লাগবে না ইনজেকশন, চলে এলো করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার বিকল্প পদ্ধতি

1806

বিগত প্রায় এক বছর ধরেই করোনা আতঙ্কে মুড়ে রয়েছে সারা দুনিয়া। এক বছরের মাথায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনা। অবশ্য করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার ইতিমধ্যেই চলে এসেছে ভারতের হাতে। জরুরি ভিত্তিতে করোনার দু’টি প্রতিষেধক— অক্সফোর্ড-AstraZeneca-র তৈরি Covishield এবং ভারত বায়োটক (Bharat Biotech) ও ICMR-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি Covaxin- কে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন রয়েছে ভারতবাসীর হাতে। তবুও এই ভ্যাকসিন নিতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করছেন।

আট হোক কিংবা আশি, ইনজেকশনের প্রতি কম বেশী সকলেরই একটা ভয় কাজ করে। অনেকে তো আবার ইনজেকশনের ছুঁচ দেখলেই ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যান! ইনজেকশন নিয়ে অল্প-বিস্তর ভয় প্রায় প্রত্যেকেরই মনের মধ্যে লুকিয়ে আছে। জীবনে একবার হলেও শরীরে ইনজেকশনের ছুঁচ ফোটেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার।

একদিকে করোনা ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়, অপরদিকে ইনজেকশনের ভয়! এই দুই ভয়ের কারণে অনেকেই ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না। যার ফল হতে পারে মারাত্মক। তাই এবার বিকল্প ব্যবস্থা আনার কথা ভাবছে ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা “”প্রেমাস বায়োটেক”  (Premas Biotech)। ইনজেকশনের বদলে ওরাল ক্যাপসুল আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এই সংস্থা। মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা “Oramed Pharmaceuticals Inc”-এর সহযোগিতায় বর্তমানে “প্রেমাস বায়োটেক” করোনার ভ্যাকসিনের ওরাল ক্যাপসুল নিয়ে ট্রায়াল চালাচ্ছে। ভ্যাকসিন গ্রহণকারীকে যন্ত্রণাদায়ক টিকাকরণের অভিজ্ঞতার হাত থেকে বাঁচাতেই এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ট্রায়াল ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, ওরাল ক্যাপসুল প্রাণীদের শরীরে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলছে। প্রাণীদেহে এই ক্যাপসুল অনাক্রম্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতাও বাড়াচ্ছে। তবে ট্রায়াল সম্পন্ন হতে এখনও বেশ কিছুদিন দেরি হবে। ট্রায়ালের সব ধাপ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই মানুষের ব্যবহার্থে বাজারে মিলতে পারে করোনা প্রতিরোধী এই ওরাল ক্যাপসুল।