কীভাবে তৃণমূলে ভাঙন ধরালেন মুকুল রায়, দেখুন মুকুল রায়ের মাস্টারপ্ল্যান

Mukul Roy and Mamata Banerjee

সামনেই বাংলার বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2021)। বাংলা জয়ের জন্য একদিকে মরিয়া বিজেপি (BJP)। অন্যদিকে এক চুলও জমি ছেড়ে দিতে নারাজ বর্তমান শাসক দল তৃণমূল (TMC)। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির মূল হাতিয়ার হয়ে দাড়িয়েছে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং ভাঙ্গন। বিগত কয়েক মাসে একের পর এক তৃণমূলের নেতা কর্মী যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। কিন্তু কেন হঠাৎ বেসুরে গাইতে শুরু করলেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা?

বিজেপির বাংলা জয়ের মূল হাতিয়ার হল তৃণমূলে ভাঙন। তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে চাইছে। আর সেই কাজ নীরবে বিগত তিন বছরের বেশি সময় ধরে করে চলেছেন মুকুল রায় (Mukul Roy)। তৃণমূলের এই হেভি ওয়েট নেতা কয়েক বছর আগে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। তিনিই গোপনে তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন যার ফলে উল্টো সুরে গাইছেন তারা।

Mukul Roy and Mamata Banerjee

তৃণমূলে ভাঙনের মাস্টারপ্ল্যান

২০২১-ই প্রথম নয়, ২০১৯ লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেস থেকেই লোক ভাঙিয়ে অনেককে প্রার্থী করেছিল গেরুয়া শিবির। এবারও হতে পারে তেমনই। বিগত কয়েক মাসে অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছেন আবার অনেকে ইতিমধ্যেই উল্টো সুরে গাইছেন। রাজনীতিবিদদের মতে এর পেছনে একসময়ের তৃণমূলের অন্যতম নেতা মুকুল রায়ের পরিকল্পনা আছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় আগেই বেশ কয়েকবার শোনা গেছে, বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেও তৃণমূল নেতৃত্বের অনেকের সাথেই যোগাযোগ আছে মুকুলের। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ,মুকুল রায় মাঝেমধ্যেই দাবি করেন তৃণমূলের অনেক সাংসদ বিধায়কই তাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন।

বিজেপিতে যোগদানের পরই তৃণমূল ভাঙার পরিকল্পনা

২০১৯-এ গেরুয়া শিবিরে গিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখানোর পর থেকেই ঘাস ফুল শিবিরে ভাঙ্গন ধরানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তারপর সেই বছরেই লোকসভা ভোটের আগে আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন অনেকেই এই তালিকায় আছেন সৌমিত্র খান, অর্জুন সিং, অনুপম হাজরা, নিশীথ প্রামাণিক। এখানেই থেমে থাকেনি গুণতি।লোকসভা ভোটে বিজেপি এর সাফল্যের পর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সব্যসাচী দত্ত, শোভন চট্টোপাধ্যায়, শুভ্রাংশু রায়-সহ অনেক চেনা মুখ।রাজনীতিবিদরা মনে করছেন এই দলবদলের হিরিকের নেপথ্য নায়ক মুকুল রায়ই।

শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদান

তৃণমূলের ভাঙ্গন আবার প্রকাশ পেলো বিধানসভা ভোটের আগে। বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ শুভেন্দু অধিকারী। তাকে তুরুপের তাস বানিয়েই বিধানসভায় জয়লাভের মরিয়া চেষ্টা করছে বিজেপি।কিন্তু এখানে মুকুল রায়ের নাম কেন উঠছে? উঠছে কারণ শুভেন্দু অধিকারী গেরুয়া শিবিরে যোগদানের পরে নিজেই তার নাম সর্বসমক্ষে বলেন।বিজেপিতে যোগদানের দিনই শুভেন্দু অধিকারী বলেন “শুভেন্দু সম্মান নেই ওখানে, এখানে সম্মান নিয়ে কাজ করবি চলে আয়।”

How much seats will TMC win on upcomin assembly election 2021

ভোটের আগে থেকেই দলত্যাগের হিড়িক

শুধু শুভেন্দু অধিকারীর নয়, শীলভদ্র দত্ত, সুনীল মণ্ডল সহ অনেকেই মুকুল রায়ের কথাতেই শুভেন্দু অধিকারীর সাথে তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে।তৃণমূল কংগ্রেসে মুকুল রায়ের থাকাকালীন ২০২১-এর আগে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির পিছনে হাত মুকুলের শীলভদ্র দত্তকে মুকুল রায়ের অনুগত বলে জানতেন অনেকেই।তৃণমূল কংগ্রেস অনেকদিন যাবৎ ছাড়তে চাইছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে শুভেন্দু অধিকারীর সাথে জুড়ে মাস্টার স্ট্রোক দিলেন মুকুল রায়। উত্তরবঙ্গের নেতাদের বিজেপিতে নিয়ে আসার নেপথ্যেও আছেন মুকুল রায়।

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে চাইছে পশ্চিমবঙ্গবাসী, দেখে নিন সমীক্ষার ফলাফল

বাংলা বিজেপির চাণক্য মুকুল রায়

মুকুল রায় “এভরিথিং ইস ফেরায় ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার” এর তথ্যে বিশ্বাসী। আর রাজনীতি তো মহাযুদ্ধ।কাজেই দল ভাঙ্গানো রাজনীতির অংশ বলেই মত তার। সেই কারণেই তৃণমূল নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি কোনোদিন গোপন করেননি তিনি বরং জনসমক্ষে স্বীকার করেছেন।তিনি শতাব্দী রায়কে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিজেপিতে যুক্ত করানোর উদ্দেশ্যে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সামনেই ফোন করেছিলেন শতাব্দী রায়কে।

আরও পড়ুন : মমতার এই ২ পদক্ষেপে চরম চাপে বিজেপি, বদলে যেতে পারে ভোটের ছবি

মুকুলকে আটকাতে ব্যর্থ তৃণমূল

নিজের গড়ে ভাঙ্গন রুখতে এই মুহূর্তে মুকুল রায়কে থামানো প্রথম করণীয় কাজ হওয়া উচিত তৃণমূলের। কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব? পুরোনো সম্পর্ক জিইয়ে রেখে তৃণমূলের নেতা নেত্রীদের সাথে ভালো সম্পর্কই বজায় রেখেছেন তিনি। সবার মন বুঝে তাকে সেভাবে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। কোথাও কোনও ফাঁক থাকলেই তাকে খাদ বানিয়ে ভেঙে দিচ্ছেন দল।২০২১ এর ভোটের আগে হাত পা বাঁধা পরিস্থিতিতে তৃণমূল কারণ ব্যাক্তিগত সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই পার্টির। অন্যদিকে বেড়েই চলছে গড়ে ভাঙ্গন।