শিবরাত্রি নিয়ে প্রচলিত সব পৌরাণিক ধারণা ও গল্পকথা

মহা শিবরাত্রি হিন্দুদের দ্বারা পালিত একটি উৎসব। এই তিথিতে মহাদেবের আরাধনা এবং অর্চনার মধ্যে দিয়ে ব্যাক্তি তার মনোবাঞ্ছা পূরণের আর্জি জানায় মহাদেবের উদ্দেশ্যে। এই বিশেষ দিনটিকে নিয়ে অনেকগুলো ধারণা এবং পুরান কথা প্রচলিত আছে।

শিব পুরাণ অনুযায়ী পুরাণ কালে সুদর্শন নামের এক রাজা ছিলেন। একবার তিনি তার পোষ্য কুকুরের সাথে গভীর বনে শিকারের জন্য বেরিয়েছিলেন। সারাদিন ধরে কোনো শিকার করার মতন প্রাণী খুঁজে না পেয়ে তিনি ক্ষুধার্থ এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তিনি রাতে একটি জলাধারের পারে এসে উপস্থিত হলেন।সেখানে তিনি একটা বেল গাছের তলায় একটা শিবলিঙ্গ খুঁজে পেলেন এবং সারারাত জেগে সেই শিবলিঙ্গের আশপাশের পাতা এবং ধুলো পরিষ্কার করে সেই জল দিয়ে শিবলিঙ্গ টিকে পরিষ্কার করলেন। এরপর পরেরদিন সকালে নিজের গৃহে ফিরে তিনি তার ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা নিবারণ করলেন।

সেই রাতটি ছিল শিবরাত্রির পূণ্য তিথি। সেইদিন সেই রাত্রি জাগরণের ফলে তার মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। তার মৃত্যুর পর তাকে যমলোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যমদূত উপস্থিত হন। তারা তাকে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় তখন মহাদেবের দূত তাদের সাথে লড়াই করে তাকে সেই বাঁধন থেকে মুক্ত করে এবং স্বর্গলোকে মহাদেবের অনুচরদের সাথে তাকে যুক্ত করে।

হিন্দু পুরাণ অনুসারে এই দিনের মাহাত্ম্য নিয়ে অনেকগুলি মত প্রচারিত আছে। একটি মত অনুসারে এই পূণ্য তিথিতে মহাদেবের সাথে মাতা পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। সতীর মৃত্যুর পর মহাদেব অনন্ত ধ্যানে মগ্ন হন তখন আদ্যাশক্তি মাতা পার্বতীর রূপ ধরে মহাদেবকে স্বামী রূপে পাওয়ার জন্য কঠোর ধ্যান করেন এবং অবশেষে মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ হয় এবং এই তিথিতে তাদের মহা মিলন ঘটে। বিবাহিত নারীরা মনে করেন এই ব্রত করলে তাদের স্বামীর মঙ্গল হবে এবং অবিবাহিত নারীরা এই ব্রত পালন করলে মহাদেবের মতন স্বামী লাভ করবেন।

অনেকে বিশ্বাস করেন যে এই তিথিতে মহাদেব তার রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন এবং তাণ্ডব নৃত্যের মাধ্যমে সৃষ্টির ধ্বংসের পরিস্থিতি নিয়ে আসেন। তাই তাকে শান্ত করার জন্য তার আরাধনা করা হয়।

অনেকের বিশ্বাসে এই তিথিতে সৃষ্টি এবং জীবনের যাবতীয় ঘটনার জন্য দেবাদিদেব মহাদেবকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তার আরাধনা করা হয়। সমুদ্র মন্থনের সময় মহাদেব নিজে গরল পান করেন জার ফলে তার কন্ঠ নীল বর্ণ ধারণ করে এবং তিনি নীল কণ্ঠ নামে পরিচিত হন। নিজে গরল পান করে তিনি সৃষ্টিকে রক্ষা করেন এবং তাকে সুন্দর করে তোলেন। এই ঋণ পূরণ করার জন্য প্রতি বছর এই তিথিতে তার আরাধনার মধ্য দিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

শিবরাত্রি নিয়ে অনেকগুলো ধারণা প্রচলিত থাকলেও একথা সত্যিই যে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের কাছে এই দিনের মাহাত্ম্য খুব বেশি এবং নিষ্ঠা ভরে মহাদেবের উদ্দেশ্যে এই দিন সমগ্র ভারতে পালন করা হয়।