মিলছে না বেতন, প্রতিবাদে বন্ধ সিরিয়ালের শুটিং, বন্ধ জনপ্রিয় ধারাবাহিক

দীর্ঘ প্রায় কয়েক মাস পরে স্টুডিও পাড়ায় আবার কাজে গতি এসেছে। সব ধারাবাহিকের (Serial) শুটিং শুরু হয়েছে। নতুন ধারাবাহিকের শুটিংও চলছে জোর কদমে। বাঙালির ঘরে ঘরে আবারও সন্ধ্যে হলেই টিভির (Telivision) সামনে মা-ঠাকুমাদের জলসা বসছে। লকডাউন পেরিয়ে কাজে ফিরতে পেরে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন শিল্পীরা। শিল্পীদের ফিরে পেয়ে স্টুডিও পাড়াও বেশ জমজমাট। তবে তার মধ্যেই ঘটলো ছন্দপতন।

দীর্ঘদিন কাজ করেও বেতন পাওয়া যাচ্ছে না। বকেয়া বেতন পাওয়ার দাবিতে তাই শুটিংই বন্ধ করে দিলেন জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক ‘নয়নতারা’র (Nayantara) কলাকুশলীরা। তাদের দাবি, তাদের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়নি। বকেয়া পাওনা না পেয়ে সোমবার মধ্যাহ্নভোজনের পরই শুটিং বন্ধ করে দিয়েছেন ধারাবাহিকের একাধিক শিল্পী। ‌ ধারাবাহিকের প্রযোজক অবশ্য কলাকুশলীদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে সোমবারের মধ্যেই তাদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে। তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

 

‘নয়নতারা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ক্রিস্টাল ড্রিমসের কর্ণধার কনক ভট্টাচার্য অবশ্য এর পেছনে কলাকুশলীদের কোনও গূঢ় দুরভিসন্ধির আভাস পাচ্ছেন। তার পাল্টা দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে সমস্যায় ফেলার জন্যই তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি মনে করছেন, তার হাতে যেহেতু এখন পর পর কাজ রয়েছে, তাই তাকে বিপদে ফেলার জন্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘‘স্বাধীনতা দিবসের ছুটি, সার্ভার ডাউনের কারণে ব্যাঙ্কের লেনদেনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই মতো শুক্রবারের বকেয়া পাওনা সবাই পাবেন সোমবার। ব্যাঙ্কের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার পর সে কথা জানাই সবাইকে। সবাই প্রাথমিক ভাবে মেনেও নেন।” তবে সমস্যা দেখা দেয় সোমবার দুপুরের পর থেকে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত টাকা না পেয়েই ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিন কলাকুশলী উত্তম, সৌরভ, লাল বাহাদুর।

কনক ভট্টাচার্যের দাবি, সার্ভারের কিছু খামতি থাকার কারণেই কলাকুশলীদের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে তার করার কিছু ছিল না। তবুও ওই তিনজন শিল্পী কাজ বন্ধ করে দেন। শিল্পীদের দাবি, এমন ঘটনা তাদের সঙ্গে আগেও ঘটেছে। তাই তারা আর কাউকে ভরসা করতে পারছেন না। যদিও প্রযোজক আশ্বস্ত করেছিলেন সোমবার রাতের মধ্যেই তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।

প্রযোজকের দাবি, ওই তিনজন কলাকুশলী ছাড়া বাকি অন্যান্য শিল্পী এবং কলাকুশলীরা অবশ্য তার পাশে রয়েছেন। প্রযোজকের আক্ষেপ, তিনি এর আগেও বহু ধারাবাহিকের কাজ করেছেন। এমন সমস্যাও তার কাছে নতুন নয়। তবে প্রতিবার কলাকুশলীদের থেকে তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন। বকেয়া পাওনা না পাওয়ার কারণে এইভাবে মাঝপথে শুটিং বন্ধ হয়ে যায়নি। আবার কলাকুশলীদের টাকা না মেটানোর দরুন তাকে যে সংবাদমাধ্যমের সম্মুখীন হতে হবে, এমনটাও তিনি আশা করেননি।

তার দাবি, মউ স্বাক্ষর এবং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরেও একটু কিছু হলেই ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার আশু সমাধান হওয়া প্রয়োজন। তাই ফেডারেশন এবং প্রয়োজনে প্রডিউসার্স গিল্ড ও আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছেন তিনি। ফেডারেশনের সম্পাদক অপর্ণা ঘটকও আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের সাহায্য চাওয়া হলে তারা সব রকম সাহায্য করবেন।