছে, কি বলছে ASI রিপোর্ট

দীর্ঘ কয়েক দশকের অযোধ্যার বিতর্কিত মামলার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অযোধ্যায় বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমির মালিকানা আপাতত যাবে সরকারের হাতে। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্ট বা অছি পরিষদ গঠন করে সেই জমির মালিকানা তাদের হাতে তুলে দেবে। সেই সঙ্গেই অযোধ্যায় বিতর্কিত জমির থেকে দূরে মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি দিতে হবে সরকারকে।

ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার আগে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আদালতের পর্যবেক্ষণে। ৫ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বাবরি মসজিদের নিচে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু সেই ধ্বংসাবশেষ মন্দির কিনা তার প্রমাণ নেই। আবার খননকার্যে পাওয়া স্থাপত্যের সাথে ইসলামেরও কোন সম্পর্ক নেই।

রিপোর্ট অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে কোনো ফাঁকা জায়গায় তৈরি হয়নি বাবরের আমলের মসজিদ। কিন্তু সেখানে কোন মন্দির ছিল কিনা তা নিয়েও নিশ্চিত নয় আদালত। 2003 সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা এএসআই খননকার্য শুরু করে।

কিন্তু তার আগেও ওই অঞ্চলে খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার কানিংহাম প্রথম অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। এরপরও ১৮৮৯ থেকে ১৮৯১, ১৯৬৯ থেকে ১৯৭০ সালেও চলে খননকার্য।

১৯৭৫ থেকে ১৯৭৬ সালে বিবি লালের নেতৃত্বে বিতর্কিত ওই জায়গায় খননকার্য চলে। তাঁরা দাবি করেন, বেশ কিছু স্থাপত্যের নিদর্শন পেয়েছেন তাঁরা, যার আকার বাবরি মসজিদের থেকেও বিশাল। তাঁদের সন্ধানেই প্রথম উঠে আসে বেশকিছু স্তম্ভ। যা পরে আবার ১৯৯২ সালে ওয়াই.ডি. শর্মা ও কে.এম. শ্রীবাস্তবের অনুসন্ধানে উঠে আসে মন্দিরের মতো স্থাপত্যের বিষয়টি।

এএসআই গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার বা জিপিআর আদালতের নির্দেশে ২০০৩ সালে সমীক্ষা চালায়। সেই খনন কার্যে মিলেছিল খ্রীষ্টপূর্বাব্দ ১৩ শতকের নিদর্শন। পাশাপাশি পাওয়া যায় কুষাণ ও শাং আমল থেকে গুপ্ত যুগের বেশ কিছু নিদর্শন। পাওয়া গিয়েছিল ১৫ বাই ১৫ ফুটের একটি মঞ্চ। যার উপর ছিল ছিল বেশ কিছু পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। এএসআই হদিশ পায় মন্দিরের আদলের স্থাপত্যের। এই স্থাপত্য সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীর আমলের বলে অনুমান।

আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই স্থাপত্যের ওপরেই ১৬ শতকে তৈরি করা হয় বাবরি মসজিদ। তারা মসজিদের নীচে কমকরে ৫০টি স্তম্ভের খোঁজ পায়। তবে ধ্বংসাবশেষ সম্ভাব্য বৌদ্ধ ও জৈন মন্দিরের। ঐস্থানে পাওয়া গিয়েছিল একই বয়সকালের তিন রকমের দেওয়ালের হদিশ। যার মধ্যে বেশ কিছু জিনিস গৌতম বুদ্ধের জন্মেরও ৪০০ বছর পূর্বের। পদ্ম ও ময়ুর, হাতি, ঘোড়া, কুমিরের মূর্তি দেওয়ালে খোদাই ছিল। পাওয়া গিয়েছিল যজ্ঞ কুণ্ডের মতো জায়গাও।

যদিও সুপ্রিম কোর্ট এই সকল রিপোর্টকে সরাসরি মন্দির বলতে নারাজ। কিন্তু এই সকল নিদর্শন হিন্দু স্থাপত্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। এএসআইয়ের এই সকল রিপোর্টকে বিকৃত করার অভিযোগ অনেকেই তুলেন। তবে শেষমেষ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই সকল রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে সমস্ত অভিযোগ ও প্রশ্নের অবসান ঘটলো।