এই ৫টি কারণে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে জিতলেন শুভেন্দু অধিকারী

6351

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ আজ সকাল থেকেই চড়া ছিল। ২৯৪টি আসনের এই লড়াইয়ে প্রভূত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয় বারের জন্য সরকার গঠন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় আসা তো দূর অস্ত, তিন অঙ্কের আসনও লাভ করতে পারেনি বিজেপি। তবে রাজ্য শাসকদলকে হারাতে না পারলেও খোদ তৃণমূল সুপ্রিমোকে হারিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

একুশের এই লড়াইয়ে ‌ তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে বাংলার মসনদ দখলের স্বপ্ন দেখছিল বিজেপি। তবে একুশের লড়াইয়ের হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল নন্দীগ্রাম। যে নন্দীগ্রাম দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এককালীন মমতা ঘনিষ্ঠ তথা বর্তমানে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রেস্টিজ ফাইট চলছিল। উভয় পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক কেরিয়ার রীতিমতো বাজি রেখে লড়েছেন এই কেন্দ্রের জন্য।

তবে সকাল থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরেও তৃণমূল সুপ্রিমোকে পিছু হটতে হলো। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝে এক সময় বিশিষ্ট সংবাদ সংস্থা এএনআই রিপোর্ট করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে ১২০০ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত পাশা পাল্টে দিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রীকে টেক্কা দিয়ে ১৯৫৭ ভোটে এগিয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী।

কেন এমনটা হল? তার বিশ্লেষণ করছে রাজনৈতিক শিবির। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক শিবিরগুলোর তরফ থেকে সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে যেখানে তৃণমূলের জয়জয়কার, সেখানে নন্দীগ্রামে তৃণমূল সুপ্রিমোর এই অপ্রত্যাশিত হারের কারণ অনুসন্ধান করছে রাজনৈতিক মহল। এই মর্মে প্রধানত পাঁচটি তত্ত্ব বা কারণ তুলে ধরা হচ্ছে। যে গুলি হল –

১. গতবারের নির্বাচন : এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালেও কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীই বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। তখন অবশ্য তৃণমূলের হয়ে লড়াই করেছিলেন তিনি। তার দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ সিপিআইএম প্রার্থী আব্দুল কবীর শেখকে ৮১,২৮৩টি ভোটে হারাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

২. শক্তিশালী সংগঠন : নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে স্থানীয় মুখ ছিলেন তিনি। স্বভাবতই নন্দীগ্রামে তার প্রতি মানুষের আলাদাই জনসমর্থন রয়েছে। বিগত ৫ বছরে নন্দীগ্রামের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিটিও দেখেননি। সেই জায়গায় শুভেন্দু অধিকারী বরাবর তাদের সাহায্য করেছেন। শহীদ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছেন।

৩. ভোটের মেরুকরণ : বিজেপি হোক বা তৃণমূল, ভোটের মেরুকরণকে কিন্তু আলাদা এক ব্রম্ভাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী খুব ভালো করেই জানতেন নন্দীগ্রামে কেবল ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু রয়েছেন। তাই তিনি ভোটের মেরুকরণকে হাতিয়ার করে হিন্দু ভোট টানার চেষ্টা করেছেন। ভোটের ফলাফল বলছে, এই প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন তিনি।

৪. নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র : শুভেন্দু অধিকারী “নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র” এই আবেগকে খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। শুধু নন্দীগ্রামের আসনে লড়বেন বলে তিনি ওই আসনের ভোটার হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন!

Mamata Banerjee and Subhendu Adhikary

৫. নন্দীগ্রামে বহিরাগত মমতা : একুশের এই লড়াইয়ে “বহিরাগত” প্রসঙ্গ উঠেছে বারবার। এই প্রসঙ্গ তুলেছে খোদ রাজ্য শাসক দল। এই প্রসঙ্গটিই কিন্তু বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই “বহিরাগত” হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে আঘাত লাগা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে তরজা শুরু হয়েছিল, তা নন্দীগ্রামবাসীর অপমান বলে মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

লড়াই শেষ। লড়াইয়ের ফলাফলও এসেছে প্রকাশ্যে। নন্দীগ্রামে এই জয় নিয়ে স্বভাবতই খুব খুশি শুভেন্দু অধিকারী। এইভাবে কাকে সমর্থন জানানোর জন্য টুইট মারফত নন্দীগ্রামবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।