লড়তে হলে বর্ডারে গিয়ে লড়ুন, ফেসবুকে নয়! বিস্ফোরক শহিদ বায়ুসেনার স্ত্রী

113

গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় ভারতীয় সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর জৈস-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের আত্মঘাতী হামলায় শহীদ হোন ৪৯ জন জওয়ান। ঘটনায় আহত আরো অনেক জওয়ান। হামলার পর থেকেই গোটা দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার ক্ষোভে ফুঁসছিল। কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকেও একের পর এক চাপ সৃষ্টি করা হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাতেও যেন ভারতীয়দের রাগ প্রশমিত হচ্ছিল না।

all you need to know about mirage-2000

অবশেষে সেই রাগ কিছুটা হলেও প্রশমিত হয় ২৬ শে ফেব্রুয়ারির ভোররাতে পাকিস্তানের আকাশে ৮০ কিলোমিটার প্রবেশ করে ভারতীয় বায়ুসেনার বদলার এয়ার স্ট্রাইকে। এই এয়ার স্ট্রাইকে নিহত হয় কমপক্ষে ৩০০ জন জঙ্গি সূত্রের খবর। যাদের মধ্যে অনেকেই জৈস-ই-মহম্মদ জঙ্গী সংগঠনের শীর্ষ কর্তাও রয়েছেন। ধ্বংস হয়ে যায় ওই জঙ্গী সংগঠনের কন্ট্রোল রুম ও সদর দপ্তর।

তারপর থেকেই কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি সীমান্ত এলাকায়। পরপর সংঘর্ষ বিরতি লংঘন করে হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তানি সেনা। পাকিস্তান হামলা চালিয়ে ভারতীতের একটি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করে। থেমে নেই ভারতও। পাক সেনাদের হামলায় জবাব দিতে গিয়ে গত বুধবার কাশ্মীরের বদগামে ভেঙ্গে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি যুদ্ধবিমান। সেই বিমানের পাইলট ছিলেন নিনাদ। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বিজেতার স্বামী ওই পাইলট।

তারপরেই পাইলট নিনাদের স্ত্রী বিজেতা সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, সীমান্ত সমস্যা মেটাতে যুদ্ধের ক্রমাগত যুদ্ধের ফরমান তাঁকে বিরক্ত এবং আহত করেছে। শহিদ সেনা নিনাদ মাণ্ডবগণের স্ত্রী বিজেতা মন্তব্য করেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধের যে ক্ষতি, সেটা আপনারা জানেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার যোদ্ধারা এবার থামুন। এখনও যদি আপনারা যুদ্ধ চান তা হলে সীমান্তে যান।”

পাইছেন আর পাইলট নিদান অর্থাৎ বিজেতার স্বামী মারা যাওয়ার পর তার জীবন ঘিরে দেখা দিয়েছে হাজার প্রশ্ন। তার মাঝেই সীমান্ত এলাকা উত্তপ্ত হওয়া থেকে কোনরকম নিস্তার নেই। আঘাত পাল্টা আঘাতে প্রতিদিনই খবর মেলে সেনা জওয়ানের মৃত্যুর। আর এই শহীদের সংখ্যা যতই বাড়ছে ততই রোষে ফেটে উঠছে দেশের মানুষ। দেশের মানুষের সেই রোষের প্রতিফলন ঘটছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যুদ্ধের পক্ষে বারবার তারা দাবি তুলছেন। পাল্টা আক্রমণ প্রতিশোধের মূলমন্ত্র হিসাবে গলা ফাটাচ্ছেন তারা।

আরে এসময় যখন, দেশের সাধারণ মানুষেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের পক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন, তখন শহীদ বায়ুসেনার পাইলট নিদানের স্ত্রী বিজেতা দেশের সাধারণ মানুষের বললেন, “আপনারা যদি সত্যিই শহীদ নিদানের জন্য কিছু করতে চান, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় চিৎকার করে নয়, বরং নিজে সৈন্যবাহিনীতে যোগ করে অথবা বাড়ির কাউকে সৈন্যবাহিনীতে যোগ করে দেশ রক্ষার সেই দায়িত্ব নিন। আর যদি সেটাও না পারেন তাহলে একটা কাজ করুন। বাড়ির আশেপাশে নোংরা পরিস্কার করুন, রাস্তাঘাট নোংরা করবেন না, মহিলাদের হেনস্থা করবেন না। তাহলেই আপনার নিদানের জন্য এবং দেশের জন্য কিছু করা হবে।”

Read More : এয়ারস্ট্রাইকের প্রশ্ন তুলে পাকিস্তানের সংবাদ শিরোনামে মমতা

গত বুধবার যান্ত্রিক কারণে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের এমএই ১৭ যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ভেঙে পড়ে কাশ্মীরের বদগামে। এই যুদ্ধ বিমানেই ছিলেন পাইলট নিদান। এই যুদ্ধ বিমানেই ছিলেন নিদান ছাড়াও ভারতীয় বায়ুসেনার আরও ৬ জন সদস্য, যাঁদের সকলেরই মৃত্যু হয়, সাথে মৃত্যু হয় এক সাধারণ নাগরিকেরও। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাসিকের বাসিন্দা শহীদ জাওয়ান নিদান ছোটবেলা থেকেই বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

বায়ুসেনাতে যোগ দেওয়ার আগে নাসিকেই হয় তাঁর পড়াশোনা। ২০০৯ সালে তিনি একজন ভারতীয় বায়ুসেনার সৈনিক হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। একজন দক্ষ পাইলট হিসাবে সুখ্যাতিও ছিল তাঁর। এ নিয়ে পরিবারের অহংকার এবং গর্বও কম ছিল না! কিন্তু এই যাকে নিয়ে এত গর্ব ও অহংকার সেই মানুষটাই শেষ হয়ে গেল। আর সেই সমস্ত গর্ব ও অহংকারকে ছাপিয়ে গেল শোকের ছায়া। ঠিক একইভাবে শহীদ হওয়া সমস্ত সেনা জওয়ানদের পরিবারদের ক্ষেত্রেও তাদের গর্ব এবং অহংকারকে ছাপিয়ে যায় শোকের ছায়া। আর সেই শোকের ভার বহন করা বড়ই কঠিন সেনা পরিবারগুলির পক্ষে।