৩ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উপগ্রহ ধ্বংস করল ভারত ; ‘মিশন শক্তি’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

171

সামরিক বিভাগে একের পর এক সাফল্য লাভের পর মহাকাশেও বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ভারত। যে সাফল্যতার মধ্য দিয়ে ভারতে এবার চীন, আমেরিকা ও রাশিয়ার পর চতুর্থ দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করল। এই উপগ্রহ ধ্বংস করার অ্যান্টি স্যাটেলাইট বিদেশ থেকে আমদানি করা নয়, একেবারে ভারতীয় প্রযুক্তিতে ভারতে তৈরি। এই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিশন শক্তি’। এই মিসাইলের মাধ্যমে মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে মহাকাশের কক্ষপথে থাকা উপগ্রহকে ধ্বংস করলো ভারত। ভারত আজ জল, স্থল এবং মহাকাশকে জয় করে নিল।

আজ সকাল ১১ টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গান দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা করা হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন টুইটের মাধ্যমে। তারপর বারোটা নাগাদ গুরুত্বপূর্ণ সেই ঘোষণা জাতির উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন তিনি।

সেই ভাষণে নরেন্দ্র মোদী জানান, লো আর্থ অরবিটে অব্যবহৃত একটি উপগ্রহ ভারত মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই অব্যাহত স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে ভারতের তৈরি অ্যান্টি স্যাটেলাইট A-SAT নামক মিসাইল। এই ধ্বংস করার মাধ্যমে ভারত বিশ্বে নিজেকে মহাশক্তিশালী চতুর্থ দেশ হিসাবে মহাকাশে প্রতিষ্ঠিত করল। এর আগে এই ধরনের ক্ষমতা কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার হাতেই ছিল। ডিআরডিওর বিজ্ঞানীরা এই মিশনের নাম দিয়েছেন ‘মিশন শক্তি’। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী এই মিশনের সাথে যে সকল বিজ্ঞানী এবং আধিকারিকেরা যুক্ত ছিলেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র কেবলমাত্র নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই উৎক্ষেপণ। কোন রকম হুমকি অথবা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে নয়। অথবা কোন রকম আগ্রাসন ভাবমূর্তি নিয়ে ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেনি। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কোন আইনও লংঘন করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এহেন জটিল পদ্ধতি চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া ছাড়া অন্য কোন দেশ আয়ত্তে আনতে পারেনি এর আগে পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে এই সাফল্য গৌরবমণ্ডিত।

স্যাটেলাইট এমন যা যে কোন দেশের যোগাযোগ থেকে শুরু করে আবহাওয়া, শত্রু পক্ষের ওপর নজর রাখা সবকিছুর জন্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর ভারতের হাতে এই মুহূর্তে এমন অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল আসার ফলে ভারত যে কোন সময় শত্রুপক্ষের পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহকে ধ্বংস করে শত্রুপক্ষের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। এ প্রসঙ্গে আরো বলে রাখা ভালো এই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল ভারত নিজেদের আয়ত্তে আনার পর চীন এবং পাকিস্তানকে অনেকটাই ব্যাকফুটে ফেলে দিল।

Loading...