দজ্জাল শাশুড়ি, কুচুটে, অত্যাচারী পিসিমা গীতা দের ঠাঁই মেলেনি স্বামীর ঘরে! পাননি প্রাপ্য সম্মানও

পর্দার কুচুটে শাশুড়ি, দজ্জাল পিসিমা গীতা দে বাস্তব জীবনে নিজেই ছিলেন অত্যাচারিত

Tragic Life story of Geeta Dey

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় খলনায়িকা (Villain) গীতা দে (Gita Dey)। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন না কোনও তারকা। তবে তথাকথিত তারকা না হয়েও আজও টলিউডের স্বনামধন্য অভিনেত্রী তিনি, যার অভিনয়গুণে মুগ্ধ ব্রিটিশ পরিচালক লরেন্স অলিভার। স্রেফ টলিউডের শিল্পী হওয়ার সুবাদে তিনি পাননি অস্কার। নতুবা বিদেশে জন্মালে তার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার ছিল নিশ্চিত। এমনটাই মনে করেন বিদেশি পরিচালক।

তার দীর্ঘ কেরিয়ারে বেশিরভাগ নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গীতা দে। তবে বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন আপাদমস্তক স্নেহশীলা একজন রমণী। পর্দায় দেখা যেত, কুচুটে স্বভাবের শাশুড়ি কিংবা পিসিমা হয়ে নায়িকাদের উপর অত্যাচার করছেন। বাস্তবে তিনিই ছিলেন অত্যাচারিত। খুব ছোট বয়স থেকেই গান এবং অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল গীতার। তাইতো বাবা অনাদি বন্ধু মিত্র মেয়েকে প্রতিবেশী গায়িকা রাধারানী দেবীর কাছে তালিম নেওয়ার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। নাচে, গানে, অভিনয়ে, নিজেকে পুরোদস্তুর অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলছিলেন গীতা।

মাত্র ৬ বছর বয়স থেকে তিনি শুরু করেন অভিনয় জীবন। সেই থেকে টানা ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সিনেমা এবং থিয়েটারে তিনি চুটিয়ে অভিনয় করেন। এরপর ১৫ বছর বয়সে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত তার জীবন বদলে দেয় অনেকটাই। ওইটুকু বয়সেই তিনি অসীম কুমার দে’কে বিয়ে করে নেন। এরপর সংসারের জন্য টানা ৫ বছর অভিনয় থেকে দূরে সরে যান এই প্রতিভাবান শিল্পী। আসলে গীতার শাশুড়ীর পছন্দ ছিল না ছেলের বউ অভিনয় করুক। গীতাকে প্রকার না জানিয়েই তিনি ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।

হাওয়াবদলের নাম করে বউমাকে একা বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে ছেলের আবার বিয়ে দেন শাশুড়িমা। গীতা যখন ফিরে আসেন তখন তার আর শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই হলো না। হয়তো একদিকে তাতে শাপে বরই হয়েছিল। আবার অভিনয়ে ফিরে আসতে পেরেছিলেন অভিনেত্রী। তবে আজীবন মাথার সিঁদুর মোছেননি। স্বামীর নামে সিঁথিতে সিঁদুর, কপালে বড় লাল টিপ তিনি আমৃত্যু ধারণ করেছেন।

পরিচালক শিশিরকুমার ভাদুড়ীর সংস্পর্শে নতুন জীবন পান গীতা দে। জ্ঞানেশ মুখার্জি, শম্ভু মিত্র, কালী সরকার, কানু ব্যানার্জি, তুলসী লাহিড়ী ও দিলীপ রায় প্রমুখ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে গ্রুপ থিয়েটারে অভিনয়ের সুযোগ পান। সঙ্গে ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘সুবর্ণরেখা’; সত্যজিৎ রায়ের ‘তিন কন্যা’, ‘সমাপ্তি’ এবং দেবকীকুমার বসুর ‘সাগর সঙ্গমে’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি সেই সময়কার শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে নিজের ছাপ ফেলে দেন টলিউডে।

‘নৌকাডুবি’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘মাল্যদান’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘দুই ভাই’, ‘মৌচাক’ তপন সিংহের ‘হাটেবাজারে’, ‘জতুগৃহ’র মতো একাধিক ছবিতে তার অভিনয় দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। হতে পারে তিনি একজন নেগেটিভ চরিত্রাভিনেত্রী, তবে বাস্তব জীবনে তার মত মানুষ মেলা ভার।

তার সহকর্মী ভানু বন্দোপাধ্যায় নিজের আত্মজীবনীতে অভিনেত্রীর সম্পর্কে লিখেছেন, “গীতা দে ভীষণ শক্তিশালী অভিনেত্রী। ও ভালো গানও জানে। ওর অভিনয় জীবন শুরু শ্রীরঙ্গমে, খুব ছোটবেলায়। তারপরে শিশির ভাদুড়ির কাছে নাট্য শিক্ষা ও একই সঙ্গে নাটকে অভিনয় করা। সিনেমাতেও ক্যারেক্টার অ্যাক্ট্রেস হিসেবে দুর্দান্ত অভিনয় করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ডাইনি’।”