ঐন্দ্রিলার সঙ্গেই থেমে গেল সব্যসাচীর কলম! জীবনে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন সব্যসাচী

শেষ হল সব লড়াই, ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সব্যসাচী

Sabyasachi Chowdhury left writing and delete his Facebook account after Aindrila Sharma's death

দীর্ঘ ২০ দিনের লড়াইয়ের পর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা (Aindrila Sharma)। ২৪ বছরের জীবনের শেষ ৭টা বছর তার ছায়াসঙ্গী, কাছের মানুষ বা প্রেমিক যাই বলুন না কেন সব্যসাচী চৌধুরীও (Sabyasachi Chowdhury) তার কাঁধে হাত রেখে ক্যান্সারের সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে তার সঙ্গী ছিলেন। জীবন মৃত্যুর এই লড়াইয়ে ঐন্দ্রিলা ছিলেন ফাইটার, সব্যসাচী নীরবে তার পাশে থেকে অনবরত সাহস জুগিয়েছেন, প্রতিমুহূর্তে তার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত মিরাকেলের উপর ভরসা রেখেছিলেন সব্যসাচী। যে কারণে তার শারীরিক অবস্থার উত্থান পতন যাই ঘটুক না কেন সব সময় নিজে প্রার্থনা করার সঙ্গে সঙ্গে অনুরাগীদের কাছেও ঐন্দ্রিলার জন্য প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন তিনি। এতদিন সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থা সংক্রান্ত সমস্ত আপডেট তিনি তুলে ধরেছেন। ঐন্দ্রিলা যখন হাসপাতালে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন, কেমো চলছে, তখনও প্রতিমাসের শেষে তিনি কলম ধরতেন তাকে নিয়ে।

দু-দুবার ক্যান্সার জয় করে ঐন্দ্রিলাকে নিজের হাতে বাড়ি ফিরিয়া নিয়ে গিয়েছিলেন সব্যসাচী। এবারেও তিনি তেমনটাই কথা দিয়েছিলেন। নিজের হাতে অসুস্থ ঐন্দ্রিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ঐন্দ্রিলা আছে ঐন্দ্রিলা থাকবে। নিজের হাতে তিনি ঐন্দ্রিলাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। তবে ঐন্দ্রিলার নিথর দেহ নিয়ে ফিরতে হল তাকে।

এত বড় আঘাতে রীতিমত ভেঙে পড়েছেন সব্যসাচী। বছরের পর বছর তিনি নিজের চোখের সামনে ঐন্দ্রিলাকে কষ্ট পেতে দেখেছেন। তার যন্ত্রণা ভাগ করে নিতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু তা অনুভব করেছেন প্রতি মুহূর্তে। তার বন্ধু সৌরভ দাস জানিয়েছেন সব্যসাচী খুবই ভেঙে পড়েছে। তিনি আর ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে কখনও কিছু লিখবেন না। কারণ ঐন্দ্রিলার কথাতেই তিনি প্রথম কলম ধরেছিলেন, লিখতে শুরু করেছিলেন।

এতদিন ঐন্দ্রিলার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা খোঁজখবর সোশ্যাল মিডিয়াতে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন সব্যসাচী। কিন্তু তিনি ফেসবুকে আর কোনও পোস্ট দেবেন না। এই কারণেই ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে তার সংক্রান্ত সমস্ত পোস্ট সব্যসাচী ডিলিট করে দেন। এটা দেখে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর আরও বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ডিলিট করে দিলেন নিজের ফেসবুক একাউন্ট।

ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত বাদেই ফেসবুক থেকে নিজের একাউন্ট সরিয়ে নিলেন সব্যসাচী। নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে সরিয়ে নিলেন তিনি। ঐন্দ্রিলার অন্তেষ্টিক্রিয়াতে তার ক্লান্ত-বিধ্বস্ত চেহারাতেই স্পষ্ট ধরা পড়েছে তিনি মানসিকভাবে কতটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে সৌরভ লিখেছেন তিনি আজীবন তার বন্ধু সব্যসাচীর খেয়াল রাখবেন। প্রয়াত ঐন্দ্রিলার কাছে এই অঙ্গীকার করেছেন তিনি।