করোনার প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার, শুরু হল পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

করোনার প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার, শুরু হল পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে আতঙ্কের ওপর নাম কোরোনা ভাইরাস। মহামারীর থেকেও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে কোরোনা ভাইরাস সংক্রমন। বিশ্বের প্রতিটি দেশে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। মানুষের মনে ভয় বাড়ছে। কারণ অবস্থার অবনতি হলেও এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি কোনো প্রতিষেধক। কিন্তু এবার অবশেষে পাওয়া গেল একটি আশার আলো।

ভারত ও নরওয়ের যৌথ প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক রিসার্চ সংস্থা আবিষ্কার করেছে এই ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা, যা ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে। টিকার নাম ‘এমআরএনএ-১২৭৩’। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ (এনআইএইচ)-এর অধীন দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি)-র বিজ্ঞানীরা এবং তার সহযোগী বায়োটেকনোলজি সংস্থা মডার্না আইএনসি ইতিমধ্যেই এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে। এই প্রয়োগ শুরু করা হয়েছে কাইজার পারমানেন্ট ওয়াশিংটন হেল্‌থ রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ। এই পরীক্ষা মূলক প্রক্রিয়ার যে বিশাল খরচ তা বহন করা হচ্ছে এনআইএআইডি এর তরফ থেকে।

শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্যই প্রতিষেধকটি তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, COVID-19 ভাইরাসের মতো একই চরিত্রের জেনেটিক কোড নিয়ে তা থেকে একটি প্রতিষেধক তৈরি করা হয়েছে, যা মানবশরীরের পক্ষে একেবারেই ক্ষতিকারক নয়। বরং তা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। মানুষের পাশাপাশি পশুর শরীরে প্রয়োগের উপযুক্ত করে তৈরি হয়েছে প্রতিষেধকটি।

কাদের ওপর চলছে এই পরীক্ষা?

প্রাথমিক ভাবে যে ব্যাক্তিরা স্বেচ্ছায় বা নিজে থেকেই এই পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছুক তাদের ওপরেই চলছে পরীক্ষা। মোট ৪৫ জনের মধ্যে চলছে এই পরীক্ষা। পরীক্ষায় যে ব্যাক্তিরা অংশ নিচ্ছেন তাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। এই পরীক্ষা চলবে এখনও ছয় সপ্তাহ যাবৎ। পরীক্ষায় এই টিকা পাশ করলে প্রত্যেক দেশে সাপ্লাই করা হবে।

নোভেল করোনার প্রতিষেধক প্রয়োগ করার জন্য আমেরিকার ৪৫ জন মানুষকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এনারা স্বেচ্ছায় নিজেদেরকে এই পরীক্ষার জন্য সম্মতি দিয়েছেন।  ৪৩ বছরের মহিলা, জেনিফার হলার প্রথম নিজের শরীরে টিকা গ্রহণ করেন। তাঁর শরীরে নতুন প্রতিষেধক কী প্রভাব ফেলবে সেটা নিয়ে গবেষণা চালাবেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, প্রতিষেধকটি অন্তত কোনও ক্ষতি করবে না। আর প্রত্যাশামতো যদি প্রতিষেধকে মানবশরীরে কাজ করতে শুরু করে, তাহলে সেই পথেই এগনো হবে। প্রয়োগ শুরু হয়ে গিয়েছে, এবার শুধু ফলাফল পাওয়ার অপেক্ষা।

এনআইএআইডি-র ডিরেক্টর অ্যান্টনি এস ফাউচি এর বক্তব্য

সার্স-কোভ-২ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে নিরাপদ ও কার্যকরী প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার করা এই মুহূর্তে চিকিৎসা ক্ষেত্রে খুব জরুরি। সেই জন্যেই নজিরবিহীন দ্রুত গতিতে শুরু হয় এই প্রথম পর্বের পরীক্ষা। এনআইএচ-এর তরফ একটি বিবৃতি দাওয়া হয় যেখানে এটি বলা হয় যে এই সার্স-কোভ-২ সংক্রমণ থেকেই কোভিড-১৯ ভাইরাস সৃষ্টি হয়েছে।

‘দ্য কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই)’ এই সংস্থার অধীনে টিকা তৈরির যাবতীয় গবেষণা হয়। এই সংগঠন তৈরির পরিকল্পনা প্রথম শুরু হয় ২০১৫ সালে এবং অবশেষে ২০১৭ সালে এটি তৈরি হয়।ভারত ও নরওয়ের সরকার, বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, দ্য ওয়েলকাম ট্রাস্ট এবং ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম – এদের সকলের একত্রিত প্রচেষ্টা এবং যৌথ উদ্যোগ এই সংস্থাকে তৈরি করে। এই সংস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উন্নত প্রযুক্তির জন্য আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে পরীক্ষামূলক ভাবে কোরোনা সংক্রমণ এর প্রতিষেধক টিকা দাওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।ইতিহাসে প্রথম এত দ্রুত কোনো প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হলো। অ্যান্টি ভাইরাল থেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।