কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত রাজ কুন্দ্রা, কী কী শাস্তি হতে পারে শিল্পা শেট্টির স্বামীর

পর্নোগ্রাফিক (Pornography) ছবি বানানোর অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা (Raj Kundra)। বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির স্বামীর উপর ‘হটশট’ নামের একটি অ্যাপ মারফত সামাজিক মাধ্যমে বলিউড মডেল-অভিনেত্রীদের বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের দায় বর্তেছে। বিদেশে এই ব্যবসার রমরমা বাজার থাকলেও ভারতে পর্নোগ্রাফি আইনত নিষিদ্ধ।

মুম্বাই পুলিশের দাবি, বলিউডের আড়ালে নীল ছবির ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন রাজ কুন্দ্রা। এই বিষয়ে রাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে মালাড আইল্যান্ডে একটি বাংলো ভাড়া করে চলতো নীল ছবির শুটিং। এই ছবির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে গহনা বশিষ্ঠ, মডেল-অভিনেত্রী পুনম পান্ডে এবং শার্লিন চোপড়ার খোঁজ পেয়েছিল পুলিশ। কিছুদিন আগে গহনা বশিষ্ঠকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি জামিনে বাইরে রয়েছেন।

এই ব্যবসার সম্প্রচারের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছিল মুম্বাই পুলিশ। তদন্ত চালাতে গিয়ে রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। নীল ছবির প্রযোজনা সংস্থার কার্যনির্বাহী অফিসার তথা রাজের সহকারী উমেশ কামাতকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উমেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশের বাইরে বসে পর্ন ছবির ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে রাজকে সাহায্য করেছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, এই একটি অ্যাপ্লিকেশন থেকে প্রথম প্রথম প্রতিদিন ২-৩ লক্ষ টাকা উপার্জন করেছেন রাজ। লকডাউন কালে প্রতিদিনের উপার্জন বেড়ে দাঁড়ায় ৬-৮ লক্ষ টাকায়।

এই আইনত নিষিদ্ধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় অভিযোগ দায়ের করেছে মুম্বাই পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ধারা ২৯২, ২৯৩, ৪২০, ৩৪ এবং তথ্য ও প্রৌদ্যৌগিকী নিয়মের অধীনে ৬৭ ও ৬৭ এ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে রাজের বিরুদ্ধে। পর্নবিরোধী আইন অনুসারে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে কি কি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক।

ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ২৯২ ধারা : কোনও ভিডিও যদি অশালীন বলে মনে হয়, বা সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক বার্তাবহনকারী হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে ভিডিও প্রস্তুতকারক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনের এই ধারায় মামলা দায়ের করা যায়। এই ধারায় প্রথমবার যদি কেউ দোষী প্রমানিত হয় তাহলে ২০০০ টাকা জরিমানা ও সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড। দ্বিতীয়বার কেউ এই ধারায় দোষী প্রমানিত হলে ৫০০০ টাকা জরিমানা ও সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম করদণ্ড হতে পারে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ২৯৩ ধারা : ২০ বছরের কম বয়সি কোনও দর্শকের মধ্যে এই জাতীয় অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হলে বা উক্ত বয়োক্রমের কাউকে ভিডিও দেখানো হলে বা দেখানোর চেষ্টা করা হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই ধারায় মামলা লাগু করা যায়। এই ধারায় দোষী প্রমানিত হলে ২০০০ টাকা জরিমানা ও সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং দ্বিতীয়বার এই ধারায় দোষী প্রমানিত হলে ৫০০০ টাকা জরিমানা এবং ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৭ : রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইন অমান্য করার সাপেক্ষে বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ৬৭ নম্বর ধারায়। বৈদ্যুতিন মাধ্যমে অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই কড়া আইনের আওতায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যায়।

মহিলাদের অশালীন ভাবে উপস্থাপন (বিরুদ্ধে) ধারা : লেখা, আঁকা, বিজ্ঞাপন অথবা অন্য কোনও মাধ্যমে যদি কোনও মহিলাকে অশালীনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের হয়।