শ্রুতিকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা ট্রোল, ট্রোলারদের ধুয়ে দিলেন মোহর

উন্নত প্রযুক্তির দুনিয়ায় দুনিয়াটা আদতেই খুব ছোট হয়ে এসেছে। বলতে গেলে সম্পূর্ণ দুনিয়া এখন আমাদের হাতের মুঠোয় বন্দি। এই পৃথিবীতে কোথায় কি হচ্ছে, কে কি করছেন, কি বলছেন, সবটাই মুহূর্তের মধ্যে আমাদের হাতের মুঠো ফোনে চলে আসে। মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই আবার এই সুযোগ পেয়ে সেই সুযোগের অপব্যবহার করতেও ছাড়ছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন যেন প্রকাশ্যেই অন্যকে হেনস্থা করার ওপেন প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মজার মজার মিম (Meme) এবং ট্রোল (Troll) ভাইরাল হয়। সবাই সেগুলি দেখেন, পড়েন এবং মজা পান। আর তা করতে গিয়ে অনেকেই নির্দিষ্ট সীমা লংঘন করে যান। যার ফলশ্রুতিতে অন্যের মনে আঘাত দিয়ে মিম এবং ট্রোল বানাতে শুরু করেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ার সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ যেন এভাবে বিষিয়ে ওঠে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিমার বা ট্রোলারদের সফট টার্গেট হয়ে ওঠেন সেলিব্রেটিরা।

বিশেষত, বাংলা সিরিয়ালের (Bengali Mega Serial) অভিনেত্রীদের নিয়ে ইদানিং যেন ট্রোলারদের মাথাব্যাথা কিছু বেশিই রয়েছে। সিরিয়ালের চিত্রনাট্যের গতিপথ থেকে শুরু করে অভিনেত্রীদের চেহারা, সব কিছুই রয়েছে ট্রোলারদের নিশানায়। এই যেমন সম্প্রতি অভিনেত্রী শ্রুতি দাসকে (Shruti Das) নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। অভিনেত্রীর ত্বকের রঙ, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরা-অশ্লীল বাক্যের বন্যা বয়ে যাচ্ছে নেট মাধ্যমে।

অবশ্য ট্রোলারদের সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের দ্বারস্থ হয়েছেন শ্রুতি। তবে এই সমস্যা শুধু শ্রুতির একার নয়। টলিউডের একাধিক অভিনেত্রীকেই কমবেশি এই সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। অনেকেই হয়তো বিষয়টি এড়িয়ে যান, তবে সবকিছুই তাদের নজরে পড়ে। এ বিষয়ে এবার মুখ খুললেন মোহর অর্থাৎ সোনামনি সাহা (Sonamoni Saha)। নেটিজেনদের নিশানায় রয়েছেন তিনিও।

ঠিক কী বললেন অভিনেত্রী? সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সোনামণি জানিয়েছেন, “আমি ট্রোলকে বিশেষ পাত্তা দিই না। অনেকে অনেক কিছু বলে। আগে যখন ‘দেবী চৌধুরাণী’ করতাম, বাপ্পি লাহিড়ীর থেকে বেশি গয়না পরছি বলে ট্রোল করা হয়েছে। এখন মোহর খুব আদর্শবাদী বলে ট্রোল করা হয়। তিনি আরও বলেছেন, যখন মোহরকে ট্রোল করা হচ্ছে না তখন সোনামণিকে কিছু না কিছু বলে ট্রোল করা হয়”।

শ্রুতির মতো সোনামণিও কী তাহলে সাইবার সেলের দ্বারস্থ হবেন? এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর উত্তর, “এখনো বিষয়টা এমন পর্যায়ে যায়নি যে আমি আইনি অভিযোগ জানাবো। অনেক সময় খারাপ মন্তব্য পেলে ব্লক করে দি। আমার জন্য এরা দিনের কিছুটা সময় ব্যয় করে। তাও খারাপ কমেন্ট করার জন্য”। তবে এই বিষয়টিকে কিন্তু একটু অন্যভাবেই অনুভব করেন অভিনেত্রী। বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচক ভঙ্গিতে নিয়েছেন সোনা

সোনামণির বক্তব্য, ট্রোলাররা খারাপ কমেন্ট করলেও কার্যত তাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, “ভালো হোক বা খারাপ, সেই তো আমার কথাই ভাবতে হচ্ছে”। অর্থাৎ সোনামণির বক্তব্য থেকে এটা ভীষণ স্পষ্ট যে, ট্রোলাররা যদি খুব বাড়াবাড়ি শুরু করেন তাহলে শ্রুতির পথেই হাঁটবেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবেন না অভিনেত্রী।