সোমবার রাজ্যে ঠিক কোথায় কোথায় খুলছে মদের দোকান

ইতিমধ্যেই কোরোনা ভাইরাসের জেরে দেশ জুড়ে চলতে থাকা দ্বিতীয়ত দফার লক ডাউনের মেয়াদ আরও ২ সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৭ মে পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু দীর্ঘদিন চলতে থাকা এই লক ডাউনের জেরে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো রীতিমত ভেঙে গেছে। সেই কারণেই ৪ মে থেকে বেশ কিছু বিষয় ছাড় দাওয়ার কথা। মনে করা হচ্ছে এর ফলে রাজ্য সরকার গুলির আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে।

এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় দেশের বেশিরভাগ রাজ্যেই রাজস্বের অন্যতম প্রধান উৎস মদের ব্যবসা যার থেকে রাজ্য গুলির রাজস্ব আয় হয় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ। কিন্তু এই ছাড়ও অবাধ নয়, ৪ তারিখের পরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে মদের দোকানে।

ইতিমধ্যেই সরকারের তরফ থেকে সমগ্র দেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – রেড জোন ( যেখানে সংক্রম সবথেকে বেশি), অরেঞ্জ জোন ( যেখানে সংক্রমন কম), এবং গ্রীন জোন ( যেখানে গত ২১ দিনে কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি)। এছাড়াও রেড জোন এর অতি স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে কন্টেইনমেন্ট এরিয়া বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেখে নাওয়া যাক মদের দোকান খোলার ক্ষেত্রে কোথায় কিরকম নিয়ম মানা হবে।

কোথায় মদের দোকান কিভাবে খুলবে

১) কন্টেইনমেন্ট জোন :- কন্টেইনমেন্ট জোন গুলিতে বন্ধ থাকবে মদের দোকান। এই অতি স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে কড়া ভাবেই পালন করা হবে লক ডাউন। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া এই অঞ্চলের বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবেন না।

২) গ্রীন জোন :- দেশের যেসকল অঞ্চল গ্রীন জোন এর আওতায় পড়ে সেখানে শপিং মল বা কমপ্লেক্সে অবস্থিত মদের দোকান বাদে সব দোকান খোলা থাকবে। গ্রাম এবং শহরের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নিয়মের কথা বলা হয়নি।

৩) অরেঞ্জ জোন :- অরেঞ্জ জোন এর অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোতেও একই নিয়ম মানা হবে। অর্থাৎ শপিং মল এবং শপিং কমপ্লেক্স এর বাইরে সব মদের দোকান খোলা থাকবে।এক্ষেত্রেও শহরে এবং গ্রামে একই নিয়ম লাগু হবে।

৪) রেড জোন :- রেড জোন গুলির বিষয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দ্বারা জারি করা নির্দেশিকায় বিশেষ কিছু বলা নেই। দোকান না খোলার কথাও এই নির্দেশিকায় বলা নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, যেসব দোকান গুলি শপিং মল বা মূল বাজার থেকে আলাদা সেই দোকান গুলোই খোলা যাবে। মুম্বাই, কলকাতা, জয়পুর, হায়দ্রাবাদ, ইন্দোর ইত্যাদি সংক্রমিত শহরাঞ্চলে কোনো বাজারের ভেতর দোকান হলেও খুলবে না। তবে রেড জোনে অবস্থিত গ্রামাঞ্চল গুলিতে শুধু শপিং মল এর মধ্যে অবস্থিত মদের দোকান বন্ধ থাকবে।

রাজ্যের কোন কোন জেলা কোন জোনে

রেড জোন  দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া ও কলকাতা
অরেঞ্জ জোন  মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া ও হুগলি
গ্রীন জোন  আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম

যেহেতু এর আগে জারি করা নির্দেশিকা তে বলা হয়েছে যে রেড জোনে একক দোকান, কলোনির ভেতরের অবস্থিত দোকান, এবং হাউজিং কমপ্লেক্সের ভেতরের দোকান খোলা রাখার অনুমতি আছে। এক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের দোকান খোলার অনুমতি দাওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এক্সাইজ অ্যাক্ট-এর আওতার বাইরে সব দোকান খোলা রাখার অনুমতি আছে। সুতরাং শপিং মল এবং বাজার এলাকার বাইরে অবস্থিত মদের দোকান ৪ মে এর পর খুলবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন :- ভারতের প্রতিটি রাজ্যের রেড, অরেঞ্জ এবং গ্রিন জোনের তালিকা

তবে এই নির্দেশিকার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার যে এখনও পর্যন্ত কেবল রাষ্ট্রিয় স্তরেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে রাজ্য গুলি তাদের রাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিচার করে আরও একটি নির্দেশিকা জারি করবে। এক্ষেত্রে রাজ্যের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। রাজ্য যদি অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিচার করে মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তবে সেই নির্দেশিকা হবে চূড়ান্ত।

২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুসারে কোনো রাজ্য যদি মনে করে তবে লক ডাউন বিধিনিষেধ আরও কড়া করতে পারে। এক্ষেত্রে রাজ্য কেন্দ্রের বিধিনিষেধ লঘু করতে পারবে না কিন্তু কেন্দ্র কোথাও কম বিধিনিষেধ প্রয়োগ করলে রাজ্য পরিস্থিতি বিচার করে সেই বিধি নিষেধ শক্ত করতেই পারে। এই ক্ষমতা রাজ্যের হাতে আছে ।তবে রাজ্যের অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে কোনো রাজ্যেই এই সিদ্ধান্তের অন্যথা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছেনা।

মদের দোকান খুললেও কি কি নিয়ম মানতে হবে?

মদের দোকান খুললেও সামাজিক দূরত্বের নীতি বজায় রাখতেই হবে মানুষকে, কারন বর্তমানে এই পরিস্থিতির সাথে লড়াই করার এটাই একমাত্র পথ। প্রত্যেক গ্রাহককে একে অপরের সাথে ন্যুনতম ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাস্ক ছাড়া দোকানে যাওয়া যাবেনা। একসাথে পাঁচ জনের বেশী মানুষের জমায়েত যাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। দোকান খুললেও ব্যাক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।