যেভাবে সোনার দাম বাড়ছে তাতে সোনা কিনে রাখা কতটা লাভজনক?

322

সোনা ভারতীয়দের কাছে মঙ্গলের প্রতীক। বিয়ে থেকে প্রতিটি শুভ কাজে সোনার ব্যবহার হয়। কিন্তু সোনা কেনার সেই চাহিদা বিপুল পরিমাণে কমেছে করোনা পরিস্থিতিতে। তা সত্ত্বেও দেশজুড়ে সোনার দাম বাড়ছে ঝড়ের গতিতে। গত ৯ বছরে এই প্রথম প্রতি ১০ গ্ৰাম সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ৫০,৭৫০ টাকা। এছাড়াও ২২ ক্যারাট সোনার গয়নার দাম জিএসটি সহ হয়েছে ৪৯,৫৯৪ টাকা।

সোনার দাম বাড়ার কারণ কি?

আমেরিকার সঙ্গে চিন ও ইরানের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে বিশ্বজুড়ে লগ্নির বাজারে ধ্বস নেমেছে। যারা শেয়ার, উচ্চ মূল্যের বন্ড ফান্ডে ও বিদেশি মুদ্রার বাজারে লগ্নি করতেন তাঁরা নিরাপদ সোনার বাজারে লগ্নির পরিমাণ বাড়াতে শুরু করেছেন।

তাছাড়া বিশ্ব বাজারে ডলারের দাম যখন পড়ে যায়, তখন সোনার দাম বাড়তে থাকে। কারণ, বিশ্ব বাজারে ডলারের মতো সোনাও একটি কারেন্সি বা মুদ্রা। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা ও ডলার দুটোই কিনে রাখে এবং ব্যবসা করে। বর্তমানে ভারত, সিঙ্গাপুর, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোতে ডলারের দাম পড়ে গেছে। ফলে চীনসহ বিভিন্ন দেশে অনেকেই ডলার বিক্রি করে সোনা কিনতে শুরু করেছে। এতে সোনার চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামও বাড়ছে।

সোনায় টাকা বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কম তাছাড়া বিশ্ববাজারে সোনার দামের নিরিখে ভারতে সোনার দাম ঠিক হয়। লগ্নিতে গতি আনতে সুদ কমিয়েছে ভারত সহ বেশ কিছু দেশ। ইতিমধ্যেই সোনা কিনতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও শীর্ষ থাকা ব্যাঙ্কগুলি। ফলে সোনাতে টাকা বিনিয়োগ করলে রিটার্ন বা লাভ বেশি পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন অনেকে। তাই নিরাপদ সোনার বাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সোনার দাম।

সোনার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে  বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?

কোটাক সিকিউরিটির কমোডিটি রিসার্চের প্রধান রভিন্দ্র রাও জানিয়েছেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ছে। তার প্রভাব ভারতের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। চীনের পর ভারতেই সবচেয়ে সোনা কেনা বেচা হয়। ডলারের দাম অনেকটা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সোনার বাজারে টাকা ঢালছেন। সেই কারণে সোনার দাম এতটা বেড়েছে।”

সোনা কিনে রাখা কি লাভজনক?

স্টক মার্কেট, রিয়েল এস্টেট, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ,বন্ডের বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বর্তমানে সেখানে সোনার মূল্যবৃদ্ধি আশা জাগাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। ১.৬ শতাংশ হারে সোনার দাম বেড়েছে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে। সোনায় নির্ভরযোগ্যতাই তার প্রমাণ। রাতারাতি সোনার দামে তীব্র উথাল-পাথাল সাধারণত হয় না। স্বল্প মেয়াদে দর নামলেও, তা দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ঠকার সম্ভাবনা কম।

আরও পড়ুন :- ভারতের সবথেকে ধনী খনি মাফিয়া, সোনার থালায় খান, পড়েন হীরের মুকুট

যাঁরা ব্যাঙ্ক-ডাকঘরের বাইরে দু’পয়সা বাড়তি রিটার্নের আশায় টাকা রাখেন, তাঁদের জায়গা মূলত তিনটি। সোনা, শেয়ার বাজার ও ডলার। তাই অর্থনীতির যখন টালমাটাল দশা, তখন সোনার কদর সাধারণত তুঙ্গে থাকে। তাছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য লগ্নিতে যে-ভাবে পড়ে, সোনার দামে তেমন পড়ে না। কারণ সোনার নিজস্ব একটি মূল্য আছে। নিজের দামটুকু অন্তত সোনা সব সময়েই ধরে রাখে।

আরও পড়ুন :- হলমার্ক ছাড়া সোনা কিনছেন, মাথায় রাখুন কয়েকটি বিষয়

আগামী দিনে ১০ গ্ৰাম  সোনার দাম পৌঁছাতে পারে ৬৫ হাজারের কাছাকাছি। তথ্য বলছে ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন সোনা রয়েছে সাধারণ পরিবারের কাছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন মন্দিরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে আছে ৪০.৪৫ টন সোনা। এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের নির্ভরতা দিচ্ছে। ফলে বাড়ছে দাম। এতে সোনায় সোহাগা বলেই মনে করছেন বিনিয়োগকারীর দল।