ধেয়ে আসছে তুমুল ঝড় বৃষ্টি, টানা ৫ দিন বাংলা ভিজবে উত্তর থেকে দক্ষিণ

টানা ৫ দিন কালবৈশাখীর তান্ডবে লণ্ডভণ্ড হবে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, জেলায় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ তুমুল শিলাবৃষ্টি সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝড়ো হওয়া, সর্তকতা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

296

একদিকে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। অপরদিকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধিতে ভারতের পাশাপাশি পশ্চিমবাংলার সংক্রমনের গ্রাফও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। তারই মাঝে আবার আকাশে চোখ রাঙাচ্ছে সূর্য। সূর্যের চোখ রাঙ্গানিতে দিনের তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই মুহূর্তে রাজ্যবাসীর প্রয়োজন স্বস্তির বৃষ্টি। যার খবর শোনাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস থেকে জানা গেল, আগামী রবিবার অর্থাৎ ভোট গণনার দিন থেকেই বৃষ্টির জলে ভাসবে বাংলা। ঝিরঝির বৃষ্টি নয়, রীতিমতো বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হতে চলেছে রবিবারের আকাশে। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ, উভয় বঙ্গেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রবিবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার থাকবে। তার সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। যার দরুণ সকাল থেকেই তাপমাত্রার পারদ নিচের দিকে থাকবে।

তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উভয় বঙ্গে ঝেঁপে বৃষ্টি নামবে। একই সঙ্গে ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে বাংলার উপর দিয়ে।

১লা মে থেকে শুরু হয়ে এমন ভারি বর্ষণ চলবে আগামী ৬ ই মে পর্যন্ত। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করেছে মৌসম বিভাগ। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়বে বৈ কমবে না। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে ঝড়ের গতিবেগ। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলেও দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রের মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হচ্ছে কারণ বৃষ্টিপাতের সময় ঘনঘন বাজ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩-৫ তারিখ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ৭-১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বঙ্গে।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রদেশের উপরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাতের জেরে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে হতে চলেছে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রদেশের উপর সৃষ্ট ঘূর্ণবাত ক্রমশ বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রবিবারের মধ্যেই এই ঘূর্ণবাত বঙ্গোপসাগর থেকে প্রভূত পরিমাণে জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে পশ্চিমবাংলায় প্রবেশ করবে। যার ফলে আগামী ৫-৬ দিন বাংলায় ভারী বৃষ্টিপাত হবে। বৈশাখের তীব্র দাবদাহ থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বাংলার মানুষ।