রবিবার দিনের আকাশে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার, দেখা যাবে মহাজাগতিক দৃশ্য

নতুন দশকের শুরু হয়েছে ২০২০ এর হাত ধরে। মহামারি প্রকৃতির কোপ সবই যেন এসে পড়েছে এই বছরটির উপর। সকলের কাছে এই বছরটি যেমন সবথেকে কঠিন আবার এই বছরটিই সবথেকে স্মরণীয়। এই বছরটিতে বহু প্রতিকূলতা এলেও থেমে নেই আমরা। করোনার কোপ কাঁধে নিয়েই এগিয়ে চলেছি সবাই। ঠিক তেমনভাবেই থেমে নেই এই বিস্ময়কর মহাজাগতিক বিশ্ব। তাই আগামী ২১শে জুন আরও একটি মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছি আমরা। ওই দিনই ঘটতে চলেছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহন।

জানা যাচ্ছে, ২১শে জুন দিনের আকাশে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার। ওই দিন গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে। বেশ কিছু জায়গা থেকে প্রায় ১০টা ১৭ মিনিটে পূর্ন মাত্রায় গ্রহণ দেখা যাবে। ১২টা ১০ মিনিটে গ্রহণ যাবে সর্বোচ্চ সীমায় ও ৩টা ৪ মিনিটে শেষ হবে গ্রহণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এমন গ্রহন শেষ ঘটেছে ২০০৮ সালে। ২১ জুনের সূর্যগ্রহণ ২০২০ সালের অন্যতম তাক লাগানো মহাজাগতিক ঘটনা বলে বিবেচিত হতে পারে। এরপর ১৪ ডিসেম্বর হতে চলেছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

গত ৫ই জুন উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ দেখেছে বিশ্ব।5 সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই পথে চলে এলে শুরু হয় গ্রহণ। এই সময়ে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপর৷ সেই ছায়ায় ঢাকা পড়ায় পৃথিবী থেকে দেখা যায় না রুপোলি চাঁদকে। তাকে বলে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।

অন্যদিকে, পুরোপুরি ঢাকা না পড়লে সেটাকে বলে আংশিক গ্রহণ। যখন হালকাভাবে ঢাকা পড়ে চাঁদ, কমে যায় তার ঔজ্জ্বল্য, তখন তাকে বলে উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ।

বাংলায় কোথায় কখন এই গ্রহণ দেখা যাবে?

  • কলকাতা : সকাল ১০ টা ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড থেকে দুপুর ২ টো ১৭ মিনিট
  • মেদিনীপুর : সকাল ১০ টা ৪৩ মিনিট থেকে দুপুর ২ টো ১৪ মিনিট ৫ সেকেন্ড
  • মুর্শিদাবাদ : সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিট থেকে দুপুর ২ টো ১৭ মিনিট ৫ সেকেন্ড
  • শিলিগুড়ি : সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিট ৩ সেকেন্ড থেকে ২ টো ১৬ মিনিট ৭ সেকেন্ড
  • মালদা : সকাল ১০ টা ৪৬ মিনিট থেকে ২ টো ১৭ মিনিট পর্যন্ত
  • রায়গঞ্জ : সকাল ১০ টা ৪৬ মিনিট থেকে দুপুর ২ টো ১৬ মিনিট
  • কোচবিহার : সকাল ১০ টা ৫০ মিনিট ৫ সেকেন্ড থেকে দুপুর ২ টো ১৯ মিনিট ২ সেকেন্ড
  • দার্জিলিং : সকাল ১০ টা ৪৭ মিন ২ সেকেন্ড থেকে দুপুর ২ টো ১৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড

বলয়গ্রাস আর পূর্ণগ্রাসের মধ্যে পার্থক্য কি?

২১ শে জুন মূলত বলয়গ্রাস চন্দ্রগ্রহন ঘটতে চলেছে। পৃথিবী চাঁদ ও সূর্য যখন এক সরলরেখায় থাকে তখনই ঘটে গ্রহন। কিন্তু চাঁদের কৌনিক ব্যাস সূর্যের থেকে ছোট হলে তাকে বলা হয় বলয় গ্রহন। আর এই কৌনিক দূরত্বের কারণেই ঘটে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহন।

আরও পড়ুন :- গ্রহণে প্রচলিত কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

এই সূর্যগ্রহনের ৭০ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে খালি চোখে দেখা যাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালি চোখে গ্রহন না দেখাই ভালো। গ্রহণের সময় রশ্মি তীব্র থাকায় হারাতে পারেন দৃষ্টিশক্তি। টেলিস্কোপ বা পেরিস্কোপে দেখলেও সরাসরি দেখতে  বারণ করছেন নাসা। এমনকি ঘষা কাঁচ বা সানগ্লাস দিয়েও না দেখাই ভালো। তবে গ্লাস বা ফিল্টার দিয়ে দেখা যেতে পারে।