সাপ তাড়াতে অভিনব লাঠি, এবার পাবেন সাপের কামড় থেকে রেহাই

প্রতি বছর সাপের কামড়ে আমাদের দেশে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের মতো মানুষ মারা যায়। আর এর বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে গ্রামের দিকে। যেখানে মানুষ কাজের সূত্রে মাঠে ঘাটে বেশি সময় কাটায়। আর তারফলে তারা সাপের সম্মুখীন হয় সচরাচর। আর অজান্তেই ঝোপের মধ্যে থাকা বা নদীর মধ্যে থাকা বিষধর সাপের ছোবলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সাপের কামড় খায় তারা বুঝতেই পারে না তাদের কাছে থাকা সাপের উপস্থিতি। আর তাই আমাদের মধ্যে দেখা যায় যেকোনো সাপের প্রতি এক স্বাভাবিক ভয় যা রাগের সঞ্চার করে তাদের মেরে ফেলতে বাধ্য করে। সাপ সে বিষধর হোক আর বিষহীন হোক যে সাপই হোক না কেন আমাদের চোখের সামনে পড়লে তাকে আমরা মারতে উদ্যত হয়ে পড়ি। আর এইভাবে নানা বিষধর সাপ থেকে সাধারণ সাপ সবার অস্তিত্ব আজ সংকটের মধ্যে।

Source

যেসব ইঁদুর খেকো বিষহীন সাপ মাঠে ঘুরে ঘুরে ইঁদুর শিকার করে থাকে  তাদের যেমন আজ আমরা মাঠে সচরাচর দেখতে পাই না। সারা বছর যেসব সর্প আঘাতের ঘটনা ঘটে তার জন্য সাপকে কী খুব একটা দায়ী করা যায়? তাদের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে বিষের প্রতিষেধক না থাকা, আমাদের রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি করা, বা ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার মতো ঘটনাকেই বেশি দায়ী করা যেতে পারে। খুব কম বারই আপনারা শুনে থাকবেন সাপ বাড়িতে ঢুকে আপনাকে ছোবল মেরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। আসলে গ্রীষ্মকালে ও বর্ষাকালে এমনিতেই সাপের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। আর গ্রাম, গঞ্জ,ঝুপড়ির মানুষ তাদের নানান কাজে মাঠে ,পুকুর ঘাটে ,প্রভৃতিতে দিনে রাতে সন্ধ্যায়, ভোরে যায় যার ফলে এইসব ঘটনা বেশি দেখা যায়। কিন্তু আমাদের মধ্যে খুব কম জনই সাপকে আর মানুষকে দূরে রাখার চেষ্টা করি নি।যদি আমরা চেষ্টা করতাম তাহলে আজ সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা অনেক কমে যেত।

তবে সবাই যে আমাদের মত কিছু করার চিন্তা করে না তা কিন্তু নয়। এমনই এক আলাদা চিন্তার মানুষ হলেন বেদব্রত রায়। তিনি মানুষের সাথে সাপের এইরকম সম্পর্ক থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য এক অভিনব লাঠি তৈরি করেছেন।তাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান,”সাপ তাড়াতে লাঠির ব্যবহার বহু পুরানো দিন থেকে গ্রামে গঞ্জে চলে আসছে। গ্রামের দিকের মানুষ যখন কাজের জন্য বা অন্ধকারে রাস্তায় বা মাঠে যায় তখন তাদের সঙ্গে থাকে লাঠি। এই লাঠি তারা রাস্তায় মারতে মারতে যায় যাতে সাপ যদি কোথাও থাকে তাহলে তারা পরিবেশে হওয়া পরিবর্তন বুঝতে পেরে আবার ঝোপে বা অন্য কোথাও চলে যায়। আর তাই আমি একটা লাঠির মাধ্যমেই সাপের সাথে মানুষের দূরত্ব বাড়াতে চেয়েছি।

কিন্তু কীভাবে এই লাঠি কাজ করবে? তা জানতে চাইলে তিনি জানান, এই লাঠি আসলে কোন সাধারণ কাঠের তৈরি লাঠি নয়। এটি একটি ধাতব দন্ড,যাতে লাগানো আছে এক বিশেষ মেশিন যা সৌর শক্তির সাহায্যে চার্জ করা যাবে। যখন এই দন্ডটি মাটিতে ১০ ইঞ্চি গেঁথে দেওয়া হয় তখন এই মেশিন থেকে বের হয় আল্ট্রা সোনিক শব্দ তরঙ্গ, প্রতি ১০ সেকেন্ড অন্তর অন্তর। যা ৫০ মিটার বা ১৬৪ ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা সাপ বা অন্য কোন প্রাণীরা তাদের ত্বক দিয়ে অনুভূত করতে পারে। আর তার ফলে তারা আর এই যন্ত্রের দিকে না এসে আবার ঝোপের দিকে বা জঙ্গলে ফিরে যায়। এর ফলে যেমন একদিকে সর্প আঘাতের সম্ভাবনা কম হতে থাকে তেমনি এইসব সাপেদের অকালে প্রাণহানি হয় না। এ যেন এক রকম বাঁচো এবং বাঁচতে দাও  কর্মসূচি।

আমি আমার স্ত্রী এবং দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে যে সংস্থা তৈরি করেছি সেই প্রসাদম ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে আমরা এমন কতগুলি দণ্ড পরীক্ষা করার জন্য কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের কৃষকদের হাতে তুলে দিয়ে থাকি এবং কীভাবে এই যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে তা তাদের শিখিয়ে দিয়ে থাকি।পরে তারা জানান এই দন্ড তাদের হাতে আসার পর থেকে তাদের সাথে সাপের আর দেখা সাক্ষাৎ হয় নি একবারের জন্য। যখন এই যন্ত্র তাদের সাথে মাঠে ঘাটে বা বাড়িতে থেকেছে তখন তারা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পেরেছে কোন সাপের কামড়ের ভয় ছাড়াই। অর্থাৎ  এই দন্ড যে কাজের জন্য বানানোর চেষ্টা হয়েছে তা অনেকটাই সফল হয়েছে।তাই তিনি এই” সাপ তাড়ানো দন্ড “বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে আনতে চলেছেন এবছরের জুলাই মাসে।

কীভাবে কাজ করে এই লাঠি ? দেখে নিন

আরও পড়ুন : সাপের বিষের আয়ুর্বেদিক ওষুধ এনে দিল পদ্মশ্রী পুরস্কার

বর্তমানে আমরা যদিও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মাটিতে সফল পরীক্ষা করতে পারি নি এই সাপ তাড়ানো দণ্ডের তবে শীঘ্রই তা করার জন্য আমরা কৃষি মন্ত্রকের অনুমতি নেবো। যদিও এই সাপ তাড়ানো লাঠির বর্তমান দাম ৪,০০০-৫,০০০টাকার মতো রাখা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও  গরিব কৃষকদের কথা ভেবে এর দাম কমানোর কথা ভাবছেন রায় বাবু এবং তার এই কর্ম যজ্ঞের সহযোগীরা। তবে সত্যিই এইরূপ অভিনব সাপ তাড়ানো দন্ড সাধারণের হাতে অল্প কিছু টাকায় যদি সহজলভ্য হয় তাহলে যেমন মানুষের সাপের কামড়ে মৃত্যু কম ঘটবে তেমনি সাপেদের সংখ্যার হ্রাস হবে না। পরিশেষে তাদের ভূমিকাও শেষ হয়ে যাবে না। তার এই সাপ তাড়ানো দন্ড যেমন তাকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের পুরস্কার এনে দিয়েছে তেমনি সাধারণের মন থেকে সাপের ভয় কাটাতেও সাহায্য করবে বলেই অনুমান করা যায়।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন : Facebook Instagram Twitter