গুপ্তচরের অজানা জীবনঃ ‘র’ প্রতিষ্ঠাতা রামেশ্বরনাথ কাও

বিশ্বের অন্যতম প্রভাববিস্তারকারী ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’। দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এদের কাজ। ভারতের এই গোয়েন্দা সংস্থার লক্ষ্য, ‘ধর্ম রক্ষতি রক্ষিত’, অর্থাৎ যে ধর্ম রক্ষা করে সে সর্বদা সুরক্ষিত থাকে।

Source

‘র’ নামটার সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। দেশের গোয়েন্দা কার্যকলাপের পরিচালক এই সংস্থার প্রথম প্রধান ছিলেন রামেশ্বরনাথ কাও। গুপ্তচরবৃত্তিকে তিনি ক্লাসিকের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। দেশের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা বিষয়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৬৯ সাল থেকে টানা ১৯৭৭ পর্যন্ত র-এর প্রধান ছিলেন রামেশ্বর। জনসমক্ষে আসার ব্যাপারে তাঁর ছিল প্রবল অনীহা। জীবনে মাত্র ২ বার ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন।

Source

‘র’ গঠনের সূচনা ১৯৬২ সালের ইন্দো-চীন যুদ্ধের পর হলেও ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এটি চূড়ান্তভাবে জন্ম নেয়। ওই সময় ভারতকে সুরক্ষিত রাখতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই সংস্থাটি গড়ে তোলেন। স্বাধীন সংস্থা হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয় গোয়েন্দা সংস্থাকে। শুধু প্রধানমন্ত্রীর নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এই ‘র’। সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় রামেশ্বর নাথ কাও সংক্ষেপে আর এন কাও-কে। বন্ধুরা ডাকতেন ‘রামজি’ নামে।

আরো পড়ুন : বিশ্বের বিখ্যাত ৯ রাষ্ট্রনেতার বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

Source

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রধানের দায়িত্বেও ছিলেন রামেশ্বর। ফলে গোয়েন্দা সংস্থা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অপরাধ এবং গোয়েন্দা জগতে রামেশ্বর ছিলেন পরিচিত নাম। জন্মস্থান বেনারস। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স। ১৯৩৯ সালে ইন্ডিয়ান পুলিসে যোগ দেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআই-এর আদলে গড়ে তোলা হয় ‘র’। পরবর্তী সময়ে এই সংস্থাটি তাদের দুর্দান্ত সব কার্যকলাপের মাধ্যমে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব-ইতিহাসে।

আরো পড়ুন : সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ভারতের ১০ আইনজীবী

Source

‘র’-এর অন্যতম সাফল্য মুক্তিযুদ্ধে ‘অপারেশন বাংলাদেশ’ মিশন। বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার নীতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি বুদ্ধি জুগিয়ে গেছেন রামেশ্বর। ‘অপারেশন সিকিম’ তাদের আরেকটি সফলতম অপারেশন। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান সৃষ্টি হবার পরও সিকিম প্রায় একটি আলাদা স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চলের মর্যাদা নিয়ে বীর-দর্পে টিকে ছিল। এবং সেখানে স্থানীয় গোত্রদের দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হত। সিকিম কে অত্যন্ত নাজুক স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হত। কারণ ভারত কে ভাগ করার জন্য সিকিম ছিল অন্যতম একটি সঠিক জায়গা। চীনের সজাগ দৃষ্টিও ছিল এদিকে। কিন্তু ‘র’ কৌশলে ১৯৭৫ সালে সেখানকার স্বায়ত্ত শাসনকে উড়িয়ে দিয়ে ভারতের একটি স্থায়ী প্রদেশ হিসেবে সিকিম কে একীভূত করে নেয়।

আরো পড়ুন : ভারতের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈনদল যাদের কথা জানলে আপনার গর্ব হবে

Source

১৯৫০ সালে স্বাধীন ভারতে আসেন ইংল্যান্ডের রানী। সেইসময় রানীর নিরাপত্তার দায়িত্বও ছিল রামেশ্বরের কাঁধে। তৎকালীন বোম্বের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে রানীর চোখে কিছু পড়েছিল। তাই দেখে কোন থেকে ছুটে এসেছিলেন রামেশ্বর। রানী মজা করে বলেছিলেন, ‘গুড ক্রিকেট’। রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় রামেশ্বর নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে ছিলেন। অ্যাভিয়েশন রিসার্চ সেন্টার এবং জয়েন্ট ইন্টিলিজেন্স কমিটির প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। গান্ধার চিত্রকলার বিশাল সংগ্রহ ছিল তাঁর। নিজেও ছিলেন ভাস্কর্য শিল্পী। বন্যপ্রাণের ছবি তোলাতেও আগ্রহ ছিল রামেশ্বরের। কীংবদন্তি গুপ্তচর কেএন রাও মারা যান ২০০২ সালে। তবে মৃত্যুর আগে প্রতিষ্ঠা করেছেন এক ঐতিহ্য যা জাতিকে রক্ষা করে।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন 
আপনার অভিযোগ / মতামত আমাদের জানান এই ঠিকানায় contact@ichorepaka.in
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সাথে যুক্ত হোন : Facebook    Instagram    Twitter