বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিনের মডেল ছিলেন এক ভারতীয় রাণী, চিনে নিন তাকে

The Indian queens who modelled for the world's first vaccine

আপনি জানলে অবাক হবেন একটা সময় ভ্যাকসিন যাতে মানুষ নেয় তার জন্য‌ও বিজ্ঞাপনের মধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। কারণ ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলেও ভ্যাক্সিনের প্রয়োগ ও ফলাফল নিয়ে মানুষের মনে যথেষ্ট সংশয় ছিলো। আর বিশ্বের প্রথম  ভ্যাকসিনের মডেল ছিলেন একজন ভারতীয় রাণী ।

২০০৭ সালে যখন তেলরঙে আঁকা একটি ছবি নিলাম হচ্ছিল সদবিতে তখন সবাই সেটিকে ভারতীয় বাঈজির ছবি ভেবেছিলেন কিন্তু পরে জানা যায় এটি ব্রিটিশ শাসিত ভারতের একজন রাণীর ছবি।

দক্ষিণ ভারতের মহীশুরের শাসক কৃষ্ণরাজ তৃতীয় ওয়াদিয়ার পত্নী ছিলেন এই রাণী। ১৮৮৫ সালে কৃষ্ণরাজ তৃতীয় ওয়াদিয়ার বিবাহ করেন দেবজমণিকে‌। এইসময় রাজা ও রানী দুজনেরই বয়স ছিল ১২ বছর। দক্ষিণ ভারতের নতুন রাজা হিসাবে তখন সিংহাসনে বসেছেন কিশোর কৃষ্ণরাজা। আর তার স্ত্রী দেভাজাম্মানি নিজের অজান্তেই বিয়ের অল্প দিনের মধ্যে হয়ে উঠেছেন ছবির মডেল।

COURTESY: SOTHEBY’S

অল্প বয়সী রাণীদেবজমণিকে শুকনো লিম্ফ দিয়ে বা কোন পূর্ববর্তী রোগীর পুঁজ থেকে টিকা দেওয়া হয়েছিল কিনা এই বিষয়ে জানা যায়নি। তবে স্মল পক্সের প্রচারের কাজে তিনি এগিয়ে এসেছিলেন। তেলরঙের ছবিতে রাজার প্রধান ও কনিষ্ঠ দুই রাণী কেই দেখা যাচ্ছে। এই ছবিটির ব্যাখ্যা করে চ্যান্সেলর বলেন-তেলরঙের ছবিতে ডানদিকে যে মহিলা আছেন তিনি রানী দেবজমণি,রাজার কনিষ্ঠ রানী তিনি।

তার বাঁ হাত  শাড়ি দিয়ে ঢাকা ছিল। তিনি নিজের সম্ভ্রম ও সম্মান বোধ কে রক্ষা করে শাড়িটা সামান্য সরিয়ে দেখিয়েছিলেন যে কোথায় তিনি টিকা নিয়েছিলেন। ছবির বাঁদিকে যিনি ছিলেন তিনি রাজার প্রধান রানী তার নাম ও দেবজমণি। এই রানীর নাক আর মুখের কাছে বিবর্ণ চামড়া স্মল পক্স এর জন্য হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে এডওয়ার্ড জেনার নামে একজন ডাক্তার স্মল পক্সের এই টিকা আবিষ্কার করেছিলনে। তখন টিকা আবিষ্কার এর সময়কাল হয়েছে মাত্র ছয় বছর। তাই এই টিকার প্রয়োগ ও ফলাফল নিয়ে ভারতীয়দের মনে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। তবে ব্রিটিশরা চাইছিলেন ভারতীয়রা এই টীকা নিক।

মানুষ যখন এই টীকাকে বিশ্বাস করে এগিয়ে আসতে পারছেন না, তখন ওয়াদিয়ারার রানী  দেবজমণি স্মল পক্সের ভ্যাকসিনের প্রচারের কাজে এগিয়ে আসেন। ওয়াদিয়ারা ব্রিটিশদের প্রতি অত্যন্ত কৃতঞ্জ ছিলেন কারণ তিরিশ বছর নির্বাসনে থাকার পর ব্রিটিশরাই তাদের হৃত সিংহাসন ফিরিয়ে দেন।

GETTY IMAGES

আরও পড়ুন : হাম হলে সেটাকে মায়ের দয়া বলা হয় কেন? 

সেই সময় ভারতে গুটিবসন্তের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার ছিল খুব বেশি। শরীরের  গুটিগুলো যখন ফাটতো তখন অসম্ভব যন্ত্রণায় মারা যেত অনেকেই। আর যারা বেঁচে যেত তাদের সারা মুখ ও শরীরে থেকে যেত ভয়ানক ক্ষতচিহ্ণ, অনেকের বদলে যেত চেহেরা।

চিকিত্সার জন্য রোগীর পুঁজ শুকিয়ে, সেটাকে গুড়ো করে  পাউডার বানিয়ে তা নাক দিয়ে টেনে রোগজীবাণু শরীরে ঢোকানো হতো। এটা করা হতো মা শীতলাকে তুষ্ট করার জন্য। পুরোহিতরা ওই রোগ জীবাণু সুস্থ মানুষের নাক দিয়ে ঢোকানোর কাজ করতেন।