নকল মিষ্টিতে ভরে যাচ্ছে বাজার, আসল-নকল কীভাবে চিনবেন, জানুন উপায়

নকল মিষ্টিতে বাজার ছয়লাপ, পেটে গেলেই মারাত্মক বিপদ, রইল আসল-নকল মিষ্টি চেনার উপায়

মিষ্টি (Sweet) ছাড়া বাঙালির কোনও অনুষ্ঠানই জমে না। পুজো-পার্বণ হোক বা বিয়ে-পৈতে, বাঙালির মিষ্টি চাইই চাই। এই যুগে মিষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য একমাত্র মিষ্টির দোকানগুলোই ভরসা। তবে এই দোকানগুলোও বেশি লাভের আশায় লোভে পড়ে মিষ্টির মধ্যেও ভেজাল সামগ্রী ব্যবহার করে। কখনো কখন দুধ, ছানা, মাওয়া বা খোয়ার মধ্যে থাকে ভেজাল (Fake Sweet), আবার কখনও রংচঙে মিষ্টির রংয়ের মধ্যে থাকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল।

কিছু না জেনে বুঝে এমন মিষ্টি খাওয়া মানে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা। অথচ মিষ্টি আসল নাকি নকল তা দেখে বোঝার উপায় থাকে না। খারাপ মিষ্টি গন্ধ বা স্বাদে বোঝা যায়, কিন্তু ভেজাল হলে তা চিনবেন কীভাবে? আজ এই প্রতিবেদনে রইল ভেজাল মিষ্টি সহজে চিনতে পারার কিছু কৌশল যেগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই ভেজাল মিষ্টি চিনতে পারবেন।

ভেজাল কাজু বরফি চিনবেন যেভাবে : বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে কাজু-বরফির বেশ চাহিদা রয়েছে। সাধারণত এই মিষ্টি বানানোর জন্য খোয়া এবং ছানা ব্যবহার করা হয়। তবে ক্ষেত্র বিশেষে মাড়, ময়দা, পরিশোধিত তেল, স্কিমড মিল্ক পাউডারও ব্যবহার করা হয় এই মিষ্টি বানাতে। কাজু বরফির বিশেষত্ব হল এর উপরে রুপোর তবক থাকে। তবে মিষ্টির উপর ব্যবহৃত এই তবক আদেও আসল কিনা সেই নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।

কাজুবরফি আসল কি নকল জানতে হলে মিষ্টির একটা ছোট্ট টুকরো ভেঙে নিয়ে আঙ্গুল এবং বুড়ো আঙ্গুলের মধ্যে রেখে ম্যাশ করে নিন। যদি এর থেকে সতেজ গন্ধ বের হয় তাহলে বুঝবেন মিষ্টি আসল। আর রুপোর তবক আসল কিনা জানার জন্য সেটির অল্প একটু অংশ চামচের উপর তুলে আগুনের উপর ধরুন। রুপো হলে জ্বলে গিয়ে এটি চকচকে পদার্থ রেখে যাবে আর যদি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল হয় তাহলে তা পুড়ে যাবে।

ভেজাল পান্তুয়া বা গোলাপ জামুন যেভাবে চিনবেন : গোলাপ জামুন বা পান্তুয়া সাধারণত খোয়া ক্ষীর থেকেই তৈরি হয়। তবে অনেক সময় গোলাপ জামুনের মধ্যে খোয়া ক্ষীরের পরিবর্তে সয়াবিনের আটা এবং তার সঙ্গে ভাতের মাড় মেশানো হয়। এখন গোলাপ জামুন আসলে নাকি নকল জানার জন্য একটি প্যানের মধ্যে গোলাপ জামুন রেখে চিনি দিয়ে জ্বাল হতে দিন। অল্প আঁচে গরম করার সময় কড়াইতে যদি জল থেকে যায় তাহলে বুঝতে হবে মিষ্টিটা ভেজাল।

ভেজাল বেসন ও মতিচুরের লাড্ডু চেনার উপায় : বেসনের লাড্ডু বা মতিচুরের লাড্ডুও মিষ্টিপ্রেমীদের খুবই প্রিয় একটি খাবার। প্রধানত ঠাকুরের ভোগে এমন মিষ্টি দেওয়া হয়ে থাকে। এই মিষ্টিগুলোকে তাজা দেখাতে খুব বেশি রঙ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয় লাড্ডু। আবার ঘি এবং তেলের মধ্যেও ভেজাল মেশানো থাকে। তাই খাওয়ার আগে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখুন। লাড্ডু থেকে ঘিয়ের গন্ধ পাচ্ছেন কিনা দেখুন। এছাড়া হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মধ্যে এক চামচ চিনি দিয়ে তার মধ্যে লাড্ডু ডুবিয়ে যদি দেখা যায় মিশ্রণটি লাল হতে শুরু করেছে তাহলে বুঝতে হবে এর মধ্যে নির্ঘাত ভেজাল আছে।