পেশায় কুলি, রেলের ফ্রী ওয়াইফাই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল  

কিছু মানুষ প্রতিদিনই তার ক্ষমতার মাধ্যমে এমন কিছু অসাধ্য কাজ করে দেখান, যা আমাদের সবার কাছেই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।প্রতিবারই এইসব মানুষ প্রমান করে, জেদ আর অধ্যবসায় থাকলে সকল প্রকার অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেখানো।আর এই সব মানুষই সকল পরাজিত মানুষের  কাছে প্রেরণা হিসেবে দেখা দেয়।হার না মানা এইসব মানুষই বারবার উঠে আসে সাফল্যের চূড়ায়।তারাই যেন বারবার চোখে আঙুল তুলে বেকার ,অলস, মানুষদের বলে, চেষ্টা করলে সবই সম্ভব, তোমরাও চেষ্টা করো, তোমাদেরও সাফল্য অবশ্যই আসবে।

(Representational iamge)

আর এইরকমই এক দৃষ্টান্ত রেখেছেন কেরালার এক কুলি। নাম শ্রীনাথ কে।তিনি তার জীবন অতিবাহিত করেন কুলির কাজ করে। সারাদিনে ৫ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে তিনি কেরালার এরণাকুলাম রেলওয়ে প্লাটফর্ম এ কুলির কাজ করেন।ভারী মালপত্র নিজের মাথায় বা কাঁধে তুলে পৌঁছে দেন নির্দিষ্ট ট্রেনে বা প্লাটফর্মের বাইরে থাকা গাড়িতে।কিন্তু এত দারিদ্র্য থাকা সত্বেও তিনি তার এই বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ শ্রীনাথ তাই চেয়েছিলেন এমন কিছু করতে যেখানে তার কুলির কাজের কোনো ক্ষতি না হয়ে নতুন কিছু করার।আর এখানেই তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়ায় ভারতীয় রেলের এক প্রকল্প।

এই প্রকল্পে রেল স্টেশন গুলিতে ফ্রি ওয়াই ফাই দেওয়া হয়েছিল।সেই ফ্রি ওয়াই ফাই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ  জীবন পাল্টানোর চেষ্টা করেন শ্রীনাথ। তিনি তার মোবাইল ও কানে হেডফোন নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন অনলাইন মাধ্যমে। আর এই প্রস্তুতির ফলশ্রুতি হিসাবে আজ তিনি কেরালার Public Service Commission দ্বারা অনুষ্ঠিত এক সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায়  সাফল্য লাভ করেছেন। গত পাঁচবছর ধরে তিনি কানে হেডফোন নিয়ে কুলির কাজ করতে করতেই অনলাইনে চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।মাথায় ভারী বোঝা নিয়ে চলতে চলতে তিনি কানে হেডফোন ও পকেটে ফোন রেখেই ।তার ডিজিট্যাল ক্লাসরুমে শিক্ষকের প্রশ্নের উত্তর দেন কাজের সাথে সাথে হেডফোনেই।

আরো পড়ুন : পাঁচ IAS সফলদের জীবনযুদ্ধের কাহিনী যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে

দারিদ্র্যের জন্য তিনি তার উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন নি।তবুও তিনি এইভাবে তার ভবিষ্যৎ পাল্টানোর চেষ্টায় ,যে নুতন পন্থা অবলম্বন করেছেন তা এক কথায় অনবদ্য। আজকের নুতন প্রজন্ম যেখানে ফ্রি নেট ব্যবহার করে সারাদিনের বেশিরভাগ সময় নানা সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়েই থাকে, সেখানে ফ্রি ওয়াই ফাইকে এই ভাবে ব্যবহার করে যে নিজের জীবন পাল্টানো যায় তা সবার কাছেই উপস্থাপিত করেছেন শ্রীনাথ। তার নিজের কথায়,”এই পরীক্ষা এর পূর্বেও আমি তিনবার দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রস্তুতি ঠিক না থাকার জন্য আমি ওই সময় সাফল্য লাভ করতে পারি নি, কিন্তু এবার আমি প্রথম থেকেই অনলাইন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম রেল স্টেশনের ফ্রি ওয়াই ফাই কে ব্যবহার করে। স্টেশনে কুলির কাজ করার সময়, কানে হেডফোন গুঁজে দিতাম এবং অনলাইনে যেসব স্টাডি মেটেরিয়াল দিত তা মন দিয়ে শুনতাম। আবার কীভাবে বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধান করতে হবে তা তখন মনে মনে ভাবতাম। এইভাবেই কাজ করতে করতে আমি পড়তাম।দিনের শেষে যখন কুলির কাজ শেষ হতো, অর্থাৎ রাত্রের দিকে আমি সারাদিনের পুরো পড়াশোনা ঝালিয়ে নিতাম।”

আরো পড়ুন : বাবা মদ্যপ, মা নারকেল বেচে, ছেলে সফল IAS পরীক্ষায়

শ্রীনাথের বাড়ি মুন্নুরে।মুন্নুরের সবচেয়ে কাছের রেল স্টেঅনুপ্রেরণাশন এরণাকুলাম। এখানে ২০১৬ সালে রেলের প্রকল্পে ফ্রি ওয়াই ফাই পরিষেবা দেওয়া শুরু হয় ।আর তারপর থেকেই তার অনলাইন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আর কোনো অসুবিধা হয় নি।তিনি যদি লিখিত পরীক্ষার পর পার্সোনাল  ইন্টারভিউতে সফল হন তাহলে তিনি ভূমি রাজস্ব দফতরের একজন গ্রাম সহকারী পদ পেতে পারেন।কিন্তু তিনি এইখানেই থেমে থাকবেন না।

তিনি বলেন  ঘর চালানোর জন্য  আমাকে কুলির কাজ করতে হয়েছে।আমার আশা আমি এই ভাবেই যদি প্রস্তুতি নিতে পারি তাহলে আমি অনেক ভালো চাকরি পেতে পারবো ভবিষ্যতে।এছাড়াও তিনি রেলের চাকরির পরীক্ষার জন্যে আবেদন করেছেন।তবে তার মতে তার গ্রামের পরিবর্তন করতে পারার মতো কিছু চাকরি তার পক্ষে আদর্শ চাকরি হবে।