জালিয়াতি করেছে সলমান খান, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বোনের বিরুদ্ধেও

Salman Khan, sister Alvira khan Summoned for Cheating

বলিউড (Bollywood) অভিনেতা সালমান খানকে (Salman Khan) নিয়ে ইতিপূর্বে বলিউডের অভ্যন্তরে বহুবার বহু বিতর্ক ছড়িয়েছে। বেআইনিভাবে শিকার করা হোক বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলা, আইনের প্যাঁচে বার বার পড়তে হয়েছে ভাইজানকে। খুন এবং বন্য পশু হত্যার অভিযোগ তো ছিলই, এবার জালিয়াতির অভিযোগ উঠলো সালমান খানের বিরুদ্ধে। দিল্লীর জনৈক ব্যবসায়ী সালমান খান এবং তার বোন আলভিরা খানের (Alvira Khan) বিরুদ্ধে এই গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এমনকি সালমানের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিইং হিউম্যান’ও (Being Human) পড়েছে এই অভিযোগের আওতায়। অরুণ গুপ্ত নামের ওই ব্যবসায়ী সালমান খান, সালমানের বোন আলভিরা খান এবং ‘বিইং হিউম্যান’ সংস্থার ৬ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। ব্যবসায়ীর থেকে এই অভিযোগ পেয়ে সালমান এবং আলভিরাসহ বাকি ৬ জনকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চন্ডিগড় পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাদের কাছে পুলিশের তরফ থেকে সমন গিয়ে পৌঁছেছে।

অভিযোগকারীর অভিযোগ, ২০১৮ সালে সলমনের ‘বিইং হিউম্যান জুয়েলারি’-র আওতায় নিজের একটি দোকান খুলেছিলেন তিনি। তা বাবদ তার খরচ হয়েছিল ২-৩ কোটি টাকা। ‘বিইং হিউম্যান’ সংস্থার তরফ থেকে সেই সময় তাকে সব রকম ভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে পরবর্তী দিনে তাদের কথার সঙ্গে কাজের কোনও মিল খুঁজে পাননি ওই ব্যবসায়ী।

তিনি জানাচ্ছেন, সালমানের সংস্থার জন্য দোকান খোলা হলেও পরবর্তী দিনে ওই সংস্থা থেকে দোকানে রাখার মতো কোনও জিনিসপত্রও পাঠানো হয়নি। এমনকি দোকানের প্রচারের জন্য সালমান খান আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। তবে তিনি তার সেই কথাও রাখেননি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। সালমানের বদলে দোকানের হয়ে প্রচারে এসেছিলেন সালমানের ভগ্নিপতি আয়ুষ শর্মা। সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ওই অভিযোগপত্রে।

অথচ দোকান খোলার আগে সালমানের সংস্থার তরফ থেকে ব্যবসায়ীকে আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছিল যে শোরুমের প্রোমোশন করতে কর্মী পাঠানো হবে। দোকানের জিনিসপত্র সম্পর্কে সেই কর্মীরাই গ্রাহকদের ধারণা দেবেন। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি। তিনি নিজে সালমানের সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার বহু চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাকে হতাশ হতে হয়েছে। তার এখন মনে হচ্ছে তাকে ঠকানো হয়েছে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও লাভের মুখ দেখা তো দূর, তিনি বিনিয়োগের অর্থটুকুও তুলতে পারেননি।

দোকান খোলার পর থেকেই প্রতি পদে পদে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে অরুণ গুপ্ত নামের ওই ব্যবসায়ীকে। তিনি জানাচ্ছেন, যে দপ্তরটিকে মালপত্র রাখার জন্য ব্যবহার করার কথা ছিল, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সেটিকে বন্ধ রাখা হয়। কাজেই ব্যবসায়ীর প্রতি প্রতিশ্রুতিপূরণে ব্যর্থ হয়েছেন সালমান খান। তাই সালমান, আলভিরা এবং বিইং হিউম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে চন্ডিগড় পুলিশ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী।