মোদী সরকারের দ্বিতীয় বাজেট থেকে কী কী আশা করা যাচ্ছে

Budget 2021

আজ পয়লা ফেব্রুয়ারি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় বাজেট পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই বাজেটের একটি বিশেষত্ব হলো করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে এটি হবে প্রথম পেপারলেস বাজেট। অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাজেট করোনা অতিমারীর জেরে তছনছ হয়ে যাওয়া অর্থব্যবস্থাকে ফের জোড়া দেওয়ার কাজ শুরু করবে।

করোনার জেরে বিধ্বস্ত ভারতীয় অর্থনীতিকে কিভাবে চাঙ্গা করতে পারেন নির্মলা সীতারামন সেই দিকেই এখন সবার নজর। আজ সকাল ১১টা থেকে বাজেট পড়বেন নির্মলা সীতারামন। তার আগে ১০.১৫-র ক্যাবিনেটের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাজেটকে অনুমোদন করা হবে। এই প্রথম বার সম্পূর্ণ অনলাইন চলে গেল বাজেট। সবাই Union Budget Mobile App-এ পেয়ে যাবেন বাজেট সম্পর্কিত সবকটি নথি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই বাজেট থেকে কি প্রত্যাশা রাখছেন সাধারন মানুষ।

দ্রব্যমূল্য হ্রাস :- বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবারের বাজেটে এই পরিস্থিতি সাম্লানর জন্য কোন সিদ্ধান্ত নেবে মোদি সরকার।

কর্মসংস্থান :- করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আরও বেড়েছে বেকারত্ব। পাশাপাশি বেতন কমেছে অনেকেরই। যদিও পেশাদারী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বেকারত্বের হার ২৩ শতাংশ থেকে কম,তবে বাস্তব চিত্রটির সাথে এই রিপোর্টকে মেলাতে পারছেন না অনেকেই।কাজেই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এবারের বাজেটে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

বেসরকারিকরণ হ্রাস :- মোদি সরকারের আমলে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে সরকারি জিনিসের বেসরকারিকরণ। মূলত অর্থের যোগান বাড়াতেই এলআইসি, রেল ইত্যাদি বড় সংস্থাগুলিরও ও বেসরকারিকরণ করছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছে সাধারণ মানুষ। ফলে বাজেটের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকবে হ্রাস করা হবে বেসরকারিকরণ।

 

গ্যাসের দাম :- পেট্রোল , ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম রীতিমতো মধ্যবিত্তের ছোঁয়ার বাইরে।এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এই সম্পর্কে মোদি সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ। তারা চাইছেন সবরকম জ্বালানির দাম কম হোক।

শিক্ষা :- করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজের দরজা বন্ধ।এমন অবস্থায় বাড়ি থেকেই অনলাইন ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ফলে সব জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা,এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থাকা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।এর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা সরকার করতে পারবে নাকি সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।

ব্যাঙ্কের সুদ বৃদ্ধি :- দিন বাড়ার সাথে সাথে কমছে ব্যাংকের সুদ। এর ফলে সমস্যায় পড়ছেন মধ্যবিত্তরা। অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের জীবনে সুদ কমে যাওয়ার বড় প্রভাব পড়ছে। বাজেটের মাধ্যমে ব্যাংকের সুদ বাড়ানো হোক এমনই দাবি উঠছে মধ্যবিত্তদের একাংশ দের মধ্যে।

আরও পড়ুন : কেমন হতে পারে এবছরের বাজেট, দেখে নিন এক ঝলকে

কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধি :- জানা যাচ্ছে, স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হতে পারে এবং ৮০ সি ধারায় দেড় লক্ষ টাকা কর ছাড় পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের বাজেটের থেকে প্রত্যাশা বাড়ানো হবে কর ছাড়ের সীমা।