আইপিএলের ইতিহাসে কম আলোচিত ১০ রেকর্ড

আইপিএল বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল টূর্নামেন্ট। আছে ধূমধাড়াক্কা ব্যাটিং, আঁটসাঁট বোলিং, মনকাড়া ফিন্ডিং। প্রিয় খেলোয়াড়দের ঘরের মাঠে দেখার সুযোগের সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রিয় তারকা দর্শনের সৌভাগ্য। সব মিলিয়ে খেলা আর বিনোদনের ককটেল আইপিএল।
এইপিএলের প্রতি ম্যাচেই নিঃশব্দে তৈরি হয় কোনও না কোনও ইতিহাস। এখানে আমরা বেছে নিয়েছি তেমনই কিছু তথ্য যা নিয়ে কথা হয়েছে কম, গুরুত্ব পেয়েছে কম কিন্তু কোনও অংশে ছোট নয় তারা। বরং আইপিএলের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়ে যাবে এইসব রেকর্ডও।

১০) আইপিএলে ৫০০ ম্যাচ খেলা একমাত্র ক্রিকেটার

প্রাক্তন ভারতীয় জোরে বোলার জাহির খান একমাত্র ক্রিকেটার যিনি আইপিএলে খেলেছেন ৫০০ ম্যাচ। একদম শুরু থেকে।
প্রথম মরশুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল অভিযান শুরু হয় জাহিরের। অষ্টম মরশুমে খেলার সময় তাঁর নামের পাশে লেগে যায় ৫০০ ম্যাচের ট্যাগলাইন। সেবার খেলছিলেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে আইপিএল কেরিয়ারের ৫০০ ম্যাচ খেলেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত হেরে যায় জাহিরের দল দিল্লি।

৯) টানা ৩৮৬ ওভার বোলিংয়ের পর একটা নো বল

একমাত্র আইপিএল খেলোয়াড় হিসাবে পীযূষ চাওলার দখলে আছে টানা ৩৮৬ ওভার বোলিংয়ের রেকর্ড। ২০১৬ আইপিএলে এই নাইট খেলোয়াড় দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে প্রথম নো বল করেছিলেন।
২০০৮ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে আইপিএল অভিযান শুরু। সপ্তম মরশুমে কলকাতা নাইট রাইডার্স কিনে নেয় এই লেগ স্পিনারকে। পীযুষের নামের পাশে আছে আরও কয়েকটি রেকর্ড। নাইটদের প্রথম ট্রফি জয়ের উইনিং শট এসেছিল চাওলার ব্যাটেই। চলতি মরশুমেও কলকাতার হয়ে হাত ঘোরাচ্ছেন চাওলা।

৮) একটা নির্দিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১০০ ম্যাচ

চোট আঘাতের জন্য অনেক খেলোয়াড় ছিটকে গেছেন। দেশের হয়ে খেলার জন্য আইপিএলের মাঝপথেই ফিরে যেতে হয়েছে অনেক খেলোয়াড়কে। এইসবের মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে কায়রন পোলার্ড এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুরর হয়ে এ বি ডিভিলিয়ার্স খেলে ফেলেছেন ১০০ ম্যাচ।
২০১০ মরশুমে মুম্বাইয়ের হয়ে আইপিএল কেরিয়ার শুরু হয় কায়রন পোলার্ডের। এখনও এই টিমের অংশ। খেলেছেন ১২৩ ম্যাচ।
এবি কেরিয়ার শুরু করেছিলেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে। তবে ২০১১ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর তাঁকে কিনে নেয়। এখনও পর্যন্ত বেঙ্গালুরুরর হয়ে ১০১ ম্যাচ খেলেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান।

৭) আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক স্পেল

২ জন বোলারের আছে এই রেকর্ড। আশ্চর্যজনকভাবে তাঁরা হলেন আশিস নেহরা এবং ফিডেল এডুয়ার্ডস। আরও অবাক করা ব্যাপার, দুজনের বোলিং পরিসংখ্যানও একেবারে একরকম। দুজনেই ৪ ওভারের স্পেলে এক ওভার মেডেন নিয়ে ৬ রান দিয়ে তুলেছেন ১ উইকেট।
২০০৯ আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে নেহরা এই রেকর্ড করেছিলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে। একই বছরে ফিডেল এডুয়ার্ডস ডেকান চার্জার্সের হয়ে এই রেকর্ড করেছিলেন নাইটদের বিপক্ষে।

