বদলে যাচ্ছে ট্রেনের কামরা, ভারতীয় রেলের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

346

করোনা সংক্রমণ ভারতে ব্যাপক আকার নিতেই মার্চের ২২ তারিখ থেকে বন্ধ হয় রেল পরিষেবা। এরপর পণ্যবাহী ট্রেন, শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন এবং বিশেষ কিছু ট্রেন ছাড়া অন্য কোনও ট্রেন চলাচল করেনি। রেল মন্ত্রকের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পণ্যবাহী ট্রেন, শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন এবং বিশেষ ট্রেন ছাড়া ১২ই আগস্ট পর্যন্ত দেশে রেল পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

তবে বর্তমান করোনা আবহে চাকা না গড়ালেও আগামী দিনের ট্রেনের কামরায় একাধিক বদল আনছে ভারতীয় রেল। আর সেই বদলানোর ছবি পোস্ট করেছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ট্যুইট করে জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে ভারতীয় রেল  এখন পর্যন্ত যথা সম্ভব সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ করেছে৷ এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন ধরনের কামরা করোনা পরবর্তী সময়ে সুরক্ষিত ও সংক্রমণ আটকাবার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে৷

করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে যাতে সংক্রমণ আটকানো যায় তার জন্য রেলের কামরায় এই একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যে কারণে রেলের তরফে বানানো হয়েছে নতুন নকশা। তামা দিয়ে মোড়া হচ্ছে ট্রেনের হাতল, ট্রেনের দরজা জানালার ছিটকা নিতে লাগানো হচ্ছে তামার প্রলেপ। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন প্লাজমা এয়ার পিউফিকেশন, টাইটেনিয়াম ডি-অক্সাইডের আস্তরণ দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

কাপুরথালায় রেলের কারখানায় এই কোচগুলি তৈরি করা হয়েছে। নয়া কোচে থাকছে ফুট অপারেটেড ওয়াটার ট্য়াপ। অর্থাৎ, হাত নয়, পায়ের মাধ্য়মেই জল নেওয়া যাবে, সাবান ব্য়বহার করা যাবে। এমনকি, শৌচালয়ের দরজা, ফ্লাশের জন্য়ও পা ব্য়বহার করতে হবে। হাত নয়, পা দিয়ে ফ্লাশ করতে হবে।

রেলের বেশিরভাগ হ্যান্ডেলে তামা ব্যবহৃত হয়েছে৷ তামা বা কপার এমনই এক ধাতু যার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া সংস্পর্শে এলেই এক মিনিটের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়৷ কামরার দেওয়ালে টাইটেনিয়াম ডাই অক্সাইড মাখানো থাকবে। এই রাসায়নিক নানা ধরনের ভাইরাস, ব্যাক্টিরিয়া ও ছত্রাক মেরে ফেলতে সক্ষম। একবার ব্যবহার করলে এই রাসায়নিক ১২ মাস পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকে।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ভাইরাস যাতে কোনওভাবেই সংস্পর্শে আসতে না পারে, সে কারণে হাতের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানো হয়েছে। ট্রেনের হাতল, ছিটকিনি তামা দিয়ে মোড়া হয়েছে। রেলের তরফে বলা হয়েছে, ভাইরাস নাশ করতে পারে তামা। তামার মধ্যে ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যায়।

এছাড়াও করোনা পরবর্তী আবহের কথা মাথায় রেখে যে কোচগুলি তৈরি করা হচ্ছে সেগুলিতে ফুট অপারেটেড ওয়াটার ট্যাপ। অর্থাৎ হাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পায়ের মাধ্যমে ট্যাপ করেই জল নেওয়া যাবে। এমনকি শৌচাগারের দরজা এবং ফ্ল্যাশ করার ক্ষেত্রেও হাত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। পা ব্যবহার করেই সবকিছু করা যাবে।

রেল কামরার মধ্যের বাতাস পরিশুদ্ধ করার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। সমস্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় বায়ু বিশুদ্ধিকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ যাতে বায়ু প্লাজমার মাধ্যমে  বারেবারে স্যানিটাইজ হতে পারে৷ শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত কামরার এসি ডাক্টের মধ্যে বসানো থাকবে প্লাজমা এয়ার পিউরিফায়ার। এই যন্ত্র কামরার মধ্যে আয়োনিত বাতাস পাঠিয়ে ভাসমান করোনাভাইরাস ও অন্য দূষিত কণা ধ্বংস করে ফেলবে।

রেলের কামরায় বিভিন্ন স্থান টাইটেনিয়াম ডাই অক্সাইডের আস্তরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ টাইটেনিয়াম ডাই অক্সাইড ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অপকারী ছত্রাকের বংশবিস্তার রোধ করে৷ টাইটেনিয়াম ডাই অক্সাইডের আস্তরণের ফলে যাত্রীরা ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবেন৷ এর ফলে ট্রেনের যাত্রা আরও সুরক্ষিত ও নিরাপদ হবে৷