হেরেও শান্তি নেই, দিলীপ ঘোষকে সোশ্যাল মিডিয়ায় “রগড়ে” দিল টলিউড তারকারা

979

একুশের বিধানসভা নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন বেশ নেমে এসেছে। একুশের মহাযুদ্ধে বিরোধী বিজেপি শিবিরকে হারিয়ে ফের ৫ বছরের জন্য রাজ্যের মসনদ ধরে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের রাজনীতির সব সমীকরণ বদলে দিয়েছেন তিনি। রীতিমতো অপ্রত্যাশিতভাবেই তৃণমূল সুপ্রিমো কাছে হেরে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপি শিবির।

যে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা বারংবার বাংলায় ডেলি প্যাসেঞ্জারী করেছেন, ভোটযুদ্ধের ঘুঁটি সাজিয়েছেন মনের মতো করে তাদের রীতিমতো টেক্কা দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। “অব কি বার, ২০০ পার”, স্লোগান ছিল যাদের হাতিয়ার তারা আজ তিন অংকের ঘরেও পৌঁছতে পারলেন না। স্বভাবতই বঙ্গ বিজেপি শিবিরের স্পিরিট কিছুটা হলেও দমেছে ভোটের এই ফলাফলে।

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পূর্বে বিজেপি নেতা কর্মীদের হম্বি-তম্বি, তাদের রাজ্যের মসনদ দখলের স্বপ্ন কার্যত ফল প্রকাশের পর ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তাই এখন বিজেপিকে বিঁধছেন তৃণমূল সমর্থকরা। বিজেপিকে কড়া কথা শোনাতে বাদ গেলেন না বজবজের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশীষ কুমারের মেয়ে তথা বাংলার মডেল অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার।

বজবজ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছেন দেবলীনার বাবা দেবাশীষ কুমার। বাবার এই জয়ের খবর পেয়ে মেয়ে স্বভাবতই ভীষণ খুশি। নেট মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যেই তিনটি ছবি পোস্ট করে নিজের খুশি নেটিজেনদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আক্রমণ করতে ছাড়লেন না দেবলীনা।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে দেবলীনার মন্তব্য, “বাঙালিকে রগড়ানো এত সহজ নয়!” এই একটি কথার মাধ্যমেই দিলীপ ঘোষের বহু পুরাতন মন্তব্যের জবাব দিলেন দেবলীনা। প্রসঙ্গত দেবলীনা কিন্তু আপাদমস্তক তৃণমূলের সমর্থক। বাবার হয়ে প্রচারে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

বাবা জয়লাভ করতেই তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিন-তিনটে ছবি পোস্ট করেন দেবলীনা। এর মধ্যে একটি ছবি ছিল মা-বাবার সঙ্গে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার ছবি। অপরটি স্বামী গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের  (উত্তম কুমারের নাতি) সঙ্গে প্রচারে অংশ গ্রহণের ছবি এবং তৃতীয় ছবিটি ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার সভায় অংশগ্রহণের ছবি।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Devlina Kumar (@devlinakumar)

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলার ভোট আবহেই টলিউডের একটা অংশ ঐক্যের গানে জোর গলায় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠে তাঁরা বলেছেন- ‘আমি অন্য কোথাউ যাবো না, আমি এই দেশেই থাকব’। এই শিল্পীদের উদ্দেশে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘শিল্পীদের বলছি আপনারা নাচুন, গান। ওটা আপনাদের শোভা পায়। রাজনীতি করতে আসবেন না। ওটা আমাদের ছেড়ে দিন। না হলে রগড়ে দেব’। এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল।

ভোটের রেজাল্টের দিন দিলীপের এই মন্তব্য টেনেই জবাব দিলেন পরমব্রত। বললেন, ‘আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক!’ আরও একটি টুইটে ‘প্রলয়’ তারকা নিজেদের গানের লাইন টেনে লেখেন, ‘তোমার কোনো কোনো কোনো, কোনো কোনো কোনো কোনো কথা শুনবো না আর , যথেষ্ট বুঝি কিসে ভালো হবে, নিজেদের মতো ভাববো’।

শুধু পরমব্রতই নন, দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে এদিন টুইট করেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও। অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমরা আজকে একটু বারমুডা পরব না? বারমুডা পরব না আমরা?’ উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারে দিলীপ ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারমুডা পরবার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বাংলার নারীশক্তি বিজেপি নেতাদের এইসব নারীবিদ্বেষী মন্তব্য একেবারেই ভালোভাবে মেনে নেয়নি মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মহিলা ভোট তৃণমূলের জয়ের বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।