প্রতিদিন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয় পশ্চিমবঙ্গের এই জায়গায়, সাক্ষী থাকে কয়েক লক্ষ মানুষ

Thunder

বিনোদন জগৎ সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দৈনন্দিন ইঁদুর দৌড়ের জীবনযাত্রা, একঘেয়ে রোজনামচা পালন করতে করতে যখন একরাশ ক্লান্তি শরীর এবং মনকে জাঁকিয়ে ধরে, তখন শরীর এবং মনের জন্য টনিকের মতো কাজ করে এই বিনোদন জগৎ। আধুনিক প্রজন্মের কাছে বিনোদনের বহু মাধ্যম খোলা রয়েছে। সিরিয়াল, সিনেমার বাইরে আধুনিক প্রজন্মের দর্শকদের জন্য খুলে গিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের রাস্তা।

তবুও ধারাবাহিকের প্রতি দর্শকের আকর্ষণ কিন্তু বিন্দুমাত্র কমেনি। ঠিক এই কারণেই তো টেলিমিডিয়াকে দর্শকের স্বাদ বুঝে ধারাবাহিকগুলিকে পর্দায় ঠিক দর্শকের মনের মতো করেই তুলে ধরতে হয়। এমনটা করতে গিয়ে অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকে অতিনাটকীয়তার আশ্রয় নিয়ে ফেলেন নির্মাতারা! প্রায় প্রতিটি ধারাবাহিকেই কমবেশি অতিরঞ্জন চলে।

ধরুন, ধারাবাহিকের একটি দৃশ্য চলছে। যেখানে ধারাবাহিকের নায়িকার গালে সপাটে এক থাপ্পড় মারলেন তার মা অথবা শাশুড়ি মা! এই দৃশ্যটিকে পর্দায় কিভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাপ্পড় খাওয়ার পরের দৃশ্যের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেন ধারাবাহিকের নির্মাতারা। দর্শকের মনে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করতে আশ্রয় নেওয়া হয় কিছু গুরুগম্ভীর মিউজিকের এবং সেইসঙ্গেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কম্পালসারি হিসেবে থাকে বজ্রপাতের শব্দ!

Rani Rashmoni Serial

ঠিক এই প্রসঙ্গেই সাম্প্রতিককালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি প্রশ্নপত্র। যেখানে “সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত কোথায় হয়?”, জানতে চাওয়া হয়েছে। উত্তরদাতার সুবিধার জন্য আবার ৪টে অপশনও রাখা হয়েছে প্রশ্নের সঙ্গে। এই অপশনগুলি দেখেই কার্যত চোখ আটকিয়েছে নেটিজেনের। সেই চারটি অপশন হলো, “ভারতীয় সিরিয়াল”, “গুলিস্তান”, “রাজশাহী”, “উপরের কোনোটিই নয়”!

নেটিজেনরা অবশ্য প্রথম অপশন অর্থাৎ “ভারতীয় সিরিয়াল”কেই বেছে নিয়েছেন এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হিসেবে। আর হবে নাই বা কেন? হিন্দি হোক বা বাংলা, সব ধারাবাহিকেরই বেশিরভাগ দৃশ্যকে দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে গুরুগম্ভীর আবহ এবং তার সঙ্গে মাঝে মাঝে বজ্রপাতের শব্দ অথবা দৃশ্য ব্যবহার করে থাকেন সিরিয়াল নির্মাতারা! ধারাবাহিকের নাটকীয়তা বৃদ্ধির দরুণই নাকি এমনটা করতেই হয় ধারাবাহিকের নির্মাতাদের।

ধারাবাহিক নির্মাতাদের যুক্তি অনুসারে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বজ্রপাতের শব্দের মতো গুরুগম্ভীর প্রাকৃতিক শব্দ আসলে ধারাবাহিকের গুরুগম্ভীর দৃশ্যগুলিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। এতে দর্শকের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। অতিরঞ্জন নয়, স্রেফ দর্শকের আকর্ষণ পাওয়ার জন্যেই কার্যত এমন বজ্রপাতসম্বলিত দৃশ্যের অবতারণা করে থাকেন ধারাবাহিকের নির্মাতারা।

এ প্রসঙ্গে “করুণাময়ী রাণী রাসমণি” ধারাবাহিকের পরিচালক রুপক দে জানিয়েছেন, ‘‘ভারতীয় ধারাবাহিকে যে বজ্রপাত হয়, সেটা আমরা সকলেই দেখি। এমন নয় যে আমরা দেখি না। কিন্তু ভেবে দেখতে হবে, ভারতীয় টেলিভিশনে যদি নেটফ্লিক্সের মতো কাজ দেখানো হয়, তবে ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি সেই কাজের স্বীকৃতি দেবে না।’’ তার যুক্তি, বাংলার থেকে অবশ্য হিন্দি ধারাবাহিকেই বজ্রপাতের আবহ সঙ্গীত বেশি ব্যবহার করা হয়!

প্রসঙ্গত, গত সোমবারেই সারা রাজ্যের ৫ টি জেলায় বজ্রপাতের দরুন একদিনেই ২৬ জন প্রাণ হারালেন। বজ্রপাতের দরুণ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসনের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তবে বজ্রপাত যদি এড়িয়েই চলতে হয় তাহলে বরং এড়িয়ে চলুন ভারতীয় ধারাবাহিক! কারণ সবথেকে বেশি বজ্রপাত তো সেখানেই হয়, তাই না?