স্বল্প পুঁজিতে লাখ টাকার ব্যবসা দাড় করাতে চান? জেনে নিন কীভাবে

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বাংলার বানিজ্য প্রথায় যবনিকা পড়ে যাওয়ার শুরু। এরপরে বাংলায় মধ্যবিত্তের চাকরি প্রেমী মনোভাবের উত্থানে বাংলার বাণিজ্যে দাড়ি পড়ল। জেনে রাখবেন দেশের বেশীর ভাগ কোটি পতি দেশের পশ্চিম ভাগ থেকে আসে মানে এই ব্যাবসায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে গুজরাটিরা। আর বাংলায় ব্যাবসায়ী বলতে বোঝায় কিছু করে একটা দোকানদার। কিন্তু ব্যাবসা জিনিসটি এর থেকে একদমই ভিন্ন।

ব্যাবসা এমন হওয়া উচিত যেন আপনার দ্রব্যে বা আপনার পরিষেবায় আপনার আশেপাশের মানুষের জীবনে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে তাদের জীবনকে আরোও সরল করে তোলে, আর আপনি সেটার এক মাধ্যম বিশেষ। আপনার আশেপাশের মানুষের সমস্যা সমাধানকেই হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে লেগে পড়ুন ব্যাবসায় দেখবেন আপনার পরিষেবা দিতে হবেনা আপনার পরিষেবা বা আপনার দ্রব্য কেনার জন্য লাইন লেগে গেছে। এই তো গেল একটা ব্যাবসা কীভাবে শুরু করবেন। কিন্তু এখন আপনার মনে ঘুরপাক খেতেই পারে কী এমন ব্যাবসা শুরু করা যেতে পারে বা এখন কী জাতীয় ব্যাবসা করলে আয় দ্রুত আসা সম্ভব ?
এই প্রতিবেদনে কিছু ব্যাবসার নাম দেওয়া হলো যেগুলো স্বল্প বিনিয়োগ হলেও উপযুক্ত পরিশ্রম করলে লাখো কামানো হাতের মুঠো।

অনুবাদক

এর এখন চাহিদা‌ আকাশ চুম্বী বলা যেতে পারে। এই ব্যাবসা দাড় করাতে খুব একটা মূল ধন নিয়ে না নামলেও যে ভাষার আপনি পরিষেবা দিচ্ছেন সেই ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করে নামতে লাগবে।‌ প্রচুর বিদেশি কোম্পানি ভারতে ব্যাবসা খুলে রেখেছে। ওই কোম্পানি গুলোই মূলত এই ধরনের পরিষেবার খোঁজে থাকে। ওনারা তাদের ব্যাবসাকে দেশের শহরে শহরে পৌঁছে দিতে এই ধরনের পরিষেবার জন্য মুখিয়ে থাকে। এর জন্য আপনি আপনার দলকে যে কোনো ইংরেজি সহ একটি বিদেশি ভাষা এবং ভারতের কিছু আঞ্চলিক ভাষার ওপর দক্ষতা থাকতে হবে।

ওয়েবসাইট ডেভেলোপার

Loading...

এখন অনলাইনের যুগ। ছোটো বড়ো প্রত্যেক গোষ্ঠীই নিজেদের অনলাইনে গ্ৰাহক পেতে আগ্ৰহী। কারণ এখনকার সমাজে মানুষ বাস্তব জীবন থেকে ভার্চুয়াল লাইফে বা মুঠো ফোনেই অধিকাংশ সময় বন্দী থাকে। আর সেজন্যই যেকোনো গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট তৈরি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। তাই এখনকার যুগে ওয়েবসাইট ডেভেলপার এবং ওয়েবসাইট ডিজাইনার দু’জনেরই চাহিদা তুঙ্গে আর ভবিষ্যতেও এর চাহিদা থাকবে উর্ধ্বগামী। এর জন্য ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের জন্য কম্পিউটারের কিছু ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। ওয়েব ডিজাইন বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করে আপনি Free Lancing এও প্রচুর আয়ের সুযোগ থাকে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দ্বারা বিদেশি ক্রেতাও পাওয়া যায়, বলা বাহুল্য তারা যেকোনো দেশীয় গ্ৰাহকের থেকে আপনাকে অধিক বেশী পরিমান অর্থ প্রদাণ করবে।

এসইও কনসাল্ট্যান্ট

যারা ওয়েবসাইট নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাদের SEO পরিচিত নাম। SEO এর পুরো নাম Search Engine Optimization, একটা ওয়েবসাইটকে দাঁড় করাতে গেলে সেই ওয়েবসাইটের SEO করাটা অনস্বীকার্য। আর বিশ্বে লাখো লাখো ওয়েবসাইট বর্তমান। আর সেই সব ওয়েবসাইটের ও SEO করানোর প্রয়োজনে SEO Consultant এর বাজার তুঙ্গে রয়েছে। যতদিন ওয়েবসাইট থাকবে ততদিন SEO Consultant এর পকেটে টান পড়বে সেটা নিশ্চিত করে বলা যেতেই পারে।

মেক আপ আর্টিস্ট

কিছু বছর ধরে মেক আপ আর্টিস্টের বাজার ক্রমাগত ভাবে বেড়েই চলেছে। মেক আপ আর্ট জানা থাকলে নিজেই খুলে নিতে পারেন ছোটো বিউটি পার্লার আবার অন্যের বিউটি পার্লারেও কাজ করতে পারেন। আর এই কাজ দক্ষতা নিয়ে আসলে অনেক বড়ো বড়ো সেলেবদের জন্যেও কাজ করতে পারেন। আবার এই পেশায় আপনি Free Lancer হিসেবে ও কাজ করতে পারেন। যেমন আপনার একটি ওয়েবসাইট বা ফোন নম্বর আপনার এলাকায় ছড়িয়ে দিলেন। এবার যার দরকার আপনার নম্বরে ফোন করে আপনাকে বুক করে নিল আর আপনি ওনার বাড়িতে গিয়েও পরিষেবা প্রদান করে এলেন।

কেরিয়ার কাউন্সেলিং

অনেক বড়ো বড়ো শহরে কেরিয়ার কাউন্সেলিং পেশাটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখানে প্রধানত ছেলেমেয়েদের গঠনের পরিষেবা দেওয়া হয়। একটা ছেলে মেয়েকে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে জানা হয় ছেলে বা মেয়েটি কোন জীবিকা বেঁছে নিতে চায় এবং আগামী কয়েক বছরে সেই জীবিকার অস্তিত্ব কী রুপ হবে। সন্তানকে লাখ টাকা খরচা করে নিজের মনমতো জীবিকা দেওয়ার চেয়ে কেরিয়ার কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে আপনার সন্তান কোন ফিল্ডে সবচেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করবে সেটা জেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কনটেন্ট রাইটার, ব্লগিং

লেখার ওপর আপনার যদি নেশা থাকে তাহলে আপনার লেখাকেই বানিয়ে নিতে পারেন আপনার পেশা এবং এই পেশায় টাকার পাশাপাশি সম্মান ও মর্যাদাও সরল সমানুপাতে বাড়তে থাকে। এজন্যে আপনার চাই শুধু লেখার হাত। আর আপনার লেখার হাত চলে এলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে বা নিজেই ওয়েবসাইট খুলে লিখে আয় করতে পারেন।

ফুড ডেলিভারী

এখন বেশীরভাগ শহরেই খাবার রেষ্টুরেন্টের বদলে অর্ডার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। আর এই পরিষেবাকে কাজে লাগিয়ে আপনিও হোম ডেলিভারি সার্ভিসের ব্যাবসায় নামতে পারেন। ফুড পান্ডা, Swiggy আরও বেশ কিছু সংস্থা এসব পরিষেবা নিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন : বাঙালির অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসার ১৫ টি আইডিয়া

ম্যানপাওয়ার রিসোর্সিং

একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন এখনকার দিনে বেশীরভাগ কোম্পানি বা অর্গানাইজেশন Contact Basis এ কর্মী নিয়োগ করে। সেখানেই আপনি কোনোও কোম্পানি বা অর্গানাইজেশনকে কর্মী দিলে আপনাকে ওই অর্গানাইজেশন আপনাকে উপযুক্ত টাকা দেবে এবং সেই টাকার থেকে কিছু পরিমাণ অর্থ সেই কর্মীকেও আপনাকে দিতে হবে।

Loading...