ভোটের জল কোন দিকে গড়াচ্ছে, জটিল অঙ্ক বুঝুন সহজ ভাষায়

বাংলায় বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে ২৯৪ টি আসনে ৮ দফা ভোট হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ জিনিস লক্ষণীয়, যেসব অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেস শক্তিশালী সেখানেই একাধিক দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কথা বলা যায়। সেখানে ভোট গ্রহণ করা হবে ৩ দফায়। অন্যদিকে যেসব অঞ্চলে শক্তিশালী বিজেপি সেই সকল অঞ্চলে কম দফায় ভোট রাখা হয়েছে। তবে বীরভূম এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম।

রাজনৈতিক মহলের মতে রীতিমতো ছক কষেই এই দিন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফায় একদিনে পুরুলিয়ার সবকটি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এখানে গত লোকসভায় ভালো ফল করেছিল বিজেপি। একই ঘটনা উত্তরবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রেও। বাঁকুড়ায় বিজেপি খুব একটা ভালো ফল করতে পারেনি আর সেই বাঁকুড়া তেই ভোট হবে দুই দফায়। পূর্ব মেদিনীপুরে শাসক এবং বিরোধী দলের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি, সেখানেও ভোট হবে একাধিক দফায়।

ভাগ করে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের গড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই এক জেলাতেই ভোট হবে তিন দফায়। হাওড়া এবং হুগলিতেও বিষয়টি অনেকটা একরকম। তবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই হাওড়া নিয়ে বিশেষ একটা চাপ নিচ্ছে না বিজেপি। লোকসভায় পাহাড়ে অসামান্য জয়ের পর পাহাড় নিয়েও বেশি মাথা ঘামাতে নারাজ গেরুয়া শিবির। তবে এবার কিন্তু খেলা উল্টে দিতেই পারে পাহাড়। বিমল গুরুংয়ের ফিরে আসায় ইতিমধ্যে বিজেপি বিরোধী আক্রোশ বাড়ছে পাহাড়ে।

আরও পড়ুন : টলিউডের কোন কোন তারকা তৃণমূলে ভোটের টিকিট পেতে পারে, রইলো তালিকা

এবার প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশন কি নিরপেক্ষভাবে সবদিক বিবেচনা করে দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নাকি এর পেছনে কাজ করেছে কোন সুনিপুণ অংকের মাথা। ইতিমধ্যেই বাংলায় ৮ দফা ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে চাঁচাছোলা কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বিরোধীরাও পাল্টে দিতে ছাড়েননি। তাদের দাবি, অতীতের পঞ্চায়েত নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন দেখে মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে। যা নজরে ছিল কমিশনের। সেই থেকেই আট দফায় নির্বাচন হতে চলেছে বাংলায়।