করোনা ভাইরাস কতক্ষণ বেঁচে থাকে, করোনা জ্বর হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন

সারা বিশ্বে এখন আতঙ্কের নাম করোনা। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন সারা বিশ্বে। করোনা থেকে বাঁচতে তাই মানুষ এখন সতর্ক। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার চেষ্টা করছেন দেশবাসী। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা, সরকার চিকিৎসকেরা বারবার বলছেন করোনা থেকে বাঁচতে হলে সতর্ক থাকুন। একমাত্র সতর্ক থাকলেই বাঁচতে পারবেন করোনা থেকে।

শুধু স্যানিটাইজার ব্যবহারে কিছু হবে না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে নিজেকে। পরিষ্কার রাখিতে হবে বাড়ি ঘর, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র। প্রয়োজন না হলে যেখানে সেখানে হাত দেওয়া চলবে না। এরপর সারা দেশের সচেতন মানুষজন সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় রেলিং এ হাত দিচ্ছেন না, দরজা খোলার সময় হাত ব্যবহার করছেন না বদলে কনুই ব্যবহার করছেন। অফিসে বাড়িতে টেবিল মেঝে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখছেন। করোনা ভাইরাসের ড্রপলেট থেকে বাঁচতেই এই সতর্কতা।

ড্রপলেট কি?

চিকিৎসকেরা বলছেন কোভিড-১৯ ভাইরাস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি হাঁচলে বা কাশলে তার নাক ও মুখ থেকে এক ধরনের জলীয় কনা বা ড্রপলেট নিঃসৃত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র একবারের হাঁচিতেই এরকম ৩ হাজার ড্রপলেট বেরোতে পারে। এই ড্রপলেটের কনা অন্য ব্যক্তির গায়ে,জামায় ও আশেপাশের যেকোনো বস্তুতে পড়তে পারে। এমনকি বাতাসেও থেকে যেতে পারে ড্রপলেটগুলি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মল-মূত্রের মধ্যে এই ভাইরাসের ড্রপলেটগুলি আরও বেশিদিন বাঁচতে পারে। তাই টয়লেটে গেলে ভালো করে হাত ধোঁয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। যুক্তরাস্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের মতে, এই করোনার ভাইওরাসটি বা ড্রপলেট লেগে রয়েছে এরকম বস্তুতে হাত দিলে সংক্রমন ছড়াতে পারে। তাই বাইরে বেরোলে স্যনিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে তবেই মুখে গায়ে হাত দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

করোনা ভাইরাস কতক্ষন বেঁচে থাকতে পারে?

করোনা ভাইরাস বারবার চরিত্র বদলাচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা সঠিক ভাবে বলতে পারছেন না ভাইওরাসটি কোথায় কতক্ষন বাঁচতে পারে। তবু কিছু গবেষনায় দেখা গেছে করোনার অন্যান্য ভাইরাসগুলি যেমন- সার্স ও মার্স এই ভাইরাসগুলি লোহা, কাঁচ, ও প্লাস্টিকের গায়ে ৯ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এই ভাইরাসগুলি ঠান্ডা জায়গায় ২৮ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

ন্যশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের একজন ভাইরোলজিস্ট নিলৎজে ফান ডোরমালেন গবেষনায় দেখেছেন, হাঁচি বা কাশির ড্রপলেটে এই ভাইরাস তিন ঘন্টা বেঁচে থাকতে পারে। সার্স ভাইরাসটি চুলেও বেঁচে থাকতে পারে কিছুক্ষন।

সাধারণ জ্বর-এর সঙ্গে করোনা জ্বরের মিল এবং অমিল :-

  • সাধারণ জ্বর ও করোনা দুটিই ভাইরাসঘটিত অসুখ হলেও দুই অসুখের ভাইরাস সমগোত্রীয় নয়। সাধারণ ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপে হয় আর কোভিড-১৯ হয় করোনা গ্রুপের ভাইরাসের কারণে।
  • করোনাভাইরাস অনেক দ্রুত গতিতে ছড়ায়। তুলনামূলকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অতি মন্থরগতিতে ছড়ায়।
  • সাধারণ ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে অসুখ দেখা দেয়। করোনা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
  • সাধারণ ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। তবে ওষুধের কাজ শুরু হলে তা নামতেও শুরু করে। করোনার ক্ষেত্রে জ্বর প্রবল হলেও নামতে চায় না সহজে। তখন কোন ওষুধও কাজ করে না।
  • সাধারণ ফ্লু বোঝার জন্য কোনো আলাদা করে পরীক্ষার দরকার পড়ে না। কিন্তু করোনা কিনা তা জানতে পলিমারেস চেন রিঅ্যাকশন বা পিসিআর পরীক্ষা করা হয়।
  • সাধারণ ফ্লুয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাক্সিন রয়েছে। কিন্তু করোনারোধে কোনো প্রতিষেধকের আবিষ্কার এখনো পর্যন্ত হয়নি।

কীভাবে বুঝবেন করোনা জ্বর হয়েছে কি না?

সকালে ঘুম থেকে উঠে খোলা বাতাসে লম্বা শ্বাস নিন। তারপর আপনার শ্বাস কে ১০ সেকেন্ডের বেশী সময় নিজের ভেতরে আটকে রাখুন। এই সম্পূর্ণ সময় যদি আপনার কোনরকম অস্বস্তি না হয় কিংবা কাশি না আসে, কিংবা বুকে ব্যথা অনুভব না করেন তাহলে আপনার শরীরে কোনো জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেনি। এর অর্থ হল আপনার ফুসফুসে কোনো ফাইব্রোসিস তৈরি হয়নি অর্থাত্‍ কোনো ইনফেকশন হয়নি, আপনি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত আছেন।

এছাড়াও জাপানের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে মানুষের পাকস্থলীতে উপস্থিত অ্যাসিড এবং উৎসেচক এই ভাইরাসকে মেরে ফেলতে সক্ষম। সেই কারণেই তাদের উপদেশ যে মুখের ভেতরের অংশ বা গলা যাতে শুকিয়ে না যায় সেইদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ১০-১৫ মিনিট পর পর জল খেতে হবে যাতে সেই ভাইরাস মুখের মাধ্যমে যদি শরীরে প্রবেশ করতে যায় তাহলে সেটি জলের মাধ্যমে পাকস্থলীতে চলে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।