৬) সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরার রেকর্ড

সব মরশুম মিলিয়ে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান দীনেশ কার্তিকের দখলে। ১৫২ ম্যাচে ধরেছেন ৮৮ ক্যাচ। সঙ্গে ২৬ টা স্ট্যাম্পিং।

আরও পড়ুন :- আইপিএলে KKR-এর ম্যাচ কবে কোথায় কখন, দেখুন সম্পূর্ণ সময়সূচি

রয়্যাল চেয়ালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং গুজরাট লায়ন্সের হয়ে আইপিএল খেলেছেন কার্তিক। একাদশ আইপিএলে খেলছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। নাইটেদের অধিনায়কত্বের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে কার্তিককে।

৫) মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২ ভারতীয়

চলতি মরশুমে চলছে আইপিএলের একাদশ সংস্করণ। এই ১১টা সিরিজের মধ্যে মাত্র দুবার মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার সম্মান জিতেছেন কোনও ভারতীয়।
২০১০ আইপিএল মরশুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে শচীন তেণ্ডুলকর জিতেছিলেন মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড। করেছিলেন ৬১৮ রান। ওই মরশুমে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’-এর মালিকও ছিলেন সচীন।
অষ্টম মরশুমে বিরাট কোহলি দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে রয়্যাল চেয়ালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে এই খেতাব নিজের দখলে রাখেন। করেছিলেন ৯৭৩ রান।

আরও পড়ুন :- আইপিএলে যেভাবে আয় করে টিম মালিকেরা

মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড ৪ বার গেছে অস্ট্রেলিয়ানদের দখলে। শেন ওয়াটসন দুবার এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল একবার করে এই খেতাব পান।

৪) ঘন্টায় ১৫৩ কিমি বেগে বল

বেশ কিছু দূরন্ত গতির বোলিং দেখা গেছে আইপিএলে। তবে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৩ কিমি বেগে বল। এই রেকর্ড অজি জোরে বোলার প্যাট কামিন্সের দখলে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে গত বছর এই রেকর্ড করেন কামিন্স।

৩) আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ডট বল করা বোলার

৪২০.৪ ওভার বল হাত ঘুরিয়ে ১০৭৫ টি ডট বল করে এই রেকর্ড ভারতীয় পেসার প্রবীন কুমারের দখলে। দশ মরশুম মিলিয়ে।
একইসঙ্গে ১১৯ ম্যাচ খেলে তুলে নিয়েছেন ৯০ উইকেট। ইকনমি রেট ৭.৭৩।

আরও পড়ুন :- অসম্ভব সুন্দরী এই ১০ ক্রিকেটারের বউ হার মানাবে বিশ্বসুন্দরীকে

রয়্যাল চেয়ালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং গুজরাট লায়ন্সের হয়ে খেলেছেন প্রবীন। যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন লাসিথ মালিঙ্গা এবং হরভজন সিং।

২) সবচেয়ে বেশিবার ‘০’ রানে আউট

ভারতীয় অফ স্পিনার হরভজন সিং ১৩ বার শূণ্য রানে ড্রেসিং রুমে ফিরেছেন। আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার ‘ডাক’ হওয়ার রেকর্ড তাই সর্দারজির দখলে। কেরিয়ারের শুরু করেছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে।

আরও পড়ুন :- ক্রিকেট খেলার পাসাপাসি এই ৭ ক্রিকেটার উচ্চপদস্ত সরকারি অফিসার

তবে ব্যাটসম্যান হিসাবে ভাজ্জির স্ট্রাইক রেট কিন্তু প্রশংসনীয়, ১৪২.৪২। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে একাদশ আইপিএল খেলছেন ‘টার্বুনেটর’।

১) সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন টোটাল

মোট রান বা টোটাল রানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন, দুটোই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দখলে।
২০১৩ আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়ার্সের বিপক্ষে ৫ উইকেটে বেঙ্গালুরু তুলেছিল ২৩৬ রান। সেই ম্যাচেই ক্রিস ক্রিস গেইল ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। আইপিএলের ইতিহাসের এটাই কোনও দলের তোলা সর্বোচ্চ রান।

আরও পড়ুন :- ক্রিকেটের এই ১০টি রেকর্ড কোনদিন কারোর পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়

২০১৭ মরশুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে খেলার সময় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল বিরাট, এবিদের ব্যাটিং। মাত্র ৪৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তাঁদের ইনিংস। কেদার যাদব করেছিলেন সবচেয়ে বেশি রান, ৯। আইপিএলের ইতিহাসে কোনও দলের সর্বনিম্ন স্কোর এটাই।