‘স্বামী অত্যাচার করলে চুপ করে সহ্য করতে পারবো না’, মুখ খুললেন নুসরাত জাহান

Nusrat Jahan Nikhil Jain

সমাজে মহিলাদের অধিকার প্রসঙ্গে সর্বদা সচেতন টলিউড (Tollywood) অভিনেত্রী নুসরাত জাহান (Nusrat Jahan)। অভিনেত্রী নিজেও ব্যক্তিগত জীবনে জোর করে ‘মানিয়ে নেওয়া’র পক্ষপাতী নন। তাই তো বিয়ের মাত্র ১ বছরের মাথাতেই ‘বিষাক্ত দাম্পত্য’ থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মতো জীবন যাপনের পথ বেছে নেন নুসরাত। যদিও তার জন্য অবশ্য তাকে প্রবল কটাক্ষ, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে নুসরাত তার নিজের অবস্থানে অনড়। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে তার সিদ্ধান্তই যে চূড়ান্ত। অন্য কারোর হস্তক্ষেপ তিনি মোটেই বরদাস্ত করেন না।

সম্প্রতি একটি গর্ভনিরোধক (Contraceptive pill) ওষুধের সংস্থার হয়ে প্রচারের উদ্দেশ্যে ফেসবুকের লাইভ (Facebook Live) অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন নুসরাত। সেই অনুষ্ঠানেই পরিচালক এবং প্রযোজক সুদেষ্ণা রায়ের সঙ্গে মাতৃত্ব ও মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠানমঞ্চে বিয়ে এবং মাতৃত্ব নিয়ে তিনি তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে মহিলাদের অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াইয়ের স্বপক্ষে সওয়াল করেন।

নুসরাতের কথায়, ‘‘আমার লড়াই আমাকেই লড়তে হবে। কেউ কারও হয়ে গলা তুলবে না। এখন যদি লোককে দেখানোর জন্য ছলনার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যে জীবন যাপন করি, স্বামী অত্যাচার করলেও সমাজের ভয়ে চুপ থাকি, লোকের সামনে স্বামীর ভাবমূর্তি রক্ষা করার জন্য আওয়াজ না তুলি, তবে নিজের জীবনটা কোথাও যেন হারিয়ে যাবে। নিজেদের ক্ষতগুলোকে লুকিয়ে রাখতে রাখতে মহিলারা নিজস্বতা হারিয়ে ফেলবে।’’

দাম্পত্য বিষাক্ত হতে শুরু করলে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই উচিত, এই ধারণায় প্রবলভাবে বিশ্বাসী নুসরাত। সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করে প্রত্যেক মহিলার প্রতি পরামর্শ দিলেন নুসরাত, “মনের আনন্দে বাঁচুন সবাই”। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন, যে সকল মহিলা বিপদে রয়েছেন, মানসিক কষ্টে রয়েছেন, যাদের সাহায্য প্রয়োজন, তাদের জন্য প্রশাসনের দরজা খোলা রয়েছে। সাংসদ-অভিনেত্রীর ভাষায়,  ‘‘আমরা সকলেই তাঁদের পাশে রয়েছি। শুধু একটু মুখ ফুটে বলতে হবে।’’

মাতৃত্ব প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নুসরাত বলেন নারী জন্মের অর্থ শুধুই মা হওয়া নয়। অন্তঃসত্ত্বা নুসরাত মনে করেন, ‘‘মাতৃত্ব আশীর্বাদ, সেটা অস্বীকার করার জায়গা নেই, কিন্তু নিজের শরীর ও মন প্রস্তুত না হলে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।’’ এই আলোচনার ফাঁকে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের প্রসঙ্গও উঠে এলো। নুসরাতের ভাষায়, একজন পুরুষ মহিলাদের সম্মান জানাবেন কিনা, তার দায়ভার বর্তায় প্রাথমিক শিক্ষার উপর, যে শিক্ষা পরিবারের তরফ থেকেই আসে।

নুসরাত মনে করেন, প্রতিটি পরিবার যদি মহিলাদের সম্মান প্রদর্শন সম্পর্কে ছেলেদের সমুচিত শিক্ষা দেন, তাহলেই সমাজ সংস্কার সম্ভব। একই সঙ্গে কন্যা সন্তানদের অভিভাবকের প্রতিদিন নুসরাতের পরামর্শ, মেয়েকে এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে সে সমাজের ভয়ে মাথা নত না করে। এর সঙ্গেই নুসরাতের সংযোজন, ‘‘আমার মেয়ে হলে তাঁকে আমি শেখাব, সে যেন কখনও মাথা নত না করে।’’

বিয়ে, মাতৃত্বের পাশাপাশি প্রেম সম্পর্কেও নিজের মতামত তুলে ধরলেন অভিনেত্রী। সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুদেষ্ণা বলেন, ‘‘অনেকেই মনে করেন, মেয়েরা ছোট বয়স থেকে প্রেম করলে সেটা অন্যায়। সেটা বন্ধ করার জন্য বাবা মায়েরা বাল্য বিবাহ দিলে সেই পদক্ষেপকে তাঁরা সঠিক বলে মনে করেন।’’ তার পরিপ্রেক্ষিতে নুসরাতের সটান উত্তর, ‘‘প্রেম করা মানেই বিয়ে নয়।’’ সেই কথাই সায় দিয়ে সমাজের প্রতি সুদেষ্ণার পরামর্শ, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তবেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আলোচনার মাঝে নুসরাতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন উঠলো। স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে বিচ্ছেদ, সন্তানসম্ভাবনার খবর, সহ-অভিনেতা যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নিয়ে বিতর্কের শীর্ষে অবস্থান করছেন নুসরাত। এ প্রসঙ্গে সুদেষ্ণা নুসরাতকে জিজ্ঞেস করেন, ‘‘তোমার জীবন নিয়ে অর্ধেক খবর জেনে মিথ্যে কথা রটানো বা কুমন্তব্য করা— এই সমস্তই চোখে পড়ে। কী ভাবে সামলাও এ সব?’’

প্রত্যুত্তরে নুসরাত বললেন, ‘‘সামলাই না তো। সামলানো বন্ধ করে দিয়েছি। মানুষের নেতিবাচকতাকে গায়ে মাখি না। তবে এইটুকু বলব, স্বল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী। তাই কোনও বিষয় নিয়ে না জেনে মন্তব্য করা উচিত নয়। সেটা কেবল আমার কথা বলছি না। সব ক্ষেত্রেই এই বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত।’’ হাজার হাজার মানুষ এদিন নুসরাত এবং সুদেষ্ণার লাইভ ভিডিওটি দেখেছেন। নুসরাতের অনুরাগীরা তার প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছেন। সমালোচকেরা নুসরাতকে নিয়ে যতই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করুন না কেন, তার অনুরাগীদের সংখ্যাও যে নেহাত কিছু কম নয়, তা প্রমাণ হলো এই ফেসবুক লাইভে।