করোনা জব্দ হয়ে যাবে যদি আপনার হাতের কাছে এই ৫টি ওষুধ থাকে

করোনার প্রথম পর্যায়ের আক্রমণে চিকিৎসকেদের কাছে যখন অজানা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোনও হাতিয়ার ছিল না তখন রেমডেসিভির কিংবা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেই রোগীদের সুস্থ রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তারা। তবে সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রোগের মোকাবিলায় বাড়িতে রেমডেসিভির কিংবা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ মজুদ করার কোনও কারণ নেই।

করোনার মৃদু উপসর্গ কিংবা জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে ছুটতেই হবে এমনও কিন্তু কোনো মানে নেই। বাড়িতে থেকেও নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতাবিধি অবলম্বন করে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব। তাহলে বাড়িতে থেকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে কি কি ওষুধ বাড়িতে রাখা প্রয়োজন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা।

যদি রোগীর শরীরে করোনার মৃদু উপসর্গ দেখা দেয় ( যেমন অল্প জ্বর, কাশি, গা ব্যথা ) সে ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্লুয়ের চিকিৎসা বেশ কাজে দেয়। তাই বাড়িতে রাখুন প্যারাসিটামল। শরীরে যদি হাঁপানি বা অ্যালার্জির উপসর্গ থাকে তাহলে তার জন্য বাড়িতেই নেব্যুলাইজার যন্ত্র রাখা প্রয়োজন। অ্যালার্জি বা র‌্যাশের সমস্যার মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-সহ অ্যান্টিহিস্টামিন নেওয়া যেতে পারে।

গলা ব্যথা বা গলা জ্বালা করলে গরম জলে গার্গল করা এবং ভাপ নেওয়া যেতে পারে। ভেপার নেওয়ার ক্যাপসুল (কার্ভল প্লাস)ও রাখা যেতে পারে বাড়িতে এবং তা ব্যবহার করা যায়। গার্গল করার জন্য আবার বেটাডাইন মাউথওয়াশও ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিনের ওষুধ যেন সর্বদা সাথে থাকে।

শারীরিক সমস্যার জন্য রোজ যে ওষুধগুলি খেতে হয়, ১৪ দিনের জন্য সেই ওষুধগুলি বাড়িতে রাখা উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বাড়িতেই সি বি জি ব্লাড গ্লুকোজ যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতেই রাখা যেতে পারে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র। রক্তচাপের ওঠানামা প্রতিদিন অন্তত পক্ষে দুইবার পরীক্ষা করা উচিত। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সকলের বাড়িতে থাকুক পালস অক্সিমিটার।

প্রত্যেক ৬ ঘন্টা অন্তর অক্সিমিটারের শরীরের অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি রোগীর শরীরে শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয় সেক্ষেত্রে ঘন ঘন পরীক্ষা করতে হবে। হাতের কাছে সর্বদাই থার্মোমিটার রাখতে হবে। শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। যদি জ্বর থাকে তাহলে তো দিনে বেশ কয়েকবার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।

লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, দিনে সর্বদা পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসারে ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স, ডি থ্রি এবং জিঙ্ক ট্যাবলেট রাখতে হবে সংগ্রহে। এর সাথে অবশ্যই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে।

প্রসঙ্গত এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাই নিজের চিকিৎসক কিংবা হাসপাতালের নম্বর সর্বদা হাতের কাছে রাখুন। যাতে প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে দেরি না হয়ে যায়।