সূর্যালোক থেকে জ্বালানী! ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর উদ্ভাবন 

পর্যায় সারনির সবচেয়ে হালকা মৌল হাইড্রোজেন। গঠন বিন্যাসও সহজ সরল। মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন পাওয়াও যায় প্রচুর। মনে করা হয়, বিগ ব্যাংয়ের পর প্রথম গঠিত উপাদানগুলির মধ্যে হাইড্রোজেন অন্যতম। তবে হাইড্রোজেন প্রচণ্ড দাহ্য। অক্সিজেন বা ক্লোরিনের সঙ্গে মিশলে শক্তিশালী যৌগ উৎপন্ন হয়। রকেট উৎক্ষেপণের সময় মহাকাশযান পাঠানোর সময় এই হাইড্রোজেনই জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

বাতাসে আগুনের যে শিখা জ্বলে তা হাইড্রোজেন। অক্সিজেনের সঙ্গে মিশলে উৎপন্ন হয় জল। এই বিক্রিয়ায় যে শক্তি নির্গত হয় তাই জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করি আমরা। গাছেদের সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতির অনুকরণে জ্বালানি তৈরিতেও সাফল্য মিলেছে৷ সবুজ পাতা ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে যেভাবে সূর্যালোকের শক্তিকে খাদ্যবস্তুতে রূপান্তরিত করত এবার সে পদ্ধতিই নেওয়া হয়েছে জ্বালানি তৈরিতে৷ সূর্যালোক ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে হাইড্রোকার্বন জ্বালানি৷ যা করছে বিজ্ঞানীদের তৈরি কৃত্রিম পাতা৷ আসলে যা এক বিশেষ ধরনের সোলার সেল৷ এর মধ্যে আছে সিলিকন-ট্রিপল জাংশন ফটোভোল্টিক সেল৷ এবার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সূর্যালোক ও কার্বন ডাই অক্সাইডের বিক্রিয়ায় অবিকল সালোকসংশ্লেষের মতো মুক্তি পাচ্ছে অক্সিজেন ও তৈরি হচ্ছে জ্বালানি৷

আরো পড়ুন : ১০টি আবিষ্কার যা আমাদের জীবনের গতি পাল্টে দিয়েছে

এভাবেই যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ডঃ গোবিন্দর সিং পাওয়ার উদ্ভাবন করেছেন সূর্যালোক থেকে জ্বালানী তৈরির উপায়। একটি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, ‘সাধারণত জল এবং সূর্যালোক থেকে খুব সহজেই হাইড্রোজেন পাওয়া যায়। হাইড্রোজেন জ্বালানী হিসাবে ইতিমধ্যে পরীক্ষিত। বিশেষত মহাকাশযানে হাইড্রোজেনই জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পেট্রলিয়ামের বিকল্প হিসাবে হাইড্রোজেনে কার্বন থাকে না। ফলে দূষণও হয় না। উদ্ভিদ যেমন সূর্যালোকের সাহায্যে জল থেকে হাইড্রোজেন আলাদা করে নেয় তেমনই একটি বিশেষ ভাবে তৈরি প্রোটিনের সাহায্যে সূর্যালোক এবং জল থেকে অনেকটা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মতোই হাইড্রোজেন আলাদা করে নেওয়া যাবে।’

আরো পড়ুন : ৯টি যুগান্তকারী আবিষ্কারের ধারণা যা নেওয়া হয়েছে ভারতীয়দের থেকে

প্রচলিত শক্তির ভাণ্ডার সংকুচিত হওয়ায় হাইড্রোজেনের মতো অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ছে। হাইড্রোজেন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ভিত্তিতে রিবেশগত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারবে। সেমিকন্ডাক্টরের এই আবিষ্কারে জ্বালানীর সমস্যা মিটবে।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন