দুটো মা, দুটো বাবা, দুটো বউ নিয়ে সুখেই আছে ডিঙ্কা, কটাক্ষ নেটিজেনদের

রোহিত সেন এবং শ্রীময়ীর (Sreemoyee) বিয়ের সানাই বাজছে আনন্দ নিকেতনে। যেদিন থেকে শ্রীময়ী-রোহিতের বিয়ের দিকে ঘুরেছে ধারাবাহিকের গল্পের মোড়, দর্শক দুই দলে ভাগ হয়ে গিয়েছেন। শ্রীময়ীর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন একদল, অপর দল সমালোচনায় ব্যস্ত। আর তার মাঝখান থেকেই ধারাবাহিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলির মধ্য থেকে মজার মজার মিম কনটেন্ট খুঁজে নিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ার মিমাররা। রোহিত-শ্রীময়ী এখন অতীত। মিমারদের নজরে এখন শ্রীময়ী-পুত্র ডিঙ্কা!

কেন হঠাৎ ডিঙ্কাকে নিয়ে মিম বানাচ্ছেন তারা? আসলে ধারাবাহিকের সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে মিম বানাতে গিয়ে অনায়াসেই ডিঙ্কার নাম জড়াতে যে বাধ্য! কারণ একই ধারাবাহিকে বারবার বিয়ে দিতে গিয়ে কার্যত গল্পকার ইতিমধ্যেই ডিঙ্কার জীবনে দুটো মা (শ্রীময়ী এবং জুন), দুটো বউ (কিয়া এবং অর্ণা) এনে ফেলেছেন। এখন আবার রোহিত-শ্রীময়ীর বিয়ে হলে অনিন্দ্য পাশাপাশি রোহিত সেনও সম্পর্কে ডিঙ্কার বাবা হয়ে যাবেন! এরকমই একটি মিম সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে।

মিমের মাঝে রয়েছে ডিঙ্কার ছবি। তাকে ঘিরে চারপাশে রয়েছে অনিন্দ্য-রোহিত, শ্রীময়ী-জুন, কিয়া-অর্ণাদের ছবি। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা, ‘ডিঙ্কার দুটো বাবা। দুটো মা। দুটো বৌ। এটাই জীবন…’। অর্থাৎ জীবনে যেন দ্বিগুণ সম্পর্কের পুরস্কার পেয়েছে ডিঙ্কা! এই মিম খোদ ডিঙ্কা অর্থাৎ সপ্তর্ষি মৌলিকের (Saptarshi Moulik) চোখেও পড়েছে। তবে এই বিষয়ে অবশ্য বেশি কিছু অস্বাভাবিকতা খুঁজে পাননি সপ্তর্ষি। ঠিক কি যুক্তি দিলেন অভিনেতা?

আনন্দবাজার অনলাইনের কাছে একটি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সপ্তর্ষি জানিয়েছেন, কোনও ধারাবাহিক যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে তাতে বৃহত্তর জীবন ধরা পড়তে বাধ্য। আদতে তখন ধারাবাহিক হয়ে যায় লার্জার দ্যান লাইফ। ঠিক সেই জন্যই ডিঙ্কার জীবনে দুজন বাবা, মা এবং বউ। ধারাবাহিককে লার্জার দ্যান লাইফ করে তুলতেই কার্যত শ্রীময়ী ধারাবাহিকে প্রত্যেকের ২ বার বিয়ে দেখানো হয়েছে।

সপ্তর্ষি আরও বলেছেন, শ্রীময়ী ধারাবাহিকের প্রতিটি চরিত্র আসলে সমাজের প্রতিনিধি। অনিন্দ্য, শ্রীময়ী এবং জুনের মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ আছেন এই সমাজে। যাদের জীবনে এমন ঘটনাই ঘটে চলেছে। আবার ডিঙ্কার মতো ছেলেদের সংখ্যাও নেহাত কিছু কম নয়। যারা ভুল বিয়ে ভেঙে বেরিয়ে এসে জীবনে সুখী হওয়ার চেষ্টা করে। এরমধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু নেই বলেই দাবি সপ্তর্ষির।

একই সঙ্গে সপ্তর্ষির সংযোজন, বর্তমান প্রজন্মের সব সম্পর্ক এমনভাবেই বিপর্যস্ত এবং জটিল হয়ে উঠছে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য অনেকেই কাউন্সিলিংয়ের দ্বারস্থ হন। তবে সেকথা সর্বসমক্ষে স্বীকার করে নেওয়ার সাহস পান না।

প্রসঙ্গত, শ্রীময়ী ধারাবাহিকের এই নতুন মোড় নিয়ে দর্শকের তরফ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। একদল দর্শক মনে করছেন শ্রীময়ী এবং রোহিতের বিয়ে সমাজে ভালো প্রভাব ফেলবে। সমাজকে নতুন ভাবে ভাবতে শেখাবে। তবে সমালোচকদের দাবি, এই ধারাবাহিক সমাজে কুপ্রভাব ফেলবে।