হিন্দু ধর্মে মেয়েদের নানান অলঙ্কার পরার পেছনে আশ্চর্যজনক বৈজ্ঞানিক কারণ

বলা হয়ে থাকে, নারী সৌন্দর্যের আধার। অলঙ্কার সেই সৌন্দর্যে বাড়তি আলো ফেলে। ঝলমল করে ওঠে রূপ। আবার অলঙ্কার মানে আভরণ। শরীরের খাঁজ, ভাঁজকে আরও স্পষ্ট আকর্ষণীয় করে তোলে গয়না। মাথার টিকলি থেকে পায়ের আঙুলের রিং – শরীরের প্রত্যেক অঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট গয়না আছে। ভারতীয় নারীর ক্ষেত্রে অলঙ্কার অঙ্গের মতো। বৈদিক যুগ থেকে শরীরের প্রত্যেক প্রত্যঙ্গের জন্য আছে নির্দিষ্ট গয়না। মোট ৩৬ টি। শরীরে অলঙ্কার ধারণ করার জন্য আছে কারণ এবং বিশ্বাস। প্রতি অলঙ্কারের জন্য নির্দিষ্ট ধাতু আছে। আছে বৈজ্ঞানিক কারণ।

সোনা এবং রূপা

বৈজ্ঞানিক ভাবে, সোনা শরীরের শক্তি বা এনার্জির সঙ্গে আর রূপো পৃথিবীর শক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। তাই শরীরের ওপরের অংশের জন্য সোনা এবং কোমরের নীচের অংশের অলঙ্কারের জন্য রুপো ব্যবহার করা হয়।

Source

বালা বিজ্ঞান

কব্জির অলঙ্কার বালা বা চুড়ি। দুটো বালা বা চুড়ির বারবার ঘর্ষনের ফলে দেহের রক্ত সংবহন বাড়ায়। বালা গোল হওয়ার কারণেই শরীরে বিদ্যুৎ তরঙ্গ বেরিয়ে যেতে পারে না।
বহু প্রাচীন অলঙ্কার বালা। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বালা পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ২০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বালার প্রচলন হয়। সেইসময় তামা বা ব্রোঞ্জ দিয়ে বালা তৈরি হত।
লাল রঙের বালা বা চুড়ি শক্তির প্রতীক, নীল প্রজ্ঞার এবং রক্তবর্ণ বালা বা চুড়ি স্বাধীনতার প্রতীক। সবুজ চুড়ি বা বালা ভাগ্য, হলুদ সুখ, কমলা সাফল্য এবং সাদা রঙের বালা নতুন শুরু এবং কালো রঙের বালা শক্তির প্রতীক। চুড়ি বা বালা রূপোর তৈরি হলে সেটা শক্তি এবং সোনার তৈরি হলে ভাগ্য বোঝায়।

আরো পড়ুন : ১২ হিন্দু পরম্পরার অবাক করা বৈজ্ঞানিক কারণ

Source

সিঁদুর বিজ্ঞান

কুমকুম বা সিঁদুর পরা প্রায় ৫০০০ বছরের প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতি। পৌরাণিক কিংবদন্তি অনুযায়ী, কৃষ্ণের সখী রাধা কপালে সিঁদুর পরতেন শিখার মতো করে। শাস্ত্র অনুযায়ী, লাল কুঙ্কুম শক্তির প্রতীক। মানব শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেবতা অবস্থান করেন। ললাটে অধিষ্ঠান করেন ব্রহ্মা। লাল কুঙ্কুম ব্রহ্মাকে তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া, কপালের ঠিক মধ্যভাগে সূর্যালোক পড়ার ব্যাপারটাকে আটকাতেও সিঁদুর ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করা যায়। অনেক পুরাণেও সিঁদুরের ব্যবহার পাওয়া যায়।

Source

টিপ পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

টিপ বা বিন্দি পড়া হয় দুই ভ্রু’র মাঝখানে। দেহের সব গুরুত্বপূর্ণ নার্ভগুলির সংযোগস্থল এটি। তাই এই জায়গায় টিপ পড়লে শান্ত রাখে। শিরা উপশিরাগুলি শিথিল হওয়ার কারণে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই স্থানে অল্প চাপ পড়লে আমাদের নাক, মাথা, ও মুখের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।
চোখের শিরার ফাইবার বহনকারী শিরাগুলির কেন্দ্রস্থল আমাদের কপালে৷ আমাদের চোখের চারপাশে যত পেশি রয়েছে সেগুলি এই শিরার সঙ্গে যুক্ত৷ ফলে এই স্থানে চাপ বা মেসেজ করলে তা আমাদের চোখের পক্ষে উপকারী৷ দূরের এবং কাছের জিনিসকে স্পষ্ট করে দেখতে চোখের যে পেশি ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তিশালী রাখতে পারে এই জায়গার মেসেজও৷

Source

পায়ে আঙট পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

সাধারণত পায়ের দ্বিতীয় আঙুলে আঙট পরেন ভারতীয় বা হিন্দু নারীরা। এই আঙুল থেকে একটি বিশেষ স্নায়ু গর্ভাশয় হয়ে সোজা হৃৎপিণ্ডে চলে যায়। ফলে এই পায়ে আঙট পরিধান করলে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রিত করে গর্ভাশয়কে রাখে সতেজ। ঋতুচক্রও স্বাভাবিক থাকে।

Source

নূপুর পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

রুপোর নূপুরে এমন কিছু উপাদান থাকে যাতে কোমর বা হাঁটুর ব্যাথা থেকে মুক্তি দেয়। শরীরে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। হরমনের অসামঞ্জস্যতা জনিত নানান সমস্যা মেটানোর সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
সোনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যতের সম্পদ হিসাবেও প্রতি ঘরে গচ্ছিত থাকে থাকে সোনা। মূল্যবান ও দামি বস্তু পায়ে ঠেকাতে সংস্কারে বাঁধে। তাই রুপোর নূপুর ব্যবহার করা হয়।

কোমরবন্ধ পরার বৈজ্ঞানিক কারণ

প্রাচীন কাল থেকে কোমরবন্ধ একটি জনপ্রিয় গহনা এবং প্রায় প্রতিটি ঐতিহাসিক দেবতা, রাজা এবং রানির ছবি বা ভাষ্কর্যে এটি দেখা যায়৷ কোমরবন্ধ পোশাকের ওপর ঘেরা থাকে এবং/অথবা কাপড়ের একটি অংশ ধরে রাখে আর সোনা দিয়ে তৈরি করা হয় যা প্রথাগত পোশাকের বয়নকে পূর্ণতা দেয়৷ সোনা দিয়ে তৈরি কোমরবন্ধ শক্ত বা নমনীয় হতে পারে৷ এগুলি করধানী বা কোমরবন্দ নামেও পরিচিত৷ সাধারণত সোনা বা রুপোর কোমরবন্ধ তৈরি হয়। বিশেষ ভাবে চর্বি নিয়ন্ত্রন করতে কোমরবন্ধ ব্যবহার করেন নারীরা।সোনার কোমরবন্ধ বিবাহের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়৷ তার সাথে, এটিও বিশ্বাস করা হয় যে সোনা বিবাহিত মহিলাকে গর্ভ সম্পর্কিত অসুখ থেকে প্রতিহত করে৷

Source

মঙ্গলসূত্র পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

বিবাহিত নারীর চিহ্ন মঙ্গলসূত্র। বিশ্বজগতে বিদ্যমান বিষাক্ত কম্পন ধ্বংস করে মঙ্গলসূত্র। এতে থাকা কালো পুঁতি নেতিবাচক শক্তি শোষণ করে দেহ পরিশুদ্ধ রাখে।

Source

কানে দুল পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

যতটা সৌন্দর্যের জন্য তার চেয়েও বেশী স্বাস্থ্যের জন্য পড়া হয় কানের দুল। মহিলাদের স্থূলতা এবং ঋতুচক্র স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে কানের দুল। দুল পরলে কানের লতিতে চাপ পড়ে। এর ফলে আমাদের খিদে বাড়ে এবং হজমে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : হিন্দু বিয়েতে বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রের মা থাকতে পারেন না কেন ?

নাকছাবি পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

বিজ্ঞানসম্মতভাবে নারীদের নাকের বাম দিক জনন অঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণে নাকে নাকছাবি পরলে তা সরাসরি জনন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে। ফলে নারীদের গর্ভধারণে কোনও সমস্যা থাকলে তা প্রতিহত হয়, সেই সঙ্গে সহজে গর্ভধারণের পথ প্রশস্ত হয়।
কানে দুল পরলে শুধু যে সুন্দর দেখায়, তা কিন্তু নয়! এটি আমাদের স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আসলে দুল পরর কারণে মস্তিষ্কের বিশেষ বিশেষ অংশে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের জোগান বেড়ে যাওয়ার মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অনেক পুরুষকেই কানে দুল পরতে দেখা যায়। কারণ যাই হোক, বেশ কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে পুরুষেরা কানে দুল পরলে স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি পায়।

আঙটি পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

হাতের আঙুলগুলি কোনও না কোনও ভাবে দেহের কোনও না কোনও অংশের সাথে জড়িত। কোনো আঙুল মস্তিষ্কের এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে হরমোন ক্ষরণ আঙুলের উপরে নির্ভরশীল।

Source

নেকলেস পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

নেকলেস নারী শরীরে সুখের প্রবাহ তৈরি করে। প্রকৃতির ইতিবাচক শক্তি আকর্ষন করে শরীরে প্রবেশ করাতে সাহায্য করে নেকলেস।

আরো পড়ুন : ১২ হিন্দু পরম্পরার অবাক করা বৈজ্ঞানিক কারণ

টিকলি পড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মাথার যে বিন্দুতে টিকলি আটকানো হয় সেটিকে বলা হয় ‘অঞ্জন চক্র’। যা জানা বা উপলব্ধি করা বোঝায়। এখান থেকে কপালে নেমে আসে টিকলি। একই সঙ্গে স্মরণশক্তি বাড়ায়। মনে রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন