শীতে মাঝে মাঝে স্নান না করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল! বলছে গবেষণা

174

শীতকালে স্নানটা যেন না করলেই ভালো হয়। ঠান্ডার ভয়ে স্নান করতে ঢুকেও গায়ে জল না ঢেলেই বেরিয়ে আসেন অনেকে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকদের মতে নিয়মিত স্নান না করাই ভাল। ত্বক নিজেকে  রাসায়নিক উৎপন্নের বিষ থেকে রক্ষা করতে স্বাস্থ্যবান ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন করে। কিন্তু প্রতিদিন স্নান করলে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো চলে যায়।

সুতরাং শীতকালে দুই দিন বা তিন দিন পরপর একদিন স্নান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বোস্টনের ত্বক বিশেষজ্ঞ ড. র‌্যানেল্লাহির্সচের মতে, লোকে শুধু নোংরা হওয়ার কারণেই প্রতিদিন স্নান করেন না বরং সামাজিক রীতির সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্যই প্রতিদিন স্নান করেন।তাই আপনি যদি প্রতিদিনই শরীরচর্চা না করেন বা না ঘামেন বা এমন কাজ না করেন যাতে আপনার শরীর নোংরা হয় না তাহলে জল থেকে দূরে থাকুন। তবে স্নান করলে শরীর ফ্রেশ লাগে এই ভেবে গরম জলেই স্নান করতেই পছন্দ করেন প্রায় সকলেই। তবে রোজ রোজ গরম জলে স্নান করাটা কতটা ক্ষতিকর তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাননা কেউ।

ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া

শীতকালে এমনিতেই গায়ের চামড়া শুষ্ক হয়ে যায় আর্দ্রতার অভাবে। তার ওপরে গরম জলে স্নান করলে ত্বক আরও আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। আপনি যদি শীতকালে প্রতিদিন সকালেই গরম জল দিয়ে স্নান করেন তাহলে আপনি আপনার দেহের উপকার করার চেয়ে বরং ক্ষতিই করছেন বেশি। এতে আপনার ত্বক আরো বেশি খসখসে এবং শুষ্ক হয়ে উঠবে। যার ফলে ত্বককে আর্দ্র এবং সুরক্ষিত রাখতে এতে যে প্রাকৃতিক তেল নিঃসরিত হয় তা নষ্ট হয়ে যায়। আর যাদের প্রতিদিনই যদি স্নান করা জরুরি হয় তাহলে শুকনো সাবান এবং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা

গরমে লেপ তোষক ব্যবহার করার ফলে একটা গরম থাকেই। এছাড়াও গরম জলে স্নান করলে সেই গরমের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে হজমের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

 মাইগ্রেনের সমস্যা

 শীতে মাইগ্রেনের সমস্যার রোগীদের চোখে ও মাথায় ব্যথা বাড়ে। গরম জলে স্নান করলে এই সমস্যা তীব্রতর হতে থাকে।

গরম জলে স্নান করলে কি হয় ?

বেশি উষ্ণ জল, ত্বকের ফলিকলগুলোকে ড্যামেজ করে। ফলস্বরূপ ত্বক, নিজের নমনীয়তা হারায় অর্থাৎ ট্যন-এর আবির্ভাব ঘটে। স্নানের সময় মাথায় অতিরিক্ত গরম জলের ব্যবহার, চুলকে যেমনি ক্ষতিগ্রস্ত করে তেমনি ব্রেনের ওপরেও চাপ সৃষ্টি করে। সেই কারণে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত, মাথায় ঠান্ডা জল ব্যবহার করা।

প্রতিদিন গরম জল দিয়ে স্নান করলে আপনার নখগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। স্নান করার সময় নখ প্রচুর পরিমাণ জল শুষে নেয়। আর এর ফলেই নখগুলো তাদের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা এবং তেল হারায়। পরিণতিতে নখগুলো শুকিয়ে যায় এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।

যাদের হৃদপিণ্ড জনিত সমস্যা রয়েছে, গরম জলের ব্যবহার, তাদের কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত গরম জল, মুখের ব্রণ সৃষ্টির সহায়ক। মানসিক বিষন্নতা এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এর জুড়ি মেলা ভার। আর এসিডিটির সমস্যা, এটা আমাদের প্রত্যেকেরই জানা।

ঠাণ্ডা জলে স্নান করলে কি হয় ?

আবার অতিরিক্ত ঠান্ডা জলে স্নান, আপনার শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ হ্রাস করবে। যা, দেহের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোর ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নার্ভের সমস্যা দেখা দেবে। বিভিন্ন “বাত” জনিত রোগের-ও শিকার হবেন আপনি। টনসিল, সর্দি, কাশি প্রভৃতি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গের উৎপত্তি ঘটবে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ-এর বৃদ্ধি ঘটবে।

শীতকালে কোন জলে স্নান করা উচিৎ ?

শীতকালে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের পেশির রিল্যাক্সেশনের ক্ষেত্রে, এর থেকে ভালো উপায় আর নেই। এতে শরীরের রক্ত চলাচলের বৃদ্ধি ঘটে, অনিদ্রাজনিত ব্যাধি দূর হয়। সর্দি, কাশি বা টনসিলের উপশম ঘটে। সমগ্র শরীর, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকে। বাতের ব্যথা দূরীকরণে, “টনিক”-এর মতো কাজ করে।

Loading...