হোমওয়ার্কের চাপে প্রধানমন্ত্রীকে নালিশ খুদের, তারপর যা হল বিশ্বাস করতে পারছে না কেউ

করোনাকালে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘরবন্দী খুদেরা। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা নেই, খেলতে যাওয়া নেই, নিদেনপক্ষে বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ারও উপায় নেই! বলতে গেলে মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ সম্পূর্ণভাবে ঘরের মধ্যেই আবদ্ধ হয়ে কাটছে তাদের জীবন। তবে একটা জিনিসের কোনও ছাড় নেই। তা হলো পড়াশোনা। ছোটদের এমনিতেই পড়াশোনায় মন বসে না। এদিকে স্কুল ছুটি থাকলেও পড়াশোনা থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না!

সত্যিই তো, কি নিদারুণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ছোটদের! বাড়িতে থাকতেও শান্তি নেই। দিনরাত শুধু পড়া, পড়া আর পড়া! অনলাইন ক্লাসের গুঁতোয় ছোটরা রীতিমতো অতিষ্ঠ। ছোটদের সমস্যার কথা ছোটরা ছাড়া আর কেই বা ভালো বুঝতে পারে? তাই তো বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ছোটদের তরফ থেকেই উঠে এলো। অভিযোগকারিণীর বয়স মাত্র ৬ বছর। জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা সে। সে অভিযোগ করেছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে!

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে মাত্র ৬ বছর বয়সি একটি শিশু অনলাইনে পড়াশোনার চাপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে! স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বারবার সে তার অভিযোগ জানাচ্ছে। প্রশ্ন তুলছে শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে! তার অভিযোগ, অনলাইনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ছোটদের উপর অনেক চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনটা কেন হবে? প্রশ্ন তুলেছে সে।

ভাইরাল ভিডিওতে খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে খুদে প্রশ্ন করেছে, ‘ছ’বছরের ছোট বাচ্চাদের ম্যাড়াম ও টিচারেরা কেন এত বেশি কাজ দেন? এত বেশি কাজ হয় আসলে বড় বাচ্চাদের।’ নিজের প্রসঙ্গে খুদে বলছে, ‘আমি যখন সকালে উঠি… ১০ টা থেকে দুপুর ২ টো পর্যন্ত ক্লাস হয়। প্রথমে ইংরাজি, তারপর অঙ্ক, উর্দু, ইভিএস, কম্পিউটার।…ছোট বাচ্চাদের কেন এত কাজ দেওয়া হয় মোদী সাহেব?’

সকালে ঘুম থেকে উঠেই বেলা ১০টা থেকে শুরু করে সেই দুপুর ২ টো পর্যন্ত চলছে অনলাইন ক্লাস! ইংরেজি, অংক, উর্দুর মতো আরও অন্যান্য বিষয়গুলি রোজ রোজ পড়তে হচ্ছে তাদের। সেইসঙ্গে আছে হোম ওয়ার্কের চাপ। ছোট ছোট শিশুরা এত চাপ নেবে কি করে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য আবেদন জানিয়েছে ছোট্ট ওই খুদে। আপাতদৃষ্টিতে এই ভিডিওটি কার্যত দেশের প্রায় প্রত্যেক খুদে পড়ুয়ার অভিযোগের কথাই তুলে ধরে। তাই খুদের সমস্যার কথা শুনে প্রশাসনকে তো নড়েচড়ে বসতেই হয়।

খুদের ওই অভিযোগ যথার্থই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে শিক্ষা দপ্তর। ভিডিওটি নজরে আসতেই জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল মনোজ সিনহা ভিডিওটি রি-টুইট করে লিখেছেন, অভিযোগকারিণীর অভিযোগটি বড়ই মিষ্টি অভিযোগ। তবে পড়ুয়াদের উপর পড়াশোনার চাপ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। খুদে পড়ুয়াদের হোম ওয়ার্কের চাপ কমাতে যথোপযুক্ত পলিসি তৈরি করার জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে শিক্ষাদপ্তরকে।

রাজ্যপাল টুইটে আরও লিখেছেন, “শিশুমনের সরলতা ভগবানের উপহার, তাদের দিন কাটুক প্রাণবন্তভাবে, আনন্দ এবং সুখে ”। মাত্র ১ মিনিটের ওই ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। ছোট্ট শিশুটির পরিচয় অবশ্য জানা যায়নি। তবে এটুকু জানা গিয়েছে যে সে জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা। তার এই মিষ্টি অভিযোগ শিক্ষা দপ্তরকেও টলিয়ে দিয়েছে। ছোটদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন পলিসি আনার কথা ভাবছে জম্মু-কাশ্মীরের শিক্ষা দপ্তর।