নিজের সংসারে আগুন লাগিয়ে রাজনীতি করেছেন যে ৩ দম্পতি

একুশের ভোটের আগে বাংলা জুড়ে চড়ছে রাজনীতির পারদ।এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিলেন বিজেপি (BJP) সাংসদ সৌমিত্র খা (Soumitra Khan) এর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল(Sujata Mondol)। এই ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতিতে।

বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ স্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন স্ত্রীকে। সব মিলিয়ে এই দম্পতির দশ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটতে চলেছে রাজনীতির মঞ্চেই। তবে এই প্রথম নয় যখন বাংলার রাজনীতিতে কোনও দম্পতির রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যের জেরে দাম্পত্যের ইতি ঘটে।

একই রকম কিছু ঘটনা ঘটে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Joy Bannerjee) এবং অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় (Ananya Bannerjee) এর ক্ষেত্রেও। প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এই দম্পতি কিন্তু ২০১৪ সালে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন জয় বন্দ্যোপধ্যায়।

সম্প্রতি স্ত্রীর বিরোধী দলে নাম লেখানোয় সৌমিত্র খাঁ অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল তার ঘর ভেঙেছে। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি বোঝেননি কখন তার ঘরের লক্ষ্মীকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল।এর ঠিক উল্টো অভিযোগ করেছেন অনন্যা ব্যানার্জী।

তার অভিযোগ, বিজেপি ভেঙেছে তার ঘর। তিনি জানান ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দেখেই রাজনীতিতে এসেছিলেন জয় ব্যানার্জী কিন্তু ২০১৪ সালে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে।অন্যন্যা ব্যানার্জির কথায় যদি কোনও রাজনৈতিক দল ঘর ভেঙে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেক্ষেত্রে সেই পথ প্রথম দেখিয়েছে বিজেপি।

সৌমিত্র এবং সুজাতার এই বিচ্ছেদের খবর শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি রাজনৈতিক দলগুলির কাছে অনুরোধ করলেন নেতা বদল, দল বদল হোক, কিন্তু কারোর যেন ঘর না ভাঙ্গে। তিনি জানান, টিভিতে সৌমিত্র–সুজাতাকে কাঁদতে দেখে তিনি মর্মাহত।

আরও পড়ুন : শুভেন্দু অধিকারী বিয়ে করেননি কেন? জানিয়ে দিলেন নিজেই

নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন যে তার জীবনেই একই ঘটনা ঘটে একদিন।তিনি বলেন নেতাদের এক দল থেকে অন্য দলে যাওয়াতে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু রাজনীতি করতে গিয়ে যেন কারুর ঘর না ভাঙ্গে।

আরও পড়ুন : কত টাকার মালিক ফিরহাদ হাকিম, প্রকাশ্যে এলো সম্পত্তির পরিমাণ

বাংলার রাজনীতিতে দাম্পত্যে রাজনৈতিক বিবাদের উদাহরণ বলতে গেলে পাশাপাশি শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলতে হয়। সংসারিক বিবাদে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস তার স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোতে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান শোভন চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে রত্নার পাশে দাড়িয়ে তার ওপর বেশ কিছু দায়িত্ব তুলে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস।রাজনীতির ময়দানে ঘর ভাঙার সাক্ষী আবারও থাকলো বাংলা।