“জঙ্গিদের এমন শিক্ষা দেব যে জীবনেও ভুলবে না!” পাল্টা জবাবের ইঙ্গিত

ফের রক্তাক্ত কাশ্মীর, উরি হামলার থেকেও ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। পুলওয়াময়ের অবন্তীপোড়ায় সিআরপিএফ জাওয়ানদের কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা। ঘটনায় শহীদ হয়েছেন প্রায় ৩০ জনেরও বেশি জওয়ান। জখম হয়েছেন ৪৫ জন যাদের মধ্যে ১৫ জন জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জৈশ-ই- মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠী। এদিকে এ হামলার নিন্দার ঝড় দেশজুড়ে। সর্বত্রই দাবি উঠছে ফের আরও বড় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হোক। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন বীর জওয়ানদের রক্ত এবং আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে না।

বৃহস্পতিবার বিকাল বেলা সিআরপিএফের প্রায় পঞ্চাশটি গাড়ির কনভয় পুলওয়ামা জেলার শ্রীনগর অনন্তনাগ জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে জম্মু থেকে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। আচমকাই প্রায় ২০০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই একটি ছোট গাড়ি ওই কনভয় ঢুকে পড়ে এবং জাওয়ানদের গাড়িতে ধাক্কা মারে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল জাওয়ানদের বাস দুমড়ে-মুচড়ে যায়, তালগোল পাকিয়ে যায় শহীদ জাওয়ানদের দেহগুলি। চারিদিক বারুদের ধোঁয়া ও পোড়া মাংসের গন্ধে ঢেকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে উদ্ধারকার্য চালিয়ে জখম জাওয়ানদের স্থানীয় শ্রীনগর সেনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে এনআইএ এবং ফরেনসিক দল। এদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সিআরপিএফের সর্বোচ্চ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘটনাস্থলে যাবেন, এর সঙ্গে সেনা হাসপাতালে গিয়ে যখন জাওয়ানদের দেখা করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ট্যুইটারে বলেছেন , ”সাহসী জওয়ানদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে না। শহিদ পরিবারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গোটা দেশ। জখমদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি”।

অরুণ জেটলি লিখেছেন, ”পুলওয়ামায় সিআরপিএফের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনা কাপুরুষোচিত ও নিন্দনীয়। শহিদ জওয়ানদের সেলাম জানিয়ে গোটা দেশ তাদের পরিবারের পাশে আছে। আহত জওয়ানদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে জীবনে ভুলবে না”।

রাহুল গান্ধীর লিখেছেন, ”জম্মু-কাশ্মীরে সিআরপিএফ কনভয়ে কাপুরুষোচিত হামলায় বহু জওয়ান শহিদ হয়েছেন। অসংখ্য জওয়ান জখম। শহিদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। জখমদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি”।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যুইটারে বলেছেন, “সিআরপিএফ জওয়ানদের উপরে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করছি। সাহসী জওয়ানদের স্যালুট জানাচ্ছি। জখমদের জন্য প্রার্থনা করছি। দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

বিগত কয়েক বছরে এই জঙ্গি হামলা ভারতের সবথেকে বড় জঙ্গি হামলা। জঘন্যতম এই ঘটনার প্রতিবাদের ঝড় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সর্বত্রই দাবি উঠছে শহীদ জাওয়ানদের রক্তের প্রতিদান কোনভাবেই যেন ব্যর্থ না হয়। সমস্ত ভারতবাসী আশাবাদী উরি হামলার পর যেভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছিল পাকিস্তানে জঙ্গি সেনাঘাঁটি উপর, এবারও সেই ভাবেই আরো বড় হামলা করে পাকিস্তানের সমস্ত জঙ্গিকে নিকেশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি অনুযায়ী প্রত্যুত্তরটা এমন ভাবেই দেওয়া হোক যাতে করে আজীবন যেন মনে রাখে সেই প্রত্যুত্তর জঙ্গীরা।