করোনা আটকাতে একজন মানুষের কটা ভ্যাকসিন লাগবে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

এত মাস করোনা ত্রাসে জর্জরিত থাকার পরে যত ভ্যাকসিন পাওয়ার দিন কাছে আসছে ততই ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে বিশ্বের প্রতিটি দেশ। অনেক দেশ এক বা একাধিক ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থার সাথে চুক্তি করে রেখেছে।

এমত অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, করোনামুক্ত হতে ভ্যাকসিনের একটা ডোজ যথেষ্ট নাকি প্রয়োজন একাধিক ডোজের? অনেকেই মনে করছেন ভ্যাকসিনের ডোজ যদি দুবার দিতে হয় তবে পৃথিবীর বেশ কিছু দেশের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছবে না, সমস্যায় পড়তে পারে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলি।

বিজ্ঞানী মহলের একাংশের মতে, একটা ডোজ যেখানে পৃথিবীর সব দেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জটিল বিষয় সেখানে দুটি ডোজ হলে কি হবে? আনন্দবাজার কে দেওয়া সাক্ষাতকারে এক ইমিউনোলজিস্ট জানান, ভ্যাকসিন গবেষণায় এগিয়ে থাকা অনেক দেশই দুটি ডোজের ভ্যাকসিনের কথা ভাবছেন।

তারা মনে করছেন যে একটা ডোজ নিলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা যাবে। তবে এমনও অনেক সংস্থা আছে যারা উৎপাদন ও সরবরাহের দিকটি মাথায় রেখে সিঙ্গেল ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের দিকে জোর দেবে।  তবে এক ভাইরোলজিস্টের মনে করছেন একাধিক ডোজ দিতে হতেই পারে।

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী পিটার সি ডোয়ার্টি এ বিষয়ে আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস যদি এভাবেই থেকে যায় তাহলে এমনও হতে পারে যে বার্ষিক ভাবে ভ্যাকসিনের বুস্টার শট, অর্থাৎ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ডোজের প্রয়োজন পড়লো।

তিনি জানান যে প্যাথোজেনের সঙ্গে লড়াই করার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরির পথ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে এরকম হতেই পারে যে একটি ডোজ দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় ( ধরুন এক মাস) পর আরেকটি বুস্টার ডোজ দিতে হলো। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে তা হতেই পারে বলে মনে করছেন তিনি।

তিনি  জানান বর্তমানে যে ভ্যাকসিন গুলির গবেষণা অনেকটা এগিয়ে গেছে সেগুলির একাধিক প্রাইম বুস্ট। এর অর্থ, একবার ভ্যাকসিন দিয়ে কিছুদিন পর আরেকটা ইনজেকশন দিয়ে শরীরের ইমিউনিটি বুস্ট করা। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের কাছাকাছি যৌগ বা একই যৌগ শরীরে প্রবেশ করানো হয়।

আরও পড়ুন :- কোন বয়সের বাচ্চাদের কখন মাস্ক পরতে হবে? নতুন গাইডলাইন দিল WHO

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর সংক্রামক রোগ চিকিৎসক সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় প্রাইম বুস্ট এর ক্ষেত্রে দুবার আলাদা আলাদা ইমৌনজেন ব্যাবহার করা যেতে পারে। ইয়ালো ফিভার বা বিসিজির ক্ষেত্রে একবার ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও বেশ কিছু রোগ, যেমন হেপাটাইটিস বি এর ক্ষেত্রে দুবার ভ্যাকসিন দিতে হয়।

আরও পড়ুন :- ভারতের তৈরি ৫ করোনা ভ্যাকসিন কোন কোন স্টেজে রয়েছে, দেখুন তালিকা

অনেকেরই মতে, এই মুহূর্তে সবথেকে বেশী প্রয়োজন ভ্যাকসিন বাজারে আসা এবং সব দেশের কাছে তা পৌঁছে যাওয়া। কারন বর্তমানে ভ্যাকসিন নিয়ে ক্ষমতাশালী দেশগুলি এমনই মরিয়া হয়ে উঠেছে যে আমেরিকা নাগরিক পিছু ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ এবং ইংল্যান্ড পাঁচটি ডোজ বুক করে রেখেছে। এমন অবস্থায় অনেক অর্থনীতিবিদ এর কথায় একটার বেশী ভ্যাকসিন ডোজ প্রয়োজন হলে তার অভাব দেখা দিতে পারে, ফলে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছানোই জটিল বিষয় হয়ে উঠবে।