উত্তরাখণ্ডে বিপর্যয়ের পিছনে রয়েছে ৫৬ বছর আগের ইতিহাস

গত রবিবার উত্তরাখন্ড যোশীমঠ নামা ভয়াবহ ধস ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। গ্রামবাসীরা জানান এই দিন ধস নামার আগে নন্দাদেবী হলে চামোলি জেলার রাইনি গ্রামে টায়ার পোড়া এবং গোবর মিশ্রিত তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। বাসিন্দাদের ধারণা, ৫৬ বছর আগে বরফের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া এক তেজষ্ক্রিয় যন্ত্র থেকে নির্গত তাপের ফলেই ফাটল ধরেছে হিমবাহে,এবং সেই কারণেই এই ধস।

ঘটনাটি ১৯৬৫ সালের যখন চিনের উপর নজরদারি করতে CIA ও IB গোয়েন্দারা নন্দাদেবী পাহাড়ের চূড়ায় অত্যাধুনিক পারমানবিক যন্ত্র স্থাপন করে। পরে তীব্র তুষারঝড়ের ফলে তেজষ্ক্রিয় যন্ত্রটি বরফের মধ্যে ফেলেই চলে আসেন তারা। এর পরে বেশ কয়েকবার খোঁজ চালালেও আর কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি সেই যন্ত্রের। তখন জানা গিয়েছিল ১০০ বছর পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে সেই যন্ত্র।

জুগজু গ্রামের অনেকের দাবি, রবিবার হড়পা বানে কাদামাটি ধেয়ে আসার সময় তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ পেয়েছিলেন তাঁরা। জুগজু গ্রামের বাসিন্দা দেবেশ্বরী দেবীর দাবি, ‘‘ওই ঝাঁঝালো গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে কিছুক্ষণের জন্য আমাদের দমবন্ধ হয়ে আসছিল। শুধুমাত্র বরফ আর ধ্বংসস্তূপে এমন গন্ধ পাওয়া যায় না।’’ এর পর থেকেই গ্রামের লোকেদের মধ্যে ওই তেজষ্ক্রিয় যন্ত্রের তত্ত্ব জোরালো হতে শুরু করেছে। তাঁদের মতে, হয়তো ওই যন্ত্রের উত্তাপেই হিমবাহ গলতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খারাপ আবহাওয়ার জন্য ১৯৬৫ সালের সেই অভিযান মাঝপথে থামিয়ে বেস ক্যাম্পের কাছেই যন্ত্রটি রেখে চলে আসা হয়েছিল। এখনও যদি সেটি থেকে তাপ বিকিরিত হতে থাকে, তবে তো ভবিষ্যতে এমন আরও বড় বড় বিপর্যয় ঘটবে।’ ইতিমধ্যেই সেই যন্ত্রটি খুঁজে বের করার জন্য রাইনি গ্রামের বাসিন্দারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

রাইনি এবং জুগজু গ্রামের বাসিন্দাদের বহু পূর্বপুরুষ ওই যৌথ অভিযানের মালবাহকের কাজ করেছিলেন। রবিবারের বিপর্যয়ের পর লোকমুখে সেই অভিযানের কথা ফের ঘুরতে শুরু করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, নন্দাদেবীতে হারানো যন্ত্রটি ফের বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।