সেদিনের স্টেশনের লেবু বিক্রেতা আজ কোটিপতি, দান করলেন ৮৫ লাখ টাকার অক্সিজেন

282

একসময় স্টেশন চত্বরে ভাই বোনদের সঙ্গে বসে কমলা লেবু বিক্রি করতেন তিনি। চার ভাইবোনের উপার্জন, মায়ের উদয়াস্ত খাটুনিতে কোনও রকমে “দিন আনি দিন খাই” উপায়ে দিন কাটতো এই পরিবারের। পড়াশোনা সেভাবে করতে পারেননি কখনো। তবে বিষয়বুদ্ধি কোনও অংশে কিছু কম ছিল না। তাই তো কমলালেবু বিক্রেতা সেদিনের সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ সমগ্র ভারতবর্ষের একজন অন্যতম সেরা ব্যবসায়ী হয়ে উঠতে পেরেছেন।

তবে সমগ্র দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা ব্যবসায়ী এবং কোটিপতি হয়েও কিন্তু মাটির সঙ্গে তার টান ছিন্ন হয়নি। করোনার দরুণ দেশে অক্সিজেনের অভাবে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্যায়ারে খান। নাগপুর শহরের ভেতরে এবং বাইরের হাসপাতালগুলিকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন তরল অক্সিজেন সরবরাহ করেছেন এই ব্যক্তি!

অসমি রোড ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মালিক প্যায়ারে খান দেশের এই দুর্দশায় কিন্তু মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেন নি। কোটিপতি ব্যবসায়ী হয়েও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর মনস্থ করেন তিনি। যেই ভাবা, সেই কাজ!

ইতিমধ্যেই দেশের অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে নিজের ব্যাঙ্ক-ব্যালান্স থেকে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন প্যায়ারে। এছাড়াও করোনা রোগীদের জন্য বিনামূল্যে গাড়ির বন্দোবস্তও করেছেন তিনি।

নাগপুরের তাজবাগের বাসিন্দা প্যায়ারে খানের জন্ম হয়েছিল তাজবাগেরই একটি বস্তিতে। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে নাগপুর রেল স্টেশনের বাইরে কমলালেবু বিক্রি করতেন তিনি এবং তার ভাই-বোন। স্টেশন যাত্রীরা যাতায়াতের সময় তাদের থেকে কমলালেবু কিনতেন। কমলালেবু বিক্রির টাকায় কোনরকমে দিন চলত তাদের।

১৮ বছর বয়স হলে গাড়ি চালানো শিখে নিয়ে একটি কুরিয়ার সংস্থায় গাড়ি চালানোর কাজ শুরু করেন তিনি। তবে উড়িষ্যাতে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে কুরিয়ার সংস্থার চাকরিটি খুইয়ে বসেন প্যায়ারে। এরপর নাগপুরের রাস্তায় অটোচালক হয়ে বসেন। সংগীতের প্রতি বরাবরই ঝোঁক ছিল তার। নাগপুর মেলোডি মেকারস নামক একটি গানের ব্যান্ডের সঙ্গে বেশকিছুদিন জড়িত ছিলেন তিনি।

এরপর নিজের জমা পুঁজি দিয়ে এবং টাকা ধার করে একটি ছোট বাস কিনে ফেলেন প্যায়ারে। তবে সেই ব্যবসা ঠিক জমলো না। ২০০৪ সালে তিনি একটি ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি ট্রাক কিনে ফেলেন। এরপর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি তাকে। একটার পর একে একে ট্রাক কিনতে কিনতে একসময় ১২৫টি ট্রাকের মালিক হয়ে বসেন প্যায়ারে। কাল ক্রমে তিনিই অসমি রোড ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামক একটি কোম্পানি খুলে বসেন। বর্তমানে যে সংস্থার বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা!

বর্তমানে তার কাছে ১২৫টি নিজস্ব ট্রাক রয়েছে। এছাড়াও ৩ হাজার ট্রাক ভাড়া নিয়ে চালান তিনি। দেশের অন্ততপক্ষে দশটি জায়গায় তার নিজস্ব অফিস রয়েছে। তার সংস্থায় কাজ করছেন অন্তত ৫০০ জন মানুষ। দেশের গন্ডির ভেতরেই শুধু নয়, বিদেশেও তার ট্রাকের আনাগোনা রয়েছে।