হনুমান কি সত্যিই ব্রহ্মচারী ছিলেন? কী বলছে ‘রামায়ণ’ ?

রামায়ণ এবং মহাভারত ভারতের দুই প্রাচীন মহাকাব্য। এই দুই পৌরানিক আখ্যানেই মেলে প্রাচীন ভারতের চিত্র। কিন্তু সমস্যা হল, ভারতের মতো বহু ভাষাভাষীর দেশে এইসব পৌরানিক কাথার একাধিক সংস্করণ প্রচলিত। তারওপর হিন্দু ধর্ম থেকে প্রভাবিত হয়ে বেশ কিছু ধর্ম গঠিত হওয়ায় এইসব আখ্যানও ঠাই পেয়েছে সেইসব ধর্মে। রচিত হয়েছে একাধিক ভাষ্য। ফলে অনেক সময়ই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। যেমন ভক্তশ্রেষ্ঠ হনুমানের কথাই ধরা যাক।

Source

আমরা প্রভু রামের অনুরাগী একনিষ্ঠ ভক্ত হিসাবেই হনুমানকে চিনি। এও জানি শ্রীরামের প্রতি অটুট নিষ্ঠা বজায় রাখতে হনুমান আজীবনের জন্য ব্রহ্মচর্য ধারণ করেছিলেন। কিন্তু সত্যিই কি তাই? কিছু পুরাণ আমাদের অন্য গল্প শোনাচ্ছে।

Source

শক্তি, বীরত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হনুমান। প্রভু রামের প্রতি প্রেম এবং আকুন্ঠ ভক্তির জন্যই তিনি বিশ্বজুড়ে পূজিত। হিন্দু ধর্ম ছাড়াও জৈন এবং বুদ্ধ ধর্মেও হনুমানকে দেবতা হিসাবে মানা হয়।

হনুমানের বিয়ে!

পরাশর সংহিতা অনুযায়ী, মায়ের আদেশে শিক্ষালাভের জন্য কিশোর হনুমান যান সূর্যের কাছে। সূর্য মণ্ডলে পৌঁছে নম্রভাবে শিক্ষা প্রদানের জন্য সূর্য দেবতার কাছে প্রার্থনা করেন। সূর্যও হনুমানকে বেদ, বেদাঙ্গ এবং উপনিষদের পাঠ দেন।

Source

কিন্তু অবিবাহিত হওয়ায় নব বৈয়াকরণ বা ব্যকরণের নয় সূত্রের অধ্যয়নের যোগ্য ছিলেন না। কারণ নব বৈয়াকরণ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য বিবাহিত হওয়া অপরিহার্য ছিল। সমস্যা মেটাতে সূর্য তাঁর কিরণ থেকে সৃষ্টি করলেন অপূর্ব সুন্দরী। তাঁর সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করলেন যাতে হনুমানের পাঠ সম্পূর্ণ হয়।

Source

তাহলে হনুমানের ব্রহ্মচর্যের কি হবে?

হনুমান সূর্যকে মনে করিয়ে দিলেন তাঁর প্রতিজ্ঞার কথা। তখন সূর্যদেব হনুমানকে বড় দিলেন, বিয়ের পরেও তিনি ব্রহ্মচারী থাকবেন। সঙ্গে বললেন, বিশ্বজগতের কল্যাণের জন্য বিবাহ। এতে হনুমানের বৌদ্ধিকতার হানি হবে না।

আরও পড়ুন : মহাভারতের এই যোদ্ধা এখনো জীবিত আছেন! জানুন তার পরিচয়

Source

অন্ধ্রপ্রদেশে একটি মন্দিরে হনুমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর মূর্তিও আছে। তিনিও পূজিত হন। হনুমান এবং তাঁর স্ত্রী শুভ্রর্লার মূর্তিকে একসঙ্গে শুভ্রর্লাঅঞ্জনেয় নামে ডাকা হয়।
গুরু সূর্যের কথা মতো জৈষ্ঠা শুদ্ধ দশমীর দিন বুধবার হনুমান শুভ্রর্লাকে বিয়ে করেন। সেই ঐতিহ্য অনুযায়ী আজও এই দিনটাকে ‘হনুমত কল্যাণম’ হিসাবে পালন করা হয়।

আরও পড়ুনরাবণের মৃত্যুর পর মন্দোদরীর কী হয়েছিল জানেন ?

Source

জৈন ধর্ম রীতিতে…

জৈন ধর্ম অনুযায়ী হনুমান ব্রহ্মচারী নন। রাবনের ভাই খর এবং দূষণের মেয়ে অনঙ্গকুসুমের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। শুধু তাই নয়, এতে প্রীত হয়ে রাবন দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে তাঁর এক ভাইঝিকে হনুমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
জৈন ধর্মানুযায়ী হনুমানের এক পুত্রসন্তানও উপস্থিত। সমগ্র লঙ্কাকে জ্বালিয়ে হনুমান যখন সমুদ্রে ডুব দিতে যাবেন সেই সময় তাঁর দেহ নিঃসৃত ঘাম একটি বড় মাছের মুখে পরে। ফল মকরধ্বজের জন্ম।