লকডাউন ভারতে করোনা সংক্রমণ কতটা আটকাল, দেখে নিন পরিসংখ্যান

কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাস থেকে দেশ জুড়ে লক ডাউন চলছে। কিন্তু লক ডাউনের ফলে কি সত্যিই কমানো গেছে সংক্রমণের সংখ্যা? গত ২২শে মে ডক্টর ভি কে পল নীতি অযোগের তরফ থেকে গুরগাঁও এর একটি সাইবার হাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই লক ডাউনের সাফল্যের হিসেব দিয়েছেন।বিভিন্ন মডেলিং গ্রুপের তরফ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসেব দেওয়া হয়েছে।তবে কোন ভিত্তিতে এই হিসেব গুলি করা হয়েছে সেই বিষয় কিছু জানা যায়নি।দেখে নেওয়া যাক সেই হিসেব গুলি কি কি?

বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের হিসেব অনুযায়ী

  • ১৫ মে পর্যন্ত লক ডাউনে সংক্রমণ আটকানো গেছে – ৩৬-৭০ লক্ষ
  • লক ডাউনের ফলে মৃত্যু আটকানো গেছে – ১.২ থেকে ২.১ লক্ষ।

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার হিসেব অনুযায়ী

  • লক ডাউনের ফলে মৃত্যু আটকানো গেছে –  ৭৮ হাজার

অর্থনীতিবিদদের হিসেব অনুযায়ী

  • লক ডাউনের ফলে সংক্রমণ আটকানো গেছে  ২৩ লক্ষ
  • মৃত্যু আটকানো গেছে  ৬৮ হাজার।

NIMS-এর অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীদের হিসেবে অনুযায়ী

  • লক ডাউনে সংক্রমণ আটকানো গেছে –  ১.৫৯ লক্ষ।
  • মৃত্যু আটকানো গেছে – ৫১ হাজার।

পরিসংখ্যান মন্ত্রক ও ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনসট্ট্যুটেক যৌথ হিসেব অনুযায়ী

  • লক ডাউনের ফলে সংক্রমণ আটকানো গেছে – ১৪ থেকে ২৯ লক্ষ।
  • মৃত্যু আটকানো গেছে – ৩৭ থেকে ৭৮ হাজার।

তবে সরকারি হিসেবের ক্ষেত্রে এই বিষয় যথেষ্ট অস্বচ্ছতা চোখে পড়ার মতন। পরিসংখ্যান সম্পর্কে উঠে আসা প্রশ্ন গুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এড়িয়ে গেছে আইসিএমআর। অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তির সৃষ্টিও হয়, অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশিত পরিসংখ্যান বাতিল করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ইন্ডিয়ান সায়েন্টিস্টস রেসপনস টু কোভিড১৯ (ISRC) ইতিমধ্যেই ভারতের মহামারি পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত মডেল তৈরি করেছেন তারা, যার নাম INDSCI-SIM।

এই উদ্যোগে আছেন দেশ বিদেশের ৬০০ বিজ্ঞানী। সাথে আছেন চিকিৎসক, শিল্পী সহ সমাজ ব্যবস্থার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন সদস্যরাও।এর উদ্দেশ্য কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিখুঁত তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ই মডেলে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত ক্লিনিকাল তথ্য আপ-টু-ডেট রয়েছে, রয়েছে জনবিন্যাসের বিবরণ, যার মধ্যে বয়স নির্ভর মৃত্যু সম্ভাবনা ও বয়সের হিসেব সহ প্রতি রাজ্যের জনসংখ্যার হিসেবও।

এই মডেল ভারতে কোরোনা ভাইরাস সম্পর্কিত ক্লিনিক্যাল তথ্য দেওয়া আছে, তার সাথেই জনবিন্যাস, বয়স হিসেবে মৃত্যুর সম্ভাবনা,সেই বয়স হিসেবে রাজ্যের জনসংখ্যার হিসেব, লক ডাউন চলাকালীন উপসর্গ যুক্ত ব্যাক্তি ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যাক্তিদের টেস্টের সংখ্যার হিসেব ইত্যাদিও বিস্তারিত ভাবে দেওয়া হয়েছে। লক ডাউনের ফলে কত মৃত্যু এড়ানো গেছে, এই সময় সংক্রমিত ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যাক্তিদের সংখ্যা কত এবং কোনরকম ব্যবস্থা না থাকলে সেই সংখ্যা কথায় গিয়ে দাড়াতে পারতো, সেই হিসেবও করা হয়েছে।

 

এই মডেলের হিসেব থেকে দেখা যাচ্ছে দেশ জুড়ে চলতে থাকা লক ডাউনের ফলে মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার মৃত্যু এড়ানো গেছে। এই হিসেব ভারতে মহামারি সম্পর্কিত যে কটি মডেল তৈরি হয় তাদের মধ্যে সবথেকে বেশি নির্ভরযোগ্য এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণার ফলে এই হিসেবটি তৈরি হয়।

এই মডেলের হিসেব থেকে দেখা যাচ্ছে বর্তমানে ভারতের মোট জনসংখ্যার ০.২ থেকে ১ শতাংশ মানুষ কোরোনা ভাইরাসে সংক্রমিত এবং এও দেখা যাচ্ছে প্রতি ১ জন সংক্রমিত ব্যাক্তি পিছু ২০ থেকে ৩০ জন ব্যাক্তি অসনাক্ত। তবে ১৫ মে পর্যন্ত সময়ের এই রিপোর্টের অনেকেই বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ভারতে লকডাউন কি তাহলে সফল?

কিছুটা হলেও উত্তর হ্যা। এই মুহূর্তে লক ডাউন অবস্থার পরিবর্তনের ফলে সমাজের সর্বস্তরে প্রকোপ ভীষন ভাবে বৃদ্ধি পাবে তা বলাই যায়।পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসার ফলে অসংক্রমিত বা কম সংক্রমিত এলাকায় বিপুল হারে সংক্রমন বাড়বে। যাদের গুরুতর কোনো অসুস্থতা আছে তাদের চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে হবে এবং নিয়মিত ভাবে টিকাকরণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে হবে। মনে করা হচ্ছে যে হিসেবে সংক্রমণের যে সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়েছে তার থেকে আদতে সংক্রমণের সংখ্যা অনেক বেশী। তার অন্যতম কারণ হলো সংক্রমিত ব্যাক্তিদের অনেকেই উপসর্গহীন ভাবে আছেন। আগামী দিনে যে বেশ কিছু গুন বেশী হারে সংক্রমন বাড়তে চলেছে তা বলাই যায়